প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঢাকা: বাংলার ইতিহাসের প্রতিটি ক্রান্তিলগ্ন যেমন পরিবর্তনের বার্তা নিয়ে আসে, তেমনি তৈরি করে নতুন বিতর্ক। ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ উত্তরকালে ভাইসরয়দের ক্ষমতা থেকে শুরু করে ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক জুলাই বিপ্লব—প্রতিটি ধাপে রাষ্ট্রের শীর্ষ পদের দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ২০২৬ সালের এই নতুন বাংলাদেশে দাঁড়িয়ে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের অপসারণ ও গ্রেফতারের দাবি তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। পিলখানা ট্র্যাজেডির ১৭তম বার্ষিকীতে তাঁর এই ঘোষণা রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
বিংশ শতাব্দীর শুরু থেকেই (১৯০০ পরবর্তী) রাষ্ট্রপ্রধান বা সর্বোচ্চ প্রশাসনিক পদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা ছিল এক বড় চ্যালেঞ্জ। ১৯ শতকের গোড়ায় ব্রিটিশ রাজতন্ত্রের প্রতিনিধি হিসেবে গভর্নর জেনারেলদের সিদ্ধান্তই ছিল চূড়ান্ত। পরবর্তীতে ১৯৭২ সালের সংবিধানের মাধ্যমে বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতি পদটি প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ অভিভাবক হিসেবে স্বীকৃত হয়।
তবে ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবে ছাত্র-জনতার ওপর যে বর্বরোচিত গণহত্যা চালানো হয়েছিল, সেই সময়ে রাষ্ট্রপতির ভূমিকা নিয়ে শুরু থেকেই প্রশ্ন ছিল। ১৯০০ সাল থেকে ২০২৬ সালের এই দীর্ঘ পথচলায় বাংলাদেশ অনেক রাজনৈতিক সংকট দেখেছে, কিন্তু একজন আসীন রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসন ও গ্রেফতারের দাবি এই প্রথম এত জোরালোভাবে সামনে এসেছে। এটি মূলত ২০২৪-এর বিপ্লব পরবর্তী 'নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের' এক প্রতিফলন।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) বিকালে রাজধানীর বনানী সামরিক কবরস্থানে পিলখানা হত্যাকাণ্ডের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন ও কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, "চব্বিশের জুলাইয়ে সংঘটিত গণহত্যা ঠেকাতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। তিনি এই গণহত্যার দায় কোনোভাবেই এড়াতে পারেন না।"
নাহিদ ইসলাম আরও যোগ করেন, "আসন্ন সংসদের প্রথম অধিবেশনেই তাঁকে অভিশংসন করতে হবে। এরপর তাঁকে কেবল পদত্যাগ নয়, বরং গণহত্যার দায়ে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে হবে।" বিরোধীদলীয় চিফ হুইপের এই বক্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, আগামী সংসদ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি ইস্যুটিই হতে যাচ্ছে প্রধান আলোচ্য বিষয়।
বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসন করতে হলে সংসদের মোট সদস্য সংখ্যার দুই-তৃতীয়াংশ ভোটের প্রয়োজন হয়। ২০২৬ সালের এই নবনির্বাচিত সংসদে যেখানে একাধিক দলের প্রতিনিধিত্ব রয়েছে, সেখানে নাহিদ ইসলামের এই দাবি কতটুকু সফল হয়, তা নির্ভর করছে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যের ওপর।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ১৯০০ সাল থেকে ২০২৬ সালের দীর্ঘ পথচলায় বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্র অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়েছে। নাহিদ ইসলামের এই দাবি মূলত 'জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা' পূরণের একটি ধাপ। জামায়াতে ইসলামী যেমন রাষ্ট্রপতির 'শপথ ভঙ্গ' নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে, এনসিপি নেতা সেখানে সরাসরি 'গণহত্যার দায়' চাপিয়েছেন। ২০২৬ সালের এই সংসদ কেবল আইন প্রণয়ন নয়, বরং অতীত অপরাধের বিচার ও রাষ্ট্রীয় সংস্কারের এক বড় মঞ্চে পরিণত হতে যাচ্ছে। রাষ্ট্রপতির ভাগ্য এখন সংসদের প্রথম অধিবেশনের ওপরই নির্ভর করছে।
সূত্র: যুগান্তর, এনসিপি মিডিয়া সেল (২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬), সংবিধান ও সংসদীয় সচিবালয় এবং গুগল নিউজ আর্কাইভ।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |