জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসের ঢাকা সফর শেষে বিদায়
জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস চার দিনের সফর শেষে ঢাকা ত্যাগ করেছেন। ১৬ মার্চ রোববার সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে তাকে বহনকারী বিমানটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে রওনা দেয়। সফরের শেষ দিনে তাকে বিমানবন্দরে বিদায় জানান পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এবং প্রধান উপদেষ্টা খলিলুর রহমান, যিনি রোহিঙ্গা বিষয়ক জাতিসংঘের হাই রিপ্রেজেনটেটিভ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
সফরের শেষদিনে, জাতিসংঘ মহাসচিব ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সাথে ফোনে কথা বলেন এবং উভয়ে একে অপরকে বিদায়ী শুভেচ্ছা জানান। বাংলাদেশের জাতীয় উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয় এই ফোনালাপে।
অ্যান্তোনিও গুতেরেস গত বৃহস্পতিবার (১৩ মার্চ) বাংলাদেশ সফরে আসেন। তার এই সফর ছিল বেশ গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে বাংলাদেশের রাজনৈতিক, মানবাধিকার এবং রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকটের জন্য। সফরের দ্বিতীয় দিনে, ১৪ মার্চ, গুতেরেস কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি লাখো রোহিঙ্গার সঙ্গে ইফতার করেন, যা তার সফরের একটি স্মরণীয় ঘটনা হয়ে থাকে। গুতেরেস রোহিঙ্গাদের মধ্যে আশ্রিত এই শরণার্থীদের বর্তমান অবস্থা, তাদের দুর্ভোগ, এবং আন্তর্জাতিক সহায়তার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
সফরের তৃতীয় দিনে, ১৫ মার্চ, জাতিসংঘ মহাসচিব ঢাকা শহরে ফিরে এসে জাতিসংঘ কান্ট্রি টিম বাংলাদেশ এবং সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন। এই বৈঠকে বাংলাদেশ ও জাতিসংঘের মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা হয়। এর পাশাপাশি, গুতেরেস রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে গোলটেবিল বৈঠকও করেন, যেখানে বাংলাদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাথে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, রোহিঙ্গা পরিস্থিতি এবং জাতীয় উন্নয়নের বিষয়গুলো নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়।
অ্যান্তোনিও গুতেরেস এরপর তরুণ সমাজের প্রতিনিধিদের এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটির সাথে বৈঠক করেন। এ সময় তিনি বাংলাদেশে শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং আন্তর্জাতিক সহায়তার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
দিনব্যাপী বেশ কয়েকটি বৈঠক শেষে গুতেরেস ইফতার এবং আর্লি ডিনার সেশনে যোগ দেন। সেখানে তিনি বাংলাদেশের জনগণের আতিথেয়তায় মুগ্ধতার কথা প্রকাশ করেন এবং জাতিসংঘের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের প্রতি সর্বোচ্চ সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। গুতেরেস বলেন, "বাংলাদেশের সঙ্গে জাতিসংঘের সম্পর্ক গভীর এবং বন্ধুত্বপূর্ণ। আমি অত্যন্ত কৃতজ্ঞ যে বাংলাদেশ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংকটে সহযোগিতা করছে, বিশেষ করে রোহিঙ্গা সংকটের ক্ষেত্রে। জাতিসংঘ ভবিষ্যতেও বাংলাদেশের পাশে থাকবে।"
অ্যান্তোনিও গুতেরেসের এই সফর বাংলাদেশ ও জাতিসংঘের সম্পর্কের উন্নয়নে একটি বড় ভূমিকা রেখেছে। বিশেষ করে রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট এবং বাংলাদেশের মানবিক সহায়তার বিষয়টি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও আলোচিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সফরের শেষে, গুতেরেসের বিদায় অনুষ্ঠানে বিমানবন্দরে এক উষ্ণ পরিবেশে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তাকে বিদায় জানানো হয়, যা দুই দেশের সম্পর্কের নতুন দিগন্তের সূচনা হতে পারে।
অ্যান্তোনিও গুতেরেসের এই সফর বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক রাজনীতি, মানবাধিকার এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হয়ে থাকবে।
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |