| বঙ্গাব্দ

ইমাম, মুয়াজ্জিন ও পুরোহিতদের মাসিক সম্মানী: ১৪ মার্চ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 08-03-2026 ইং
  • 832706 বার পঠিত
ইমাম, মুয়াজ্জিন ও পুরোহিতদের মাসিক সম্মানী: ১৪ মার্চ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
ছবির ক্যাপশন: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ইমাম, মুয়াজ্জিন ও পুরোহিতদের মাসিক সম্মানী: ১৪ মার্চ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

২০২৬ সালের ৮ মার্চ (রোববার) সচিবালয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ দেশের ধর্মীয় নেতাদের জন্য এক ঐতিহাসিক কল্যাণমূলক উদ্যোগের ঘোষণা দিয়েছেন। নির্বাচনী ইশতেহারের অন্যতম প্রধান প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সরকার দেশের ইমাম, মুয়াজ্জিন, পুরোহিত ও যাজকদের জন্য মাসিক সম্মানী ও প্রশিক্ষণভিত্তিক কল্যাণ ব্যবস্থা চালু করতে যাচ্ছে। আগামী ১৪ মার্চ রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন।

ভাতা ও সম্মানী কাঠামোর বিস্তারিত

প্রাথমিক পর্যায়ে একটি পাইলট স্কিমের আওতায় এই কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। ভাতা প্রদানের ক্ষেত্রে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ধরন অনুযায়ী নিম্নোক্ত কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে:

উপাসনালয়পদবিমাসিক সম্মানীমোট (প্রতিষ্ঠানপ্রতি)
মসজিদইমাম৫,০০০ টাকা১০,০০০ টাকা
মুয়াজ্জিন৩,০০০ টাকা
খাদেম২,০০০ টাকা
মন্দিরপুরোহিত৫,০০০ টাকা৮,০০০ টাকা
সেবায়েত৩,০০০ টাকা
বৌদ্ধ বিহারবিহার অধ্যক্ষ৫,০০০ টাকা৮,০০০ টাকা
বিহার উপাধ্যক্ষ৩,০০০ টাকা
গির্জাযাজক৫,০০০ টাকা৮,০০০ টাকা
সহকারী যাজক৩,০০০ টাকা

এছাড়া, প্রতিবছর ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহায় ১,০০০ টাকা করে এবং দুর্গাপূজা, বৌদ্ধ পূর্ণিমা ও বড়দিনে সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় নেতাদের ২,০০০ টাকা করে উৎসব ভাতা প্রদান করা হবে।

কর্মসূচির আওতা ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া

  • নির্বাচিত প্রতিষ্ঠান: পাইলট স্কিমের আওতায় প্রথম ধাপে সারা দেশের ৪৯০৮টি মসজিদ, ৯৯০টি মন্দির, ১৪৪টি বৌদ্ধ বিহার এবং ৩৯৬টি গির্জা নির্বাচন করা হয়েছে।

  • স্বচ্ছতা: এই সম্মানী সরাসরি উপকারভোগীদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে পাঠানো হবে। কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতির সুযোগ এড়াতেই এই ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেম নিশ্চিত করা হয়েছে।

  • বাজেট: চলতি অর্থবছরে (মার্চ-জুন) এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে প্রায় ২৭ কোটি ১৩ লাখ টাকা ব্যয় হবে। পর্যায়ক্রমে দেশের সব উপাসনালয়কে এই কর্মসূচির আওতায় আনা হবে, যার জন্য বার্ষিক প্রায় ৪,৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দের পরিকল্পনা রয়েছে।

বিডিএস বুলবুল আহমেদ-এর চূড়ান্ত পর্যবেক্ষণ:

ধর্মীয় নেতাদের জন্য এই সম্মানী ও কল্যাণমূলক ব্যবস্থা কেবল আর্থিক সহায়তা নয়, বরং এটি সামাজিক সম্প্রীতি সুদৃঢ় করার একটি শক্তিশালী রাষ্ট্রীয় প্রয়াস। ২০২৬ সালের এই উদ্যোগ প্রমাণ করে যে, সরকার সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের ধর্মগুরুদের মর্যাদাকে গুরুত্ব দিচ্ছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে এই কর্মসূচি সফল করতে হলে নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও স্বচ্ছ মনিটরিং ব্যবস্থা নিশ্চিত করা আবশ্যক। সরকারি বা দেশি-বিদেশি অনুদানপ্রাপ্ত বড় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো এই সুবিধার আওতাভুক্ত হবে না, যা নির্দেশ করে যে সরকার মূলত তৃণমূলের ধর্মীয় কর্মীদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।


তথ্যসূত্র: ধর্ম মন্ত্রণালয়ের প্রেস বিজ্ঞপ্তি (৮ মার্চ ২০২৬) ও প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টার কার্যালয়।

বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

আরও গভীর রাজনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নমূলক আপডেট পেতে নিয়মিত চোখ রাখুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency