| বঙ্গাব্দ

পেরুর জেলে ৯৫ দিন পর মহাসাগরে জীবিত উদ্ধার: এক অলৌকিক উপাখ্যান

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 16-03-2025 ইং
  • 3828897 বার পঠিত
পেরুর জেলে ৯৫ দিন পর মহাসাগরে জীবিত উদ্ধার: এক অলৌকিক উপাখ্যান
ছবির ক্যাপশন: পেরুর জেলে ৯৫ দিন পর মহাসাগরে জীবিত উদ্ধার: এক অলৌকিক উপাখ্যান

পেরুর জেলে ৯৫ দিন পর মহাসাগরে জীবিত উদ্ধার: এক অলৌকিক উপাখ্যান

পেরুর মারকোনা শহরের বাসিন্দা ৬১ বছর বয়সী ম্যাক্সিমো নাপা কাস্ত্রো গত ৭ ডিসেম্বর, মাছ ধরতে সাগরে বেরিয়েছিলেন দুই সপ্তাহের জন্য পর্যাপ্ত রসদ নিয়ে। তবে ১০ দিনের মাথায় প্রবল ঝোড়ো হাওয়ায় পথ হারিয়ে প্রশান্ত মহাসাগরের বিশাল জলরাশিতে ভেসে যান।

এই ঘটনাটি ছিল একেবারে অসম্ভব একটি চ্যালেঞ্জ, তবে ৯৫ দিন পর, ১১ মার্চ, তাকে উদ্ধার করেছে ইকুয়েডরের একটি মাছ ধরার নৌকা। পেরুর রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আন্দিনার সূত্রে ইউএস সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানায়, পেরু থেকে প্রায় ৬৮০ মাইল দূরে, উত্তর পেরুর উপকূলের কাছে তাকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।

অন্ধকারে হারানো পথ

যাত্রার প্রথম কয়েকদিন ভালোভাবে চলছিল, তবে হঠাৎ করেই খারাপ আবহাওয়া তাকে পথ হারাতে বাধ্য করে। প্রচণ্ড ঝোড়ো হাওয়ার কারণে তার নৌকা একদম বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। সেই থেকে তার অভিজ্ঞতা পরিণত হয় এক ভয়াবহ যাত্রায়। একদিকে নৌকার রসদ শেষ হয়ে যাচ্ছিল, অন্যদিকে পানির অভাবে তার অবস্থার অবনতি হতে থাকে।

গত ৩ মার্চ, নাপা কাস্ত্রোর মেয়ে ইনেস নাপা তোরেস তার ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট করেন, যেখানে তিনি লিখেছিলেন, ‘বাবা হারিয়ে যাওয়ার পর প্রতিটা দিন আমাদের জন্য অত্যন্ত কষ্টকর ছিল। আমি আমার দাদির কষ্ট বুঝতে পারি, কারণ আমি একজন মা। আমরা কখনো ভাবিনি যে আমাদের এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে। কারও সঙ্গে এমন কিছু ঘটুক, আমি তা কখনো চাইবো না। কিন্তু বাবাকে আমরা খুঁজে পাওয়ার আশা কখনো হারাব না।’

পরিবার ও স্থানীয় জেলেদের দীর্ঘ অনুসন্ধান

কাস্ত্রোর পরিবার এবং স্থানীয় জেলেরা দীর্ঘদিন ধরে তাকে খুঁজতে বেরিয়েছিল। তারা পেরুর সামুদ্রিক টহল দলের সঙ্গে মিলিত হয়ে তাকে খুঁজতে চেষ্টা করেন, তবে তিন মাস ধরে কোনো সাড়া মেলেনি। তাদের অবলম্বন ছিল কেবল আশা, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা যখন ক্লান্ত প্রায়, তখনই আসে এক আশ্চর্য ঘটনা।

ইকুয়েডরের টহল দল উদ্ধার করে

শেষ পর্যন্ত, ৯৫ দিন পর ইকুয়েডরের একটি মাছ ধরার টহল দল কাস্ত্রোকে উদ্ধার করে। তাকে পানিশূন্য এবং সংকটাপন্ন অবস্থায় পাওয়া যায়, তবে তিনি প্রাণে বেঁচে ছিলেন। তার উদ্ধার মানবিক সাহসিকতার এক বিস্ময়কর উদাহরণ হিসেবে মনে করা হচ্ছে।

এটি এক অলৌকিক উপাখ্যান, যেখানে এক ব্যক্তি নিজের জীবন বাজি রেখে মহাসাগরের অসীম বিশালতায় হারিয়ে যাওয়ার পরও একদিন আবার ফিরে আসে। তার জীবনবোধ, ধৈর্য এবং পরিবারের অবিচল আশা, সব মিলিয়ে এটি একটি অনুপ্রেরণাদায়ক গল্প।

আরও পড়ুন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency