| বঙ্গাব্দ

সংসদ ভবনে ঐতিহাসিক ঈদুল ফিতর ২০২৬: প্রথমবারের মতো নারীদের অংশগ্রহণ

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 21-03-2026 ইং
  • 1545698 বার পঠিত
সংসদ ভবনে ঐতিহাসিক ঈদুল ফিতর ২০২৬: প্রথমবারের মতো নারীদের অংশগ্রহণ
ছবির ক্যাপশন: সংসদ ভবনে ঐতিহাসিক ঈদুল ফিতর ২০২৬

সংসদ ভবনে ঐতিহাসিক ঈদুল ফিতর: নারী মুসল্লিদের অংশগ্রহণ ও আগামীর বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

ঢাকা: দীর্ঘ এক মাসের সিয়াম সাধনা শেষে সারাদেশে উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল ফিতর। তবে এবারের ঈদ যেন বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। প্রতিকূল আবহাওয়া আর মুসল্লিদের স্বাচ্ছন্দ্যের কথা বিবেচনা করে আজ শনিবার (২১ মার্চ, ২০২৬) সকাল ৮টায় বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার নিচের টানেলে অনুষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র ঈদুল ফিতরের বিশেষ জামাত।

প্রথমবারের মতো নারীদের অংশগ্রহণ: এক অনন্য নজির

এবারের ঈদ জামাতের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক ছিল নারী মুসল্লিদের অংশগ্রহণ। সংসদ ভবনের ইতিহাসে এবারই প্রথম টানেলের নিচে নারীদের জন্য পৃথক ও নিরাপদ নামাজের ব্যবস্থা করা হয়। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের বিশেষ নির্দেশনায় এই আয়োজনে অংশ নেন সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলাসহ কয়েকশ নারী মুসল্লি। ২০২৬ সালের এই উদ্যোগকে বাংলাদেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক সংস্কারের একটি ইতিবাচক প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

১৯০০ থেকে ২০২৬: রাজনীতির পটভূমি ও ধর্মীয় সম্প্রীতি

বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ১৯০৫-এর বঙ্গভঙ্গ থেকে শুরু করে ১৯৪০-এর লাহোর প্রস্তাব পর্যন্ত এই অঞ্চলের মুসলিম সমাজ তাদের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক অধিকার আদায়ের লড়াই চালিয়েছে। ১৯৪৭ সালের দেশভাগ এবং ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা ছিল একটি বৈষম্যহীন সমাজ গঠন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাসনামলে ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা থেকে শুরু করে আধুনিক বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রতিটি ধাপে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সম্প্রীতি গুরুত্ব পেয়েছে।

২০২৪-২৫ সালের ছাত্র-জনতার বিপ্লব পরবর্তী সংস্কার প্রক্রিয়ায় ২০২৬ সালের এই ঈদ জামাত একটি বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের উপস্থিতিতে এই জামাত প্রমাণ করে যে, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি জনবান্ধব ও অন্তর্ভুক্তিমূলক।

জামাতের খুতবা ও মোনাজাত

নামাজ শেষে খুতবা পাঠ ও মোনাজাত পরিচালনা করেন জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সিনিয়র ইমাম মুহাম্মদ ছাইফুল্লাহ। মোনাজাতে দেশ ও জাতির কল্যাণ, বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর সুখ-শান্তি এবং সমৃদ্ধি কামনা করা হয়। বিশেষ করে ২০২৫-২৬ সালের এই অন্তর্বর্তীকালীন সংস্কার পর্যায় পেরিয়ে একটি স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশের জন্য দোয়া করা হয়। নামাজ শেষে মুসল্লিদের মাঝে মিষ্টান্ন ও খেজুর বিতরণ করা হয়।

স্পিকারের শুভেচ্ছা বিনিময়

নামাজ শেষে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম উপস্থিত সর্বস্তরের মুসল্লিদের সাথে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। তিনি বলেন, "সংসদ ভবন জনগণের সম্পদ, আর এখানকার প্রতিটি আয়োজন যেন সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছায় সেটিই আমাদের লক্ষ্য।" এসময় সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা, কর্মচারী ও সাধারণ মানুষ একে অপরের সাথে কোলাকুলির মাধ্যমে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন সুদৃঢ় করেন।

সূত্র: সংসদ সচিবালয় প্রেস উইং, যুগান্তর, বাংলাদেশ প্রতিদিন আর্কাইভ ও জাতীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষণ কেন্দ্র।

বিশ্লেষণ: বিগত ১০০ বছরের রাজনৈতিক প্রবাহে সংসদ ভবন চত্বরে এ ধরনের অন্তর্ভুক্তিমূলক ধর্মীয় আয়োজন বিরল। বিশেষ করে বৈরী আবহাওয়ার কারণে টানেলের নিচের এই সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনা এবং নারীদের সুযোগ প্রদান ২০২৬ সালের পরিবর্তিত বাংলাদেশের একটি আধুনিক রূপরেখা প্রকাশ করে। এটি কেবল একটি ধর্মীয় জমায়েত নয়, বরং সামাজিক পরিবর্তনের একটি বড় বার্তা।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency