আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ১৮ জুলাই ২০২৫
গাজায় মানবতাবিরোধী অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি)-এর জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বহাল থাকছে। আদালতের বিচারকরা বুধবার ইসরায়েলের করা পরোয়ানা প্রত্যাহারের আবেদন খারিজ করে দেন।
হেগ-ভিত্তিক এই আন্তর্জাতিক আদালতের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে কথিত মানবতাবিরোধী অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধের বিষয়ে চলমান তদন্ত স্থগিতের ইসরায়েলি আবেদনও গ্রহণযোগ্য নয়।”
২০২৩ সালের ২১ নভেম্বর আইসিসি নেতানিয়াহু, গ্যালান্ট এবং হামাস নেতা মোহাম্মদ দেইফ (ইব্রাহিম আল-মাসরি)-এর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।
তবে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে দেইফের মৃত্যুর বিশ্বাসযোগ্য প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তার পরোয়ানা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।
ইসরায়েল বরাবরই আইসিসির বিচারিক এখতিয়ার অস্বীকার করে আসছে। তাদের দাবি—“গাজায় অভিযান কেবলমাত্র হামাস নির্মূলের জন্য এবং তা আন্তর্জাতিক আইন মেনেই চালানো হচ্ছে।”
তবে আদালত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয়, “যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের তদন্ত চালিয়ে নেওয়া হবে।”
বিশ্লেষকদের মতে, নেতানিয়াহু ও গ্যালান্টের বিরুদ্ধে আইসিসির পরোয়ানা বহাল থাকায় তাদের বিদেশ সফরে কূটনৈতিক ঝুঁকি বাড়বে। ১২৩টি সদস্যরাষ্ট্রের যে কোনো একটি দেশ চাইলে এখন গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করতে পারে।
আইসিসি প্রধান কিরিম খান আগেই বলেছিলেন,
“যারা যুদ্ধাপরাধের জন্য দায়ী, তারা যত শক্তিশালীই হোক—দায়মুক্তি পাবেন না।”
এদিকে, মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ও অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। তারা বলছে,
“গাজার নিরীহ মানুষের ওপর চালানো বোমাবর্ষণ ও অবরোধ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন লঙ্ঘন করেছে—তার বিচার হওয়া প্রয়োজন।”
ইসরায়েল সরকার এই রায়ের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে,
“আইসিসি পক্ষপাতদুষ্ট, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং ইসরায়েলবিরোধী শক্তিদের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।”
তারা এটাও জানিয়েছে যে, এই গ্রেপ্তারি পরোয়ানার বিরুদ্ধে তারা সর্বোচ্চ আইনি লড়াই চালিয়ে যাবে।
তবে আদালতের ভাষ্য অনুযায়ী, এই সিদ্ধান্তই প্রমাণ করে, আইনের চোখে সবাই সমান।
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |