ঋণ নেওয়ার আগে ইসলামের ৬ গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা
দৈনন্দিন জীবনের নানাবিধ আর্থিক সংকট বা ব্যবসায়িক প্রয়োজনে মানুষকে প্রায়ই অন্যের কাছ থেকে ঋণ বা ধার নিতে হয়। তবে ইসলামি জীবনবিধানে অহেতুক ঋণ গ্রহণকে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে এবং বিশেষ প্রয়োজনে ঋণ নিলে তা পরিশোধের ব্যাপারে অত্যন্ত কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আর্থিক স্বচ্ছতা, মানবিক সম্পর্ক রক্ষা এবং আখিরাতের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতেই ইসলামে ঋণ গ্রহণের পূর্বে ও পরে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা অনুসরণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
সংবাদের মূল কিছু পয়েন্ট
বিষয়: ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী ঋণ গ্রহণের পূর্বশর্ত ও নিয়মাবলী।
মূল উদ্দেশ্য: আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সুদের ভয়াবহতা থেকে বেঁচে থাকা।
গুরুত্ব: সময়মতো ঋণ পরিশোধ না করার পরকালীন পরিণতি সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি।
প্রয়োগ: ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক উভয় আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
ঋণ গ্রহণের ক্ষেত্রে ইসলামের ৬টি নির্দেশনা
ইসলামে লেনদেনকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। যেকোনো আর্থিক সংকট মোকাবিলায় ঋণ নেওয়ার সময় যেসব বিষয়টি মেনে চলা আবশ্যক, তা নিচে তুলে ধরা হলো:
১. চরম প্রয়োজন ছাড়া ঋণ না নেওয়া: বিলাসী জীবনযাপন বা অপ্রয়োজনীয় খরচের জন্য ঋণ গ্রহণ করা ইসলামে অনুচিত। কেবল মৌলিক চাহিদা পূরণ বা জরুরি সংকট কাটাতেই ঋণ নেওয়া উচিত।
২. দ্রুত পরিশোধের সৎ নিয়ত রাখা: ঋণ নেওয়ার সময়ই মন থেকে তা দ্রুত ফেরত দেওয়ার তীব্র ইচ্ছা থাকতে হবে। আন্তরিক নিয়ত থাকলে আল্লাহ তাআলা ঋণ পরিশোধে অলৌকিক সাহায্য করেন।
৩. লিখিত চুক্তি ও সাক্ষী রাখা: যেকোনো পরিমাণ অর্থ ঋণ নেওয়ার সময় তা লিখিত আকারে রাখা এবং সাক্ষী রাখা সুন্নাত। এতে পরবর্তীতে যেকোনো ধরনের ভুল বোঝাবুঝি বা বিরোধ এড়ানো সম্ভব হয়।
৪. সুদ মুক্ত রাখা (করজে হাসানা): যেকোনো ধরনের সুদি ঋণ কঠোরভাবে হারাম করা হয়েছে। ইসলামে নিঃস্বার্থভাবে সাহায্য করার উদ্দেশ্যে ‘করজে হাসানা’ বা সুদমুক্ত ঋণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
৫. নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরিশোধ: ঋণদাতার সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই অর্থ ফেরত দেওয়া ঋণগ্রহীতার অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও পাওনা পরিশোধে দেরি করা অন্যায়।
৬. অক্ষম হলে সময় চেয়ে নেওয়া: নির্ধারিত সময়ে ঋণ পরিশোধে অক্ষম হলে ঋণদাতাকে আগে থেকেই জানানো এবং বিনীতভাবে বাড়তি সময় চেয়ে নেওয়া জরুরি।
পরিশোধ না করার পরিণতি ও ইসলামি দৃষ্টিভঙ্গি
ইসলামি নির্দেশনা অনুযায়ী, অন্যের পাওনা পরিশোধ না করে মৃত্যুবরণ করা অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ। হাদীস শরীফে এসেছে, শহীদ ব্যক্তির সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেওয়া হলেও ঋণের দায় থেকে সে মুক্ত পায় না।
তাই যেকোনো আর্থিক চুক্তি করার সময় সচেতন হওয়া এবং সাধ্যের বাইরে গিয়ে অনাবশ্যক ঋণ নেওয়া থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেন বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদরা।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |