মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বিদায়: বাংলাদেশের সাদা বলের ক্রিকেটে পঞ্চপাণ্ডব অধ্যায়ের সমাপ্তি
আঠারো বছরের দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের পর অবশেষে বিদায় নিলেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। ১২ই মার্চ, ২০২৫ তারিখে ওয়ানডে ফরম্যাট থেকে বিদায় নেওয়ার মধ্য দিয়ে তিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে চিরদিনের জন্য বিদায় জানালেন। এর আগেই তিনি টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি ফরম্যাট থেকে অবসর নিয়েছিলেন, কিন্তু তার ওয়ানডে ক্যারিয়ার ছিল আরও কিছুটা দৃশ্যমান।
রিয়াদের এই বিদায়ের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেটের ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি হলো। দেশের সাদা বলের ক্রিকেটে তাকে এক অটুট স্তম্ভ হিসেবে দেখা হয়েছে, যিনি মাঠে ও মাঠের বাইরে সবসময় প্রেরণা যুগিয়েছেন। তার বিদায় বাংলাদেশের ক্রিকেটের 'পঞ্চপাণ্ডব' অধ্যায়ের প্রায় শেষ হয়ে গেছে, যেখানে সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, এবং মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা ছিলেন অন্যতম সেরা খেলোয়াড়দের মধ্যে। যদিও সাকিব আল হাসান এখনও ওয়ানডে থেকে অবসর নেননি, তবে তার খেলা নিয়ে রয়েছে অনেক প্রশ্ন এবং সংশয়।
মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ তার ক্যারিয়ারে সবসময় নিজের অবস্থান দৃঢ় রেখেছেন এবং দলের জন্য একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে নিজের পারফরম্যান্স দিয়ে বাংলাদেশকে জিতিয়ে আনে। বিশেষত তার ব্যাটিং দক্ষতা এবং অবিচল মনোভাব তাকে ‘সাইলেন্ট কিলার’ হিসেবে পরিচিত করেছে। মাঠে তার উপস্থিতি ছিল এক শক্তিশালী প্রেরণা, এবং তার সাফল্য শুধুমাত্র বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য নয়, সমগ্র ক্রিকেট বিশ্বের জন্যই এক উদাহরণ।
মাঠে তার অবদান:
রিয়াদের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে একাধিক মাইলফলক রয়েছে। ২০১৫ সালের বিশ্বকাপে বাংলাদেশের প্রথম সেঞ্চুরিয়ান হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। তার সেঞ্চুরির সময়টা ছিল দলের জন্য ঐতিহাসিক একটি মুহূর্ত। সেই সময়ে তার সেঞ্চুরি বাংলাদেশের জন্য একটি নতুন দিগন্তের সূচনা করে। পাশাপাশি তার ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ফিল্ডিং এবং বোলিংও দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তার ধারাবাহিকতার জন্যই তাকে বাংলাদেশের সাদা বলের ক্রিকেটে অমূল্য একজন খেলোয়াড় হিসেবে বিবেচনা করা হতো।
তামিম, মুশফিক, সাকিব এবং মাশরাফীর শ্রদ্ধা:
মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের অবসর ঘোষণার পর বাংলাদেশের ক্রিকেটের অন্যান্য তারকারা তাকে শ্রদ্ধা জানিয়ে সামাজিক মাধ্যমের মাধ্যমে শুভকামনা জানিয়েছেন।
তামিম ইকবাল, বাংলাদেশের বর্তমান ওপেনিং ব্যাটসম্যান, তার ফেসবুক পেজে রিয়াদকে শুভকামনা জানিয়ে লেখেন, "রিয়াদ ভাই, আপনার পাশে খেলা এবং আপনার কাছ থেকে শেখা আমার জন্য সৌভাগ্যের। আপনি মাঠে এবং মাঠের বাইরে উভয় ক্ষেত্রেই উদাহরণ স্থাপন করেছেন এবং আপনার রেকর্ডই কথা বলে। খেলার প্রতি আপনার নিষ্ঠা, স্থিতিস্থাপকতা ও ভালোবাসার জন্য জাতি আপনার কাছে ঋণী। আল্লাহ আপনাকে এবং আপনার পরিবারকে আশীর্বাদ করুন এবং নতুন যাত্রায় আপনাকে পথ দেখান।"
আরেক সাবেক অধিনায়ক, মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা, তার ফেসবুক পেজে লেখেন, "দারুণ এক আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের জন্য অভিনন্দন, রিয়াদ। তোর নামের পাশে যে সংখ্যাগুলো আছে, সেসবের সীমানা ছাড়িয়ে তুই আমাদের কাছে আরও অনেক ওপরে। আমরা জানি, দলের তোকে কতটা প্রয়োজন ছিল এবং দলের সেই চাওয়ার সঙ্গে তুই কতটা মিশে গিয়েছিলি।"
মাশরাফী আরও বলেন, "মাঠের ভেতরে-বাইরে তোর সঙ্গে কত স্মৃতি! কত কত আনন্দ আর হতাশায় একাকার হয়েছে আমাদের সময়! অ্যাডিলেইড আর কার্ডিফে তোর সেঞ্চুরির কথা আজ আবার মনে পড়ছে। বিশ্বকাপে বাংলাদেশের প্রথম সেঞ্চুরিয়ান, তোর এই অর্জন কেড়ে নিতে পারবে না কেউ। তবে আশা করি, তোকে আদর্শ মেনে বৈশ্বিক আসরে তোর চার সেঞ্চুরির রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে দেশের অনেকে।"
অবসর জীবন:
মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের ক্যারিয়ার ছিল অনেকটা সাইকেল চালানোর মতো, যেখানে কখনও উত্থান, কখনও পতন ছিল, কিন্তু তার চরিত্র এবং মনোভাব সর্বদা স্থিতিশীল ছিল। তার অবসর পরবর্তী জীবন নিশ্চয়ই গড়ে উঠবে এক নতুন অধ্যায়ে, যেখানে তিনি সম্ভবত ক্রিকেটের বাইরের বিভিন্ন উদ্যোগে তার অভিজ্ঞতা ব্যবহার করবেন।
রিয়াদের কাছ থেকে অনেক কিছু শিখতে পারবে ভবিষ্যতের ক্রিকেটাররা। তিনি বাংলাদেশের ক্রিকেটের এক অমূল্য রত্ন, যার কৃতিত্ব ও সাফল্য কখনো ভুলে যাওয়া যাবে না।
বাংলাদেশ ক্রিকেটের এই মহান যোদ্ধার নতুন জীবন সফল ও আনন্দময় হোক, এটাই সবার কামনা।
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |