বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার ধানমন্ডি ৩২ নম্বর শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক বাড়িতে ধ্বংসযজ্ঞ চলছে। বুধবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে এই স্মৃতিবিজড়িত বাড়িটি ভাঙার কাজ শুরু হয় এবং বৃহস্পতিবার সকালেও তা অব্যাহত রয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে নিম্নবিত্ত ব্যক্তিরা লোহা, কাঠ ও ইট সংগ্রহ করছে, যা বিক্রি করে অর্থ উপার্জনের আশায় তারা নিয়ে যাচ্ছে।
বুধবার রাতে শেখ হাসিনার পূর্বঘোষিত ভাষণের প্রতিবাদে ‘মার্চ টু ধানমন্ডি ৩২’ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। কয়েকশ’ মানুষ ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের সামনে এসে জড়ো হয় এবং বাড়ির সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে।
প্রথম আলো জানিয়েছে, যারা বই ও অন্যান্য সামগ্রী নিয়ে যাচ্ছে, তাদের অধিকাংশই নিম্নবিত্ত মানুষ। মূলত, লোহার রড, কাঠ ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী বিক্রি করাই তাদের উদ্দেশ্য।
বিক্ষোভকারীরা ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের ছয়তলা ভবনে অবস্থিত বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরে ঢুকে পড়ে।
এটি শুধু একটি ভবন ধ্বংসের ঘটনা নয়, এটি ঐতিহাসিক দলিল ও মূল্যবান স্মৃতি মুছে ফেলার চেষ্টা বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বিক্ষোভকারীরা শুধু ভাঙচুরেই থামেনি, বাড়ির একাংশে আগুনও লাগিয়ে দেওয়া হয়।
নিরাপত্তা বাহিনী প্রথমদিকে তেমন প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেনি, তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে।
এই ধ্বংসযজ্ঞের পেছনে রাজনৈতিক উসকানি ছিল কি না, তা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষোভ পুঞ্জীভূত ছিল, যা এই ঘটনার মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে।
একজন রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলেন:
"এটি শুধুমাত্র একটি বিক্ষোভ নয়, বরং এটি বাংলাদেশে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতার বহিঃপ্রকাশ। বঙ্গবন্ধুর বাড়ি ধ্বংস করা মানে তার আদর্শকে চ্যালেঞ্জ করা।"
সরকার এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং দোষীদের চিহ্নিত করার জন্য তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) জানিয়েছে,
"এই ধ্বংসযজ্ঞের পেছনে যারা রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
বিভিন্ন মহল থেকে এই ধ্বংসযজ্ঞের নিন্দা জানানো হয়েছে।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন,
"আমরা কখনো ভাবিনি, ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের মতো ঐতিহাসিক স্থাপনা এমন ধ্বংস হতে দেখবো।"
ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের এই ধ্বংসযজ্ঞ বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতার ওপর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে।
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |