| বঙ্গাব্দ

৫ আগস্ট চানখাঁরপুল হত্যাকাণ্ড: পুলিশের নির্দয় গুলি ও শৃঙ্খলা বাহিনীর দায়

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 04-07-2025 ইং
  • 3654052 বার পঠিত
৫ আগস্ট চানখাঁরপুল হত্যাকাণ্ড: পুলিশের নির্দয় গুলি ও শৃঙ্খলা বাহিনীর দায়
ছবির ক্যাপশন: ৫ আগস্ট চানখাঁরপুল হত্যাকাণ্ড

শাহীন শাহবাগের চানখাঁরপুল হত্যাকাণ্ড: ৫ আগস্টের ভয়াবহতা

৫ আগস্ট, ২০২৫ - এই দিনটি বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি অন্ধকার দিন হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। রাজধানী ঢাকার চানখাঁরপুল এলাকায় পুলিশ গুলি চালিয়ে হত্যা করে ছয়জন নিরীহ ছাত্র-জনতাকে। ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচির শান্তিপূর্ণ মিছিলে পুলিশ হস্তক্ষেপ করে এবং এডিসির নির্দেশে আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালানো হয়।

মৃত্যুর শিকার যারা

৫ আগস্টের এই নির্মম হত্যাকাণ্ডে শহীদ হন শাহরিয়ার খান আনাস, শেখ মাহদি হাসান জুনায়েদ, মো. ইয়াকুব, মো. রাকিব হাওলাদার, মো. ইসমামুল হকমানিক মিয়া। এসব ছাত্র আন্দোলনকারী ছিলেন সম্পূর্ণ নিরস্ত্র। তারা শুধুমাত্র নিজেদের অধিকার আদায়ের জন্য শান্তিপূর্ণভাবে মিছিল করছিলেন।

পুলিশের বর্বরতা

পুলিশ গুলি চালিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করার পর, তারা উল্লাস করে। পুলিশের সদস্যরা ‘শেষ’, ‘মরছে, মরছে’ বলে উচ্চৈঃস্বরে আনন্দ প্রকাশ করেন। কনস্টেবল অজয় ঘোষ অভিযানে অংশ নিতে অস্বীকার করায় তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে, এরপর তার রাইফেল অন্যদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। পুলিশ কর্মকর্তারা, বিশেষত শাহ্ আলম আখতারুল ইসলাম, নির্দেশ দেন গুলি করার এবং আন্দোলনকারীদের হত্যা করার।

অপরাধের তদন্ত

এই হত্যাকাণ্ডের মামলার তদন্ত চলছে এবং এতে ৬ জন পুলিশ সদস্যকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তার মধ্যে কয়েকজন গ্রেফতার হলেও, ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানসাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল-এর ‘সম্পৃক্ততা’ তদন্তাধীন রয়েছে। যদিও তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন হয়নি, তবে তাদের ভূমিকা তদন্তে উঠে এসেছে।

আন্দোলন ও প্রতিবাদ

পুলিশি নির্যাতনহত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে ছাত্র আন্দোলনকারীরা কঠোর প্রতিবাদ জানাচ্ছে। পুলিশের প্রতি অভিযোগ তোলা হচ্ছে যে, তারা কঠোর শক্তি প্রয়োগ করেছে এবং জনগণের শান্তিপূর্ণ অধিকার আদায়ের আন্দোলনকে দমন করতে সহায়তা করেছে।

নির্যাতন ও জনগণের প্রতিক্রিয়া

এমতাবস্থায়, দেশের সাধারণ জনগণ এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা সরকারের পক্ষ থেকে পুলিশের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলেছেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-এ বিচার চলমান, যেখানে শাহবাগ থানার সাবেক পরিদর্শক মো. আরশাদ হোসেন, সাবেক কনস্টেবল মো. সুজন হোসেন, ইমাজ হোসেন ইমন, এবং মো. নাসিরুল ইসলাম গ্রেফতার রয়েছেন।

হত্যাকাণ্ডের অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ

এছাড়া, এই মামলার অভিযোগপত্রে খোলাসা করা হয়েছে যে, ৫ আগস্টের এই হত্যাকাণ্ডের জন্য সর্বোচ্চ পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশে এসব গুলি চালানো হয়। মামলায় বিভিন্ন আইনজীবী ও বিচারকরা এসব হত্যার বিচার দাবি করছেন। বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই ঘটনায় দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে সকল পক্ষ উন্মুখ।

বাংলাদেশের পুলিশি ব্যবস্থার সংস্কারের দাবি

এ ঘটনায় দেশের পুলিশের প্রতি জনগণের আস্থা ক্ষুণ্ণ হয়েছে। অনেকেই দাবি করছেন, এই ধরনের ঘটনা বন্ধ করতে পুলিশ বিভাগের সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে। জনগণের প্রতিরোধ আন্দোলন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপে এবং সরকারের সদিচ্ছা যদি এই হত্যাকাণ্ডের যথাযথ বিচার করা হয়, তবে ভবিষ্যতে এই ধরনের নৃশংসতা প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।

প্রতিবেদকBDS Bulbul Ahmed
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency