প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: ১৯০০ সালের গোড়ার দিক থেকে বাঙালি জাতিসত্তার যে লড়াই শুরু হয়েছিল, তার চূড়ান্ত রূপ প্রকাশ পায় ১৯৫২-র ভাষা আন্দোলনে। ২০২৬ সালের এই ২১শে ফেব্রুয়ারিতে যখন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঘটা করে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করছে, ঠিক তখনই সেই আন্দোলনের কৃতিত্ব ও ইতিহাস নিয়ে শুরু হয়েছে এক নতুন বিতর্ক। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম নেতা এবং গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক আহ্বায়ক আব্দুল কাদের এক ফেসবুক পোস্টে জামায়াতকে ‘ইতিহাস নিয়ে মিথ্যাচার’ না করার বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
বিংশ শতাব্দীর শুরুতে ১৯০০-এর দশকে যখন বিভিন্ন আদর্শিক লড়াই চলছিল, তখন ‘বাংলা ভাষা’ ছিল বাঙালির অস্তিত্বের প্রশ্ন। ১৯৫২ সালে রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে ডাকসুর তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক হিসেবে গোলাম আজম স্মারকলিপি পাঠ করেছিলেন—জামায়াতের এই পুরনো দাবিকে আব্দুল কাদের ‘জঘন্য মিথ্যাচার’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। ২০২৬ সালের এই ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে তিনি স্পষ্টভাবে বলেন যে, জামায়াত নিজেদের রাজনীতিতে পরিবর্তনের চেষ্টা করলেও ঐতিহাসিক তথ্যের বিকৃতি কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।
আব্দুল কাদের তাঁর পোস্টে উল্লেখ করেন, “বাধ্য হয়ে হোক আর যেভাবেই হোক, জামায়াত-শিবির তাদের রাজনীতিতে পরিবর্তন আনতেছে, তাদেরকে স্বাগত জানাই।” তবে এই পরিবর্তনের পাশাপাশি তিনি একটি কঠোর তুলনা টেনেছেন। তিনি মনে করেন, জামায়াতের মানসিকতা অনেকটা ‘ইসরাইলি ইহুদিদের’ মতো, যারা মানবিক আশ্রয়ের সুযোগ নিয়ে পরবর্তীতে জোরপূর্বক দখলদারিত্বের চেষ্টা করে। ৫ই আগস্ট পরবর্তী সময়ে আবরার ফাহাদ থেকে শুরু করে বিভিন্ন আন্দোলনের ক্রেডিট এককভাবে নেওয়ার চেষ্টাকে তিনি ‘নোংরামি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
বিগত কয়েক দশকে জামায়াতে ইসলামী ও শিবিরের পক্ষ থেকে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণকে ‘নাজায়েজ’ বা অনৈসলামিক হিসেবে প্রচার করার একটি ধারা ছিল। ১৯০০ সাল থেকে চলে আসা ধর্মীয় রক্ষণশীলতার সেই দেয়াল ভেঙে ২০২৬ সালে জামায়াত যখন আধুনিক রাজনৈতিক ধারায় শামিল হয়ে শহীদ মিনারে ফুল দিচ্ছে, তখন আব্দুল কাদের প্রশ্ন তুলেছেন—সেটিকে ‘অতিরিক্ত জায়েজ’ করার জন্য কি গোলাম আজমকে জোর করে ভাষা সৈনিক বানানোর প্রয়োজন আছে?
আব্দুল কাদেরের এই হুঁশিয়ারি প্রমাণ করে যে, ২০২৪-এর বিপ্লব পরবর্তী বাংলাদেশে জামায়াত একটি বড় শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হলেও নতুন প্রজন্মের ছাত্র নেতৃত্ব (এনসিপি ও অন্যান্য) তাঁদের প্রতিটি পদক্ষেপ কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার যখন একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়তে চাচ্ছে, তখন ইতিহাসের সত্যতা নিয়ে এই বিতর্ক রাজনীতির মাঠে নতুন মেরুকরণ তৈরি করতে পারে।
বিশ্লেষণ: আব্দুল কাদেরের এই স্ট্যাটাসটি ২০২৬ সালের রাজনীতির একটি বড় দিক উন্মোচন করে। ১৯০০ থেকে ২০২৬—এই দীর্ঘ সময়ে রাজনৈতিক দলগুলো অনেক সময় নিজেদের প্রয়োজনে ইতিহাসকে ব্যবহার করেছে। কিন্তু বর্তমানের ‘সচেতন জেনারেশন’ কেবল পরিবর্তনের স্বাগত জানায় না, বরং সেই পরিবর্তনের ভেতরে যদি ‘ইতিহাস বিকৃতি’ থাকে, তবে তা মোকাবিলা করতেও প্রস্তুত। জামায়াত আমিরের ‘সংশোধিত’ হওয়ার আহ্বানের বিপরীতে মাঠ পর্যায়ের নেতাদের এই পাল্টাপাল্টি অবস্থান রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি নতুন চ্যালেঞ্জ।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |