নির্বাচন কমিশনের নতুন সিদ্ধান্ত: ৯৬টি নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থার নিবন্ধন বাতিল
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বৃহস্পতিবার (২০ মার্চ) দুপুরে ইসি কমিশন ভবনে অনুষ্ঠিত এক বৈঠক শেষে নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার সাংবাদিকদের জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নিবন্ধন পাওয়া ৯৬টি নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থার নিবন্ধন বাতিল করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে নির্বাচন কমিশন। তবে, এই সংস্থাগুলো নতুন করে নিবন্ধন আবেদন করতে পারবে।
ইসি কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকারের দেওয়া তথ্যে জানা যায়, এসব সংস্থার নিবন্ধন বাতিল হলেও তারা আবারও নতুন করে আবেদন করার সুযোগ পাবে। এর মাধ্যমে নির্বাচন পর্যবেক্ষণের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
এছাড়া, এই বৈঠকে নির্বাচন কমিশন আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগে নির্বাচনী কর্মকাণ্ডের মধ্যে জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং পুলিশ সুপার (এসপি) এর নেতৃত্বে একটি কমিটি তৈরি করা হতো, যেটি ভোটকেন্দ্র স্থাপনের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিল। তবে এবার থেকে নির্বাচনী কর্মকর্তারাই সরাসরি ভোটকেন্দ্র স্থাপন করবেন, এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
ইসি কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বৈঠক শেষে আরও বলেন, নির্বাচন কমিশনের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ এজেন্ডা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এর মধ্যে নির্বাচন সীমানা নির্ধারণ, রাজনৈতিক দলগুলোর নিবন্ধন, জাতীয় ও স্থানীয় সরকারের নির্বাচন প্রস্তুতি, ভোটকেন্দ্র স্থাপন, ভোটগ্রহণকারী কর্মকর্তাদের প্যানেল প্রস্তুত ও তদারকি বিষয়ক বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
ইসি জানায়, নির্বাচন কমিশন একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে যেন নির্বাচনী প্রক্রিয়া আরও উন্নত এবং কার্যকরভাবে পরিচালিত হয়। এসময়, নির্বাচনী তফসিলের সাথে যুক্ত সকল প্রস্তুতির দিকে সুনির্দিষ্ট নজর দেয়া হচ্ছে। ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা, ভোটগ্রহণকারী কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ, পর্যবেক্ষকদের ভূমিকা এসব বিষয় এই বৈঠকে আলোকপাত করা হয়।
এর আগে, নির্বাচন কমিশন জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি এবং সহায়তা নিয়ে আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলো, বিশেষ করে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এবং ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি) দেশভুক্ত ১৮টি মিশন প্রধানদের সাথে বৈঠক করেছে। এসব বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক পাঠানোর বিষয়টি সমন্বিতভাবে কাজ করা হবে।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় থেকে সহায়তা গ্রহণ করতে চায়, যাতে আগামী জাতীয় নির্বাচন আরও স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ এবং গণতান্ত্রিক হতে পারে। নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় বিদেশি পর্যবেক্ষক দলগুলোর উপস্থিতি বাংলাদেশের গণতন্ত্রের প্রতি বিশ্বস্ততার প্রতীক হয়ে দাঁড়াতে পারে, এমনটা ইসির কর্মকর্তারা মনে করছেন।
এছাড়া, নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে যে, এই সমস্ত উদ্যোগের মাধ্যমে ভোটের পরিবেশের ওপর সুষ্ঠু তদারকি এবং অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন পরিচালনার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করা হবে। এছাড়া, নির্বাচনী কর্মকর্তা, পর্যবেক্ষক এবং অন্যান্য স্টেকহোল্ডারদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হবে।
এদিকে, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে তৎপরতা বেড়েছে। দেশবাসীও নির্বাচনী কার্যক্রমের দিকে নজর রাখছেন। ভোটকেন্দ্র স্থাপন, সীমানা নির্ধারণ, ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া এবং নির্বাচনী প্রস্তুতির কার্যকর বাস্তবায়ন নির্বাচনের সফলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে।
নির্বাচন কমিশনের এই নতুন সিদ্ধান্তের মাধ্যমে, আগামী নির্বাচন প্রক্রিয়া আরও সহজ, সুষ্ঠু এবং গ্রহণযোগ্য হতে পারে বলে আশা করা যাচ্ছে।
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |