জাতীয় ডেস্ক |
ঢাকা, ২০ জুলাই ২০২৫
২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যারা রাস্তায় নেমে এসেছিলেন—মাদ্রাসা ছাত্র, প্রাইভেট ও সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শ্রমজীবী মানুষ, নারী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষরা—তারা এখন আর নেতৃত্বের কাতারে নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্ট নাগরিকরা।
তারা বলছেন, নতুন বাংলাদেশ গড়তে হলে জুলাই যোদ্ধাদের একত্রিত হওয়া এখন সময়ের দাবি।
জাতীয় প্রেস ক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে অনুষ্ঠিত এক গ্রাফিতি প্রদর্শনী ও আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
আয়োজনের শিরোনাম ছিল:
“জেন-জির প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি : গ্রাফিতির আল্পনায় ৩৬ জুলাই”
আয়োজক: নীতি গবেষণা কেন্দ্র (এনজিকে)
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মানজুর আল মতিন বলেন,
“২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে আমরা সবাই ছিলাম। রাস্তার মানুষের প্রতিটি কণ্ঠে ছিল শেখ হাসিনার পতনের আহ্বান। কেউ হাত তুলে মোনাজাত করেছেন, কেউ প্রতিবাদ করেছেন। তবে সেই আন্দোলনের পরবর্তী দিকটি নিয়ে আমরা অনেকেই ভাবিনি—আমরা আসলে কেমন বাংলাদেশ চাই?”
তিনি আরও বলেন,
“শুধু হাসিনা পতনই যথেষ্ট নয়, আমাদের দরকার একটি পরিকল্পিত, মানবিক, বৈষম্যহীন ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গঠন। পরিবর্তন বারবার রক্তস্নাত পথে আসা উচিত নয়। তাই আমাদের নিজেদের মধ্যকার বিভাজন দূর করে, পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে এগোতে হবে।”
শান্ত মারিয়াম ইউনিভার্সিটির শিক্ষক ও গবেষণা ফেলো ড. খান শরীফুজ্জামান উদ্বোধনী বক্তব্যে বলেন,
“প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, মাদ্রাসার ছাত্র, নারী, শ্রমিক, আদিবাসী—জুলাই আন্দোলনের প্রাণ ছিল এরা। কিন্তু আজ তাদের বেশিরভাগকে নেতৃত্বের সারিতে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।”
তিনি বলেন,
“এটি দুর্ভাগ্যজনক। গণঅভ্যুত্থানে যারা জীবন ঝুঁকি নিয়ে রাজপথে নেমেছিল, তাদের কথা, তাদের আশা-আকাঙ্ক্ষা সামনে না আনলে নতুন বাংলাদেশের ধারণা অসম্পূর্ণ থাকবে।”
সাংবাদিক ও গবেষক মোহাম্মদ মাহমুদুজ্জামান গ্রাফিতি প্রেজেন্টেশনে জানান,
“জুলাই আন্দোলনের সময় রাস্তার দেয়ালগুলো ছিল প্রতিবাদের ক্যানভাস। সেই সময়ের তরুণ প্রজন্ম যেভাবে রং-তুলি দিয়ে প্রতিরোধ আর স্বাধীনতার স্বপ্ন একসাথে এঁকেছিল, তা ইতিহাসে বিরল।”
এ সময় গ্রাফিতিতে তুলে ধরা হয়
শেখ হাসিনার পতনের দিনগুলোর ভিজ্যুয়াল স্মৃতি
মানববন্ধনের দৃশ্য
মাদ্রাসা ও আদিবাসী শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ অংশগ্রহণ
নারীদের শান্তিপূর্ণ মিছিলের চিত্র
আলোচনায় শিক্ষার্থীরা বলেন,
“এক বছর কেটে গেছে, কিন্তু আমাদের চাওয়া-পাওয়ার মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য। এখনো পর্যন্ত রাজনৈতিক নেতৃত্বে একই ধরনের মুখ, একই ধরনের সিদ্ধান্ত, আর্থসামাজিক বৈষম্যও আগের মতোই রয়ে গেছে।”
তারা বলেন,
“তরুণ প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষা ছিল এক নতুন সমাজ ব্যবস্থা, যেখানে নারী, সংখ্যালঘু, গরিব মানুষ, মাদ্রাসা শিক্ষার্থী—সবাই থাকবে ন্যায়বিচার ও সমান অধিকার নিয়ে। সেটার জন্য আবারও আমাদের সংগঠিত হতে হবে।”
এমন মন্তব্য উঠে আসে মূল আলোচনায়।
ড. শরীফুজ্জামান বলেন,
“যারা পুরোনো ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার সুবিধাভোগী, তারা কখনো চায় না নতুন নেতৃত্ব আসুক, নতুন রাষ্ট্রচিন্তা প্রতিষ্ঠা পাক। এ কারণে জুলাই যোদ্ধাদের আবার সংগঠিত হয়ে বিকল্প নেতৃত্ব তৈরি করতে হবে।”
বক্তারা সতর্ক করে বলেন,
“ভুল সিদ্ধান্ত, বিভ্রান্তি বা দমনপীড়নের মাধ্যমে যদি আবারও পুরোনো কায়দায় ফ্যাসিবাদ মাথা তোলে, তাহলে জনগণের বিজয় আবার হারিয়ে যাবে।”
তাই তারা আহ্বান জানান—
“আলোচনার মাধ্যমে ঐক্য তৈরি করে, সঠিক রূপরেখা দিয়ে আগামী দিনের বাংলাদেশকে গড়তে হবে।”
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |