প্রেমাদাসা স্টেডিয়াম, কলম্বো | ৫ জুলাই ২০২৫
বাংলাদেশ ১৬ রানে জয়ী — টস ভাগ্য সহায় হলে ব্যাট করো বুঝেশুনে, আর বল ফেলো উইকেট বরাবর। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে বাংলাদেশ সেই পরীক্ষিত রসায়নেই জয় ছিনিয়ে আনলো। আর এই জয়ের নায়ক – বাঁহাতি স্পিনার তানভির ইসলাম, যিনি ওয়ানডে ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো নিলেন ৫ উইকেট।
বাংলাদেশের জয়যাত্রায় বড় অবদান ২০২০ যুব বিশ্বকাপজয়ী সেই দলের একঝাঁক তরুণদের। পারফরম্যান্স দিয়ে সবাই জানান দিচ্ছেন, এখন তারাই জাতীয় দলের নিউক্লিয়াস।
একদিকে তানজিম সাকিব শেষদিকে ২১ বলে অপরাজিত ৩৩ রানে ইনিংস গড়েছেন, অন্যদিকে বল হাতে তুলে নিয়েছেন ২ গুরুত্বপূর্ণ উইকেট।
অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ বলেছেন,
“তানজিমের ইনিংস আমাদের জন্য টার্নিং পয়েন্ট। সে শুধু রানই করেনি, বল হাতে ম্যাচও শেষ করেছে। এই জয় বহু দিক থেকে বিশেষ।”
প্রেমাদাসার উইকেটে বল সরাসরি স্টাম্প বরাবর ফেললে স্পিনাররা সাফল্য পান—এটি মাথায় রেখেই বোলিং করেন তানভির। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন:
“আমি উইকেট লক্ষ্য করে বল ফেলেছি। ঘূর্ণি আনতে চেয়েছি ঠিক জায়গায়।”
এই ম্যাচে শ্রীলঙ্কার ব্যাটিং স্তম্ভ কুশল মেন্ডিস দ্বিতীয়বারের মতো তানভিরের টার্নে পরাস্ত হন।
রিশাদ হোসেন সুস্থ থাকলেও একাদশে ছিলেন না। বিস্ময় জাগালেও তানভিরের পারফরম্যান্স প্রমাণ করে দেয় নির্বাচকদের সিদ্ধান্ত ভুল ছিল না।
শামীম হোসেন ছিলেন দলের সাইলেন্ট হিরো। ব্যাট হাতে ৪০+ রান ও বল হাতে ৯ ওভার, ১ উইকেট, মাত্র ২২ রান দিয়ে প্রতিপক্ষের প্রেসার ভাঙেন।
মিরাজ বলেন,
“আসালঙ্কার উইকেটটা গেম-চেঞ্জার ছিল। শামীম সেটি এনেছে, আর ৯ ওভার বোলিং করে বড় একটা দায়িত্ব কাঁধে নিয়েছে।”
৪৮তম ওভারে মনে হচ্ছিল ম্যাচ বুঝি লিয়ানাগে-এর দিকে গড়াচ্ছে। ২৫ ম্যাচে ৪ সেঞ্চুরির এই ব্যাটার ছিলেন আত্মবিশ্বাসে টইটম্বুর। কিন্তু মুস্তাফিজের কাটারে তাঁর স্টাম্প উপড়ে গেলে স্বস্তি ফিরে আসে টাইগার শিবিরে।
শেষ কাজটি সারেন তানজিম হাসান সাকিব—উড়িয়ে দেন চামিরাকে।
পারভেজ হোসেনের আগ্রাসী শুরু থাকলেও বাংলাদেশ থামে ২৪৮ রানে। ব্যাটিং ইউনিটের এই ইনসিস্টেন্ট ইনসাঙ্ঘাতিক ব্যর্থতা ভবিষ্যতে ভাবনার বিষয় বটে।
এটা অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ-এর জন্য বিশেষ একটি জয়। তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশ টানা সাত ম্যাচের পর জয় পেল। আবার এই ম্যাচেই ৫ ম্যাচ বিরতির পর উইকেটও পান তিনি।
এই জয় কেবল একটি ম্যাচ রক্ষা নয়, এটি মানসিকতার জয়। ৫ রানে ৭ উইকেট হারানো প্রথম ম্যাচের ধাক্কা সামলে বাংলাদেশ যেভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে, তা সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচের জন্য দলকে বাড়তি আত্মবিশ্বাস দেবে।
ফাইনাল ম্যাচ পাল্লেকেলেতে। এখন দেখার পালা, এই ঘুরে দাঁড়ানো কি সিরিজ জয়েও রূপ নেয়?
প্রতিবেদক: BDS Bulbul Ahmed
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |