প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বিশ্লেষণ প্রতিবেদন | প্রকাশকাল: ২৭ জুলাই ২০২৫ | সূত্র: মেহের নিউজ, রয়টার্স
যুক্তরাষ্ট্রের একটি নতুন প্রস্তাবে সিউনিক প্রদেশ দিয়ে আজারবাইজানের জন্য ১০০ বছরের স্থল করিডোর লিজ দেওয়ার উদ্যোগকে দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে আর্মেনিয়া।
সরকার বলছে, এটি কেবল একটি তথাকথিত ‘শান্তি পরিকল্পনা’ নয়, বরং আর্মেনিয়ার সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে সরাসরি আঘাত।
শনিবার (২৬ জুলাই) মেহের নিউজে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়,
যুক্তরাষ্ট্রের তুরস্কে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত থমাস ব্যারাক সম্প্রতি এক চমকপ্রদ প্রস্তাব দেন—
সিউনিক প্রদেশ দিয়ে একটি করিডোর দেওয়া হোক আজারবাইজানকে, ১০০ বছরের জন্য
করিডোরটি পরিচালনা করবে একটি মার্কিন কোম্পানি
এর মাধ্যমে আজারবাইজান নাখিজেভান ও মূল ভূখণ্ডের মধ্যে সরাসরি স্থল সংযোগ পাবে
প্রস্তাবটি প্রকাশের পরপরই প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ানের প্রেসসচিব নাজেলি বাগদাসারিয়ান জানিয়ে দেন—
“আমাদের আইন অনুসারে, অবকাঠামো নির্মাণের জন্য কোনো বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে জমি লিজ দেওয়া সম্ভব নয়। কেবল কৃষিকাজ ও পশুপালনের জন্যই এটি অনুমোদিত।”
পার্লামেন্ট সদস্য আরমান ইয়েগোয়ান আরও একধাপ এগিয়ে বলেন—
“আমরা এখানে আমাদের সার্বভৌমত্ব খর্ব হওয়ার আশঙ্কা দেখছি।”
১৬ জুলাই এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী পাশিনিয়ান বলেন,
“এটি নির্মাণ অনুমতিপত্রের আওতায় আনা যেতে পারে এবং মেয়াদ শেষে অবকাঠামো আর্মেনিয়ার মালিকানায় ফিরবে।”
এই মন্তব্যে দেশজুড়ে বিতর্ক শুরু হয়।
বিরোধীদের অভিযোগ—সরকার কি তাহলে গোপনে আপসের পথে হাঁটছে?
আর্মেনিয়ার বিরোধীদলগুলো এই প্রস্তাবকে শান্তির ছায়ায় আর্মেনিয়াকে বিচ্ছিন্ন করার ষড়যন্ত্র বলে মনে করছে।
তাদের ভাষ্য:
আজারবাইজান ও তুরস্ক বহু আগেই এই করিডোর পরিকল্পনা তৈরি করে রেখেছে
একে বাস্তবায়নে যুক্তরাষ্ট্রের মাধ্যমে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে:
ইরানের সঙ্গে আর্মেনিয়ার একমাত্র স্থল সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে
প্রস্তাব অনুযায়ী আর্মেনিয়ার কাস্টমস বা নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ থাকবে না
ফলে এটি আর্মেনিয়ার ভূখণ্ডে কার্যত বিদেশি কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার সমতুল্য
২০২০ সালের নাগোর্নো-কারাবাখ (আর্তসাখ) যুদ্ধ এবং ২০২৩ সালের জাতিগত নিধনের ঘটনায় আর্মেনিয়ার নিরাপত্তা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘জাঙ্গেজুর করিডোর’ প্রকল্প আসলে আজারবাইজানের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের অংশ—যার লক্ষ্য আর্মেনিয়াকে ধীরে ধীরে চারপাশ থেকে কোণঠাসা করে ফেলা।
আর্মেনিয়ার দক্ষিণাঞ্চল সিউনিকসহ দেশজুড়ে সাধারণ মানুষ এই প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করছেন।
তাদের ভাষায়—
“এই প্রস্তাব একতরফা চাপ। আমাদেরকে ছাড় দিতে বলা হচ্ছে, অথচ আজারবাইজান আগ্রাসন বন্ধ করছে না।”
এই মুহূর্তে সিউনিক অঞ্চল যেন আর্মেনিয়ার শেষ আত্মরক্ষার প্রাচীর।
রাজনৈতিক ও জনমানসের ভাষ্য অনুযায়ী, সেখানে যদি ফাটল ধরে, তাহলে পুরো দেশের ভৌগোলিক অখণ্ডতা হুমকির মুখে পড়বে।
আর্মেনিয়ার রাজনৈতিক ইতিহাসে এমন মুহূর্ত বিরল নয়—কিন্তু এইবার প্রশ্ন শুধু ভূখণ্ড নয়, বরং রাষ্ট্রীয় অস্তিত্বের সীমানা নিয়েই।
প্রতিবেদক: BDS Bulbul Ahmed
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |