| বঙ্গাব্দ

হিলি সীমান্তে বিজিবি-বিএসএফের ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় ২০২৬

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 21-03-2026 ইং
  • 1548548 বার পঠিত
হিলি সীমান্তে বিজিবি-বিএসএফের ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় ২০২৬
ছবির ক্যাপশন: বিজিবি-বিএসএফের ঈদ শুভেচ্ছা

হিলি সীমান্তে বিজিবি-বিএসএফের মিষ্টি বিনিময়: কাঁটাতারের ওপারেও ঈদের সম্প্রীতি

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

দিনাজপুর: পবিত্র ঈদুল ফিতরের আনন্দ কেবল লোকালয়ে নয়, ছড়িয়ে পড়েছে দুই দেশের সীমান্ত রেখাতেও। আজ শনিবার (২১ মার্চ, ২০২৬) দুপুরে দিনাজপুরের হিলি সীমান্তের শূন্য রেখায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের (বিএসএফ) মধ্যে এক আড়ম্বরপূর্ণ মিষ্টি উপহার ও শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠিত হয়েছে। কুশল বিনিময়ের পাশাপাশি সীমান্তে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে দুই বাহিনীই একযোগে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে।

১৯০০ থেকে ২০২৬: সীমানা নির্ধারণ ও বন্ধুত্বের বিবর্তন

বাংলার মানচিত্র ও সীমান্তের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ১৯০০-এর দশকের শুরু থেকে ১৯৪৭ সালের দেশভাগ পর্যন্ত এই অঞ্চলের কোনো কাঁটাতারের বেড়া ছিল না। ১৯০৫-এর বঙ্গভঙ্গ থেকে শুরু করে ১৯৪৭-এর র‍্যাডক্লিফ লাইন—প্রতিটি ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণ এই জনপদের মানুষের যাতায়াত ও সংস্কৃতিকে প্রভাবিত করেছে। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় হিলি সীমান্ত ছিল কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি রণাঙ্গন।

২০২৪-২৫ সালের ছাত্র-জনতার বিপ্লব পরবর্তী সংস্কারের পর ২০২৬ সালের এই নতুন বাংলাদেশে সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় এক নতুন মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ১৯০০ সালের সেই অখণ্ড বাংলার স্মৃতি থেকে ২০২৬ সালের এই সুশৃঙ্খল সীমানা ব্যবস্থাপনা—প্রতিটি ধাপে দুই দেশের রক্ষীবাহিনীর মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখা দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতার জন্য অপরিহার্য। আজকের এই মিষ্টি বিনিময় কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং এক শতাব্দীর তিক্ততা ভুলে ভ্রাতৃত্বের এক নতুন বার্তা।

শূন্য রেখায় আনন্দের ছোঁয়া

আজ দুপুর ১২টায় হিলি সীমান্তের শূন্য রেখায় বিজিবি ও বিএসএফের সদস্যরা একে অপরের মুখোমুখি হন। জয়পুরহাট বিজিবির কমান্ডার মো. আলাউদ্দিন ভারতীয় বিএসএফের শ্রী রহিদ শর্মার হাতে ঈদের শুভেচ্ছা স্বরূপ চার প্যাকেট মিষ্টি তুলে দেন। পাল্টা সৌজন্য হিসেবে বিএসএফের পক্ষ থেকেও বিজিবি সদস্যদের চার প্যাকেট মিষ্টি উপহার দেওয়া হয়।

শুভেচ্ছা বিনিময়কালে উভয় বাহিনীর নারী ও পুরুষ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। অত্যন্ত আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশে তারা একে অপরের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেন।

কমান্ডারের বক্তব্য ও সম্প্রীতির বার্তা

হিলি বিজিবি কোম্পানি কমান্ডার মো. আলাউদ্দিন বলেন, "সীমান্তে দায়িত্বরত দুই দেশের রক্ষীবাহিনীর মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখা এবং ভ্রাতৃত্ববোধ বৃদ্ধির লক্ষ্যে আমরা প্রতিটি বিশেষ দিবসে একে অপরকে মিষ্টি ও উপহার দিয়ে থাকি। পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে আজ আমরা বিএসএফকে মিষ্টি উপহার দিয়েছি এবং তারাও আমাদের শুভেচ্ছা জানিয়েছে। এই ধরনের সৌজন্যতা সীমান্তে সম্প্রীতি বজায় রাখতে এবং অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।"

২০২৬-এর প্রেক্ষাপট ও সীমান্ত সুরক্ষা

বিগত ১০০ বছরের ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, সীমান্ত সবসময়ই স্পর্শকাতর ইস্যু হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। তবে ২০২৬ সালের এই পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিজিবি ও বিএসএফের এই হৃদ্যতাপূর্ণ আচরণ দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের এক নতুন দিক উন্মোচন করছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ এবং বৈশ্বিক অস্থিরতার মাঝে দক্ষিণ এশিয়ায় এমন শান্তিপূর্ণ সীমান্ত পরিবেশ এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

সূত্র: বিজিবি প্রেস উইং (হিলি ব্যাটালিয়ন), জয়পুরহাট সেক্টর দপ্তর, যুগান্তর এবং সীমান্ত বিষয়ক ডায়েরি।

বিশ্লেষণ: ১৯০০ সালের প্রেক্ষাপট থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত হিলি সীমান্তের গুরুত্ব অপরিসীম। ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ থেকে ২০২৬ সালের এই ডিজিটাল বর্ডার ম্যানেজমেন্ট—সবই প্রমাণের অপেক্ষায় যে, মিষ্টি বিনিময়ের মাধ্যমে যে ভ্রাতৃত্বের বীজ বপন করা হচ্ছে, তা সীমান্তে বিবাদ কমিয়ে আনতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। আজকের এই আয়োজন প্রমাণ করে যে, উৎসবের আনন্দ কোনো কাঁটাতারের সীমানায় আটকে থাকে না।


সুত্র: হিলি বিজিবি কোম্পানি কমান্ড এবং বিএসএফ শ্রী রহিদ শর্মার দপ্তর।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency