প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঢাকা: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম দিনটি কেবল রাজনৈতিক নাটকীয়তা নয়, বরং এক ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে রইল। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সকালে শপথ নিতে সংসদ ভবনে এক অভূতপূর্ব দৃশ্যের অবতারণা করেন কুমিল্লা-৪ আসন থেকে নির্বাচিত জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) অন্যতম শীর্ষ নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ। প্রথাগত স্যুট বা পাজামা-পাঞ্জাবি ছেড়ে তিনি সংসদে প্রবেশ করেছেন ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সেই স্মৃতিবিজড়িত ‘ঐতিহাসিক’ জার্সিটি পরে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগো সংবলিত এই সবুজ জার্সিটি হাসনাত আব্দুল্লাহর আন্দোলনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ২০২৪-এর উত্তাল জুলাইয়ে রাজপথ থেকে শুরু করে অন্তর্বর্তী সরকারের শপথ অনুষ্ঠান এবং পরবর্তীতে এনসিপির আত্মপ্রকাশ—প্রতিটি বড় বাঁকে তাকে এই জার্সিতেই দেখা গেছে। আজ সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার দিনেও সেই 'বিপ্লবের পোশাক' পরে তিনি জানান দিলেন, জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নই তার মূল লক্ষ্য।
সংসদ ভবনের ভেতরে যখন হাসনাত আব্দুল্লাহর জার্সি নিয়ে আলোচনা, তখন বাইরে দানা বেঁধেছে নতুন রাজনৈতিক সংকট। বিএনপি ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’-এর সদস্য হিসেবে আলাদাভাবে শপথ নিতে অস্বীকার করায় পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে শপথ বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে ১১-দলীয় জোট। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ফেসবুকে জানিয়েছেন,
‘আইন অনুযায়ী বিএনপি সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নেওয়ায় কোনো শপথই নেবে না ১১-দলীয় জোট।’
আরেকটি পোস্টে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন, ‘গণভোটের জনরায়কে প্রথম দিনেই বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে শুরু হলো নতুন সংসদের যাত্রা।’
বিএনপির এই অবস্থানের কড়া সমালোচনা করেছেন ডাকসু ভিপি ও শিবিরের নেতা আবু সাদেক কায়েম। তিনি সতর্ক করে বলেন, বিএনপি যদি সিদ্ধান্ত থেকে সরে না আসে তবে ‘জুলাই প্রজন্ম’ রাজপথে নেমে জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়ন করবে। এই মন্তব্যের পর রাজপথ ও সংসদের ভেতরে-বাইরে এক ধরনের স্নায়ুযুদ্ধ শুরু হয়েছে।
শপথ নিয়ে বিতর্কের মাঝেই বেলা ১১টা ৩০ মিনিটে বিএনপির সংসদীয় দল সর্বসম্মতিক্রমে দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে সংসদীয় দলের নেতা ও হবু প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত করেছে। একই সঙ্গে দলটি ঘোষণা করেছে যে, তাদের কোনো সংসদ সদস্য শুল্কমুক্ত (ট্যাক্স ফ্রি) গাড়ি বা সরকারি কোনো প্লট গ্রহণ করবেন না।
১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ থেকে শুরু করে ১৯৪০-এর লাহোর প্রস্তাবের মধ্য দিয়ে যে স্বতন্ত্র পরিচয়ের লড়াই শুরু হয়েছিল, তা পূর্ণতা পায় ১৯৭১ সালে। কিন্তু গত ১৫ বছরের একদলীয় শাসনের পর ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান দেশের শাসন ব্যবস্থাকে আমূল বদলে দেয়। ২০২৬ সালের এই নির্বাচন এবং হাসনাত আব্দুল্লাহর সেই জার্সি পরে সংসদে আসা—সবই সেই নতুন বাংলাদেশেরই প্রতিচ্ছবি।
১৯০০ সাল থেকে ২০২৬—এই দীর্ঘ যাত্রায় আজকের দিনটি বাংলাদেশের রাজনীতির জন্য যেমন আশার, তেমনি চ্যালেঞ্জের। একদিকে তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকারের যাত্রা এবং বিলাসিতা বর্জনের ঘোষণা, অন্যদিকে এনসিপি নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহর প্রতীকি অবস্থান ও ১১-দলীয় জোটের শপথ বর্জন—এই বহুমুখী মেরুকরণ আগামী দিনের গণতন্ত্রকে কোন দিকে নিয়ে যায়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
সূত্র: বাসস, কালবেলা, বার্তা২৪, দৈনিক যুগান্তর আর্কাইভ, আসিফ মাহমুদ ও আবু সাদেক কায়েমের ফেসবুক পেজ এবং সংসদ সচিবালয় প্রেস উইং।
বিশ্লেষণ ও প্রতিবেদন: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |