| বঙ্গাব্দ

৯ বছর পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ বাংলাদেশের হাইকমিশনারের

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 23-06-2025 ইং
  • 3691384 বার পঠিত
৯ বছর পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ বাংলাদেশের হাইকমিশনারের
ছবির ক্যাপশন: ৯ বছর পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ বাংলাদেশের হাইকমিশনারের

৯ বছর পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ বাংলাদেশের হাইকমিশনারের: দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারে নতুন বার্তা

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহ। সোমবার (২৩ জুন) পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রশাসনিক সদর দফতর নবান্নে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

এই ঐতিহাসিক সাক্ষাৎকে ঘিরে উভয়পক্ষের কূটনৈতিক মহলে ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়েছে, বিশেষ করে এমন একটি সময়ে যখন ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক কিছুটা টানাপড়েনের মধ্যে দিয়ে অগ্রসর হচ্ছে।

শুভেচ্ছা ও সম্মান: বাংলাদেশের প্রতি মমতার বার্তা

সাক্ষাৎকালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান। বিশেষভাবে তিনি বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতি সম্মান জ্ঞাপন করেন। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী বলেন,

"বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের সম্পর্ক শুধুমাত্র রাজনৈতিক বা কূটনৈতিক নয়; আমাদের সম্পর্ক ভাষা, সংস্কৃতি ও আত্মিক ঐতিহ্যের ভিত্তিতে গঠিত।"

তিনি আরও বলেন যে, এই চিরায়ত সম্পর্ক ভবিষ্যতেও আরো গভীরতর ও অর্থবহ হবে, এবং আগামীর বাংলাদেশের সঙ্গে তার যোগাযোগ অব্যাহত থাকবে।

ভাষা, সংস্কৃতি ও হৃদয়ের বন্ধন

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যে বারবার উঠে এসেছে বাংলাদেশের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের আত্মিক ও সাংস্কৃতিক সংযোগের কথা। তিনি বলেন,

"আমাদের জনগণের মধ্যে যে চিরায়ত ভাষাগত, সাংস্কৃতিক এবং অভিন্ন মূল্যবোধকেন্দ্রিক সম্পর্ক রয়েছে, তা কেবল অর্থনৈতিক সহযোগিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।"

এই বক্তব্যটি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের একটি ভিন্নতর মাত্রা উন্মোচন করে, যেখানে দুই বাংলার মানুষের আবেগ ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ কূটনীতির শুষ্কতার বাইরে এক উষ্ণতর আবহ তৈরি করে।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট: সংকট ও সম্ভাবনার যুগলবন্দি

এই সাক্ষাৎ এমন এক সময় অনুষ্ঠিত হলো, যখন বাংলাদেশে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রেক্ষিতে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক কিছুটা দুর্বল হয়েছে বলে কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মত। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী পরিস্থিতিতে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার ও বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক নেতৃত্বের মধ্যে কিছুটা দূরত্ব লক্ষ করা যাচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশের হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ দিল্লির বাইরে, পশ্চিমবঙ্গ ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে এমন এক স্থান দখল করে রেখেছে, যেখান থেকে বাংলাদেশ-সম্পর্কিত নানা আবেগ, ঐতিহ্য ও বাস্তবতা প্রতিফলিত হয়।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘দুর্লভ সাক্ষাৎ’: ৯ বছরের অভাবনীয় সমাপতন

এই সাক্ষাৎ আরেকটি কারণে ঐতিহাসিক। গত ৯ বছরে দিল্লিতে নিযুক্ত কোনো বাংলাদেশি হাইকমিশনার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাক্ষাৎ পাননি। মোস্তাফিজুর রহমান ও মুহাম্মদ ইমরান—এই দুই প্রাক্তন হাইকমিশনারের সময়কালে একাধিকবার চেষ্টার পরও মমতার সাক্ষাৎ মেলেনি। ফলে রিয়াজ হামিদুল্লাহের এই সাক্ষাৎ কূটনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে ‘অসাধারণ অগ্রগতি’ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

একজন জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক জানান,

“সাক্ষাৎটি শুধু সৌজন্যিক নয়, বরং ভারতের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাদেশিক সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের সম্পর্ক জোরদারের বড় সুযোগ হিসেবে বিবেচিত।”

দায়িত্ব নেয়ার এক মাসের মাথায় কূটনৈতিক অগ্রগতি

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের বর্তমান হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহ ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছে নিজের পরিচয়পত্র পেশ করেন ২০২৪ সালের ২৯ মে। মাত্র দেড় মাসের ব্যবধানে তিনি দিল্লিতে কূটনৈতিকভাবে সক্রিয় হয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে সক্ষম হন, যা কূটনৈতিক দক্ষতার একটি মাইলফলক।

এই সাক্ষাতের মধ্য দিয়ে তিনি ‘সাব-ন্যাশনাল ডিপ্লোম্যাসি’-এর এক নতুন ধারা শুরু করলেন বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।

ভবিষ্যতের সম্ভাবনা: বাণিজ্য, জলসীমা ও যোগাযোগ

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের মধ্যে বাণিজ্য, জলসীমা, নদী ব্যবস্থাপনা ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে মুখ্যমন্ত্রীর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। বিশেষ করে তিস্তা ও গঙ্গা পানিবণ্টন নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মতামত দীর্ঘদিন ধরে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের নীতিকে প্রভাবিত করেছে।

এখন যদি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলাদেশের সঙ্গে সমন্বয়ের বার্তা দেন, তাহলে তা বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক মোড় আনতে পারে।

উপসংহার: সম্পর্কের নতুন দিগন্ত

রিয়াজ হামিদুল্লাহ ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাক্ষাৎ নিঃসন্দেহে দুই বাংলার ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও কূটনৈতিক বাস্তবতার এক মেলবন্ধন। এটি কেবল একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ নয়, বরং বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ভবিষ্যতের জন্য একটি সম্ভাবনাময় ইঙ্গিত।


প্রতিবেদকBDS Bulbul Ahmed
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency