| বঙ্গাব্দ

পুরান ঢাকায় সোহাগ হত্যা: মহিনের নেতৃত্বে পরিকল্পিত হামলায় আদালতে স্বীকারোক্তি

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 18-07-2025 ইং
  • 4566501 বার পঠিত
পুরান ঢাকায় সোহাগ হত্যা: মহিনের নেতৃত্বে পরিকল্পিত হামলায় আদালতে স্বীকারোক্তি
ছবির ক্যাপশন: পুরান ঢাকায় সোহাগ হত্যা

 পুরান ঢাকায় ভাঙারি ব্যবসায়ী সোহাগ হত্যাকাণ্ডে নৃশংসতার চিত্র ফুটে উঠল আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে

ঢাকা, ১৮ জুলাই ২০২৫
রাজধানীর পুরান ঢাকায় আলোচিত ভাঙারি ব্যবসায়ী লাল চাঁদ ওরফে মো. সোহাগ হত্যা মামলায় মাহমুদুল হাসান মহিনের নেতৃত্বে পরিকল্পিতভাবে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন গ্রেফতার তিন আসামি—লম্বা মনির, টিটন গাজী ও মো. আলমগীর।

তাদের জবানবন্দিতে উঠে এসেছে, লাভের অংশ না পাওয়ার ক্ষোভ থেকে মহিনই মূলত হত্যার পরিকল্পনা করেন এবং বাকিদের ডেকে এনে নৃশংস হামলা চালান। আদালতের জবানবন্দিতে উঠে এসেছে, “মিটফোর্ড হাসপাতালের ভেতরে সোহাগকে পাথর ও লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয় এবং মৃত্যু নিশ্চিত করে রাস্তায় ফেলে যায়।”

আদালতে স্বীকারোক্তি: পূর্ব ক্ষোভ ও পরিকল্পনার বিবরণ

তিন আসামি দাবি করেন, তারা সরাসরি হত্যার পরিকল্পনায় ছিলেন না। কিন্তু ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব ও পূর্বের আক্রোশ থেকেই ঘটনার অংশ হয়ে ওঠেন

  • লম্বা মনির বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর সোহাগ তাকে মারধর করেছিল, সেই রাগ থেকেই তিনি ইট দিয়ে মাথায় আঘাত করেন।

  • টিটন গাজী ও আলমগীরও স্বীকার করেন, মহিনের ডাকে সাড়া দিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে সোহাগের ওপর হামলা চালান।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সোহাগকে দোকান থেকে টেনে-হিঁচড়ে হাসপাতালে এনে পাথর, ইট ও লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারা হয়। মৃত্যুর পর ‘চাঁদাবাজের ঠাঁই নাই’ স্লোগান দিয়ে আনন্দ প্রকাশ করেন হামলাকারীরা।

 রিমান্ডে একের পর এক স্বীকারোক্তি

বৃহস্পতিবার ঢাকার তিন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জবানবন্দি রেকর্ড করেন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মনিরুল ইসলাম, মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম ও আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জোনাইদ। জবানবন্দি শেষে আদালত তিন আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এখন পর্যন্ত গ্রেফতার ১০ জন, রিমান্ডে ৮

সোহাগ হত্যা মামলায় এখন পর্যন্ত ১০ জন আসামি গ্রেফতার হয়েছেন। তাদের মধ্যে:

  • মাহমুদুল হাসান মহিনকে দুই দফায় ১০ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে

  • টিটন গাজী, আলমগীর, মনির ওরফে লম্বা মনির, সজীব, রাজিব, নান্নু কাজী, রিজওয়ান উদ্দীন ওরফে অভিজিৎ বসু, তারেক রহমান রবিনসহ মোট ৮ জনকে রিমান্ডে নেওয়া হয়

আদালত প্রত্যেককে ৪ থেকে ৭ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

হত্যা ঘিরে কী উঠে এলো:

  • হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী: মাহমুদুল হাসান মহিন

  • হামলার পেছনে কারণ: ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব, লাভের অংশ না দেওয়া ও ব্যক্তিগত শত্রুতা

  • হত্যার ধরণ: প্রকাশ্যে হাসপাতালে টেনে নিয়ে নৃশংসভাবে পাথর ও লাঠি দিয়ে হত্যা

  • স্লোগান: হত্যার পর ‘চাঁদাবাজের ঠাঁই নাই’ স্লোগান দিয়ে উল্লাস


দৃশ্যপট: মিটফোর্ড হাসপাতাল হয়ে সড়কজুড়ে আতঙ্ক

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ঘটনার দিন মিটফোর্ড এলাকার সিসিটিভি ফুটেজে হামলার দৃশ্য ধরা পড়ে। এতে দেখা যায়, একদল ব্যক্তি সোহাগকে মারধর করে রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় ফেলে রেখে যায়। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পথচারীদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency