বাংলাদেশে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমন করার অভিযোগ বহু বছর ধরেই উঠে আসছে। তার ভয়াবহ রূপ হচ্ছে গুম, যেখানে কেউ হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যান, অথচ তার কোনো সরকারি রেকর্ড থাকে না। গতকাল, ২৫ জুন ২০২৫, জাতীয় প্রেস ক্লাবে "মায়ের ডাক" সহ কয়েকটি মানবাধিকার সংগঠন গুম হওয়া ব্যক্তিদের স্বজনদের সঙ্গে একটি পরামর্শসভার আয়োজন করে।
এই সভায় আলোচিত হয়—আটক, নিখোঁজ ও নিপীড়নের শিকারদের নিয়ে রাষ্ট্রের ভূমিকা, বিচারহীনতার সংস্কৃতি এবং পরিবারগুলোর দীর্ঘদিনের কষ্ট।
ইভেন্ট: গুম হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারদের নিয়ে পরামর্শ সভা
স্থান: জাতীয় প্রেস ক্লাব
আয়োজক সংগঠন: মায়ের ডাক, অধিকার, আইন ও সালিশ কেন্দ্রসহ আরও কয়েকটি সংগঠন
উপস্থিত: গুমের শিকারদের মা, স্ত্রী, সন্তান ও ভাইবোনরা
গুম হওয়া ব্যক্তিদের খোঁজ পাওয়ার আকুতি
সরকারের নীরবতা এবং বিচারহীনতার নিন্দা
আন্তর্জাতিক মহলের হস্তক্ষেপের দাবি
মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্য সংরক্ষণে সহায়তার প্রতিশ্রুতি
এই সময়কালে গুমের অভিযোগ সবচেয়ে বেশি উঠে আসে।
অধিকাংশ অভিযোগ ছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে, যাদের বিরুদ্ধে সরাসরি রাজনৈতিক পক্ষপাতের অভিযোগ উঠেছিল।
এলান করেই অনেক রাজনৈতিক কর্মী, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী নিখোঁজ হন, যাদের অনেকেরই আজও সন্ধান মেলেনি।
জাতিসংঘ, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এবং হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বারবার বাংলাদেশে গুমের ঘটনা বন্ধে আহ্বান জানিয়েছে।
২০২১ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশ র্যাব এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করে।
গুম হওয়া ব্যক্তিদের স্বজনরা বছরের পর বছর অপেক্ষা করছেন, প্রিয়জন ফিরে আসবে বলে।
এই প্রত্যাশা আজ তাদের জীবনের সবচেয়ে বড় মানসিক যন্ত্রণা।
সরকার বরাবরই বলেছে—“তাদের হেফাজতে কেউ নেই।”
তবে ভিডিও ফুটেজ, সাক্ষ্য, ও ফোন ট্র্যাকিং অনেক সময় ভিন্ন চিত্র তুলে ধরে।
এই ‘অস্বীকার সংস্কৃতি’ পরিবারগুলোর ন্যায়বিচার পাওয়ার সম্ভাবনাকে ক্ষীণ করে তুলছে।
‘মায়ের ডাক’ এর মত সংগঠনগুলো গুম-সংশ্লিষ্ট পরিবারদের জন্য মনোসংযোগ, আইনি সহায়তা এবং আন্তর্জাতিক ফোরামে কণ্ঠস্বর তৈরি করছে।
বিচারহীনতার সংস্কৃতি ভাঙা
গুম হওয়া ব্যক্তিদের অবস্থান শনাক্ত করা
নির্ভরযোগ্য তদন্ত পদ্ধতি চালু করা
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা
আন্তর্জাতিক চাপের মাধ্যমে সরকারকে গুমের বিষয়গুলোতে স্বচ্ছতা আনতে বাধ্য করা
সুশীল সমাজ ও নাগরিক উদ্যোগের মধ্য দিয়ে গুম বিরোধী সামাজিক আন্দোলন জোরদার করা
মানবাধিকার আইন সংশোধনের মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের কাঠামো গঠন
গুম একটি রাষ্ট্রীয় ট্রমা, যা শুধুমাত্র ব্যক্তিগত কষ্ট নয়—একটি জাতির বিবেকের পরীক্ষাও। জাতীয় প্রেস ক্লাবের এই পরামর্শসভা শুধু কান্নার জায়গা নয়, এটি একটি আহ্বান—সত্য উন্মোচনের জন্য, জবাবদিহিতার জন্য, এবং রাষ্ট্রকে আরও মানবিক করে তোলার জন্য।
যে পরিবারগুলো আজ ৫-১০ বছর ধরে অপেক্ষায়—তারা কেবল ন্যায়বিচার নয়, সম্মান ও শান্তিও চান।
১. গুম বলতে কী বোঝায়?
→ রাষ্ট্র বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক কাউকে গোপনে তুলে নিয়ে যাওয়াকে গুম বলা হয়, যার কোনো প্রাতিষ্ঠানিক রেকর্ড থাকে না।
২. বাংলাদেশে গুম কতটা গুরুতর সমস্যা?
→ ২০০৯–২০২৩ সময়কালে কয়েকশ’ গুমের অভিযোগ উঠেছে, যার অনেকগুলোর এখনো কোনো হদিস নেই।
৩. গুমের অভিযোগে আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া কী?
→ জাতিসংঘ, অ্যামনেস্টি, HRW, এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা—সবই বাংলাদেশে গুমের বাস্তবতা তুলে ধরে।
৪. ‘মায়ের ডাক’ কী ধরনের সংগঠন?
→ এটি গুম হওয়া ব্যক্তিদের স্বজনদের দ্বারা গঠিত একটি মানবাধিকার সংগঠন, যারা ন্যায়বিচারের দাবিতে সোচ্চার।
৫. গুম বন্ধে কী পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে?
→ স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন, অভিযুক্তদের বিচার, আইন সংশোধন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারদের পুনর্বাসন।
প্রতিবেদক: BDS
Bulbul Ahmed
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |