প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঢাকা: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম দিনেই বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক নজিরবিহীন সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক সংকট ঘনীভূত হয়েছে। বিএনপি ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’-এর সদস্য হিসেবে শপথ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ না নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোট। আজ মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) দুপুরে এই ঘোষণা আসার পর নতুন সংসদের ভবিষ্যৎ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় শুরু হয়েছে।
আজ সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে বিএনপি থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা সাধারণ এমপি হিসেবে শপথ নিলেও তারা ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’-এর সদস্য হিসেবে আলাদা শপথ নিতে অস্বীকার করেন। এর প্রেক্ষিতে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক অন্যতম সদস্য আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে সাফ জানিয়ে দেন,
‘আইন অনুযায়ী বিএনপি সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নেওয়ায় কোনো শপথই নেবে না ১১-দলীয় জোট।’
আরেকটি পোস্টে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন, ‘গণভোটের জনরায়কে প্রথম দিনেই বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে শুরু হলো নতুন সংসদের যাত্রা।’ রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত গণভোটে ‘জুলাই সনদ’ বা সংবিধান সংস্কারের পক্ষে যে রায় এসেছে, বিএনপি তা গ্রহণে অনীহা দেখানোয় এই সংকটের সূত্রপাত।
বিএনপির এই অবস্থানের কড়া সমালোচনা করেছেন ডাকসু ভিপি ও শিবিরের নেতা আবু সাদেক কায়েম। তিনি তার ফেসবুক পোস্টে সতর্ক করে বলেন,
"জনরায়কে উপেক্ষা করে বিএনপির এই অবস্থান দলটির সংস্কারবিরোধী মনোভাবকে স্পষ্ট করেছে। এমন সিদ্ধান্ত দেশে বিদ্যমান ফ্যাসিবাদী কাঠামো অটুট রাখার ইঙ্গিত দেয়। বিএনপি সিদ্ধান্ত থেকে সরে না এলে ‘জুলাই প্রজন্ম’ রাজপথে নেমে জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়ন করবে, ইনশাআল্লাহ।"
শপথের আগে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের বিষয়টি বর্তমানে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত নেই। তিনি দাবি করেন, বিদ্যমান সংবিধানের তৃতীয় তফসিলে এ ধরনের কোনো শপথের ফরম নেই। তাই এটি সংবিধানসম্মত নয়। ছাত্রদল নেতা শেখ তানভীর বারী হামিমও একই সুরে জানিয়েছেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনারের এ ধরনের শপথ পড়ানোর কোনো এখতিয়ার নেই।
সংসদে এই জটিলতার মধ্যেই বেলা ১১টা ৩০ মিনিটে বিএনপির সংসদীয় দল এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসে। সেই বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে সংসদীয় দলের নেতা ও হবু প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে। বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
বিকেলের মন্ত্রিসভার শপথ ঘিরে বড় খবর হলো, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্তির জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। পটুয়াখালী-৩ আসন থেকে ‘ট্রাক’ প্রতীকে নির্বাচিত এই তরুণ নেতাকে শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।
বাংলাদেশের স্বাধীনতার আগের ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ থেকে শুরু করে ১৯৪০-এর লাহোর প্রস্তাবের মধ্য দিয়ে যে স্বতন্ত্র পরিচয়ের লড়াই শুরু হয়েছিল, তা পূর্ণতা পায় ১৯৭১ সালে। কিন্তু গত ১৫ বছরের একদলীয় শাসনের পর ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান দেশের শাসন ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ আমূল বদলে দেয়। ২০২৬ সালের এই নির্বাচন এবং আজকের এই শপথ গ্রহণ ছিল সেই পরিবর্তনের চূড়ান্ত ধাপ। তবে প্রথম দিনেই বিএনপি ও ১১-দলীয় জোটের বিপরীতমুখী অবস্থান গণতন্ত্রের পথে নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিলাসিতা বর্জনের ঘোষণা দিয়ে বিএনপি আজ এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। দলের কোনো সংসদ সদস্য শুল্কমুক্ত (ট্যাক্স ফ্রি) গাড়ি বা সরকারি প্লট নেবেন না বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জনগণের অর্থের অপচয় রোধেই এই সিদ্ধান্ত বলে জানানো হয়েছে।
১৯০০ সাল থেকে ২০২৬—এই দীর্ঘ যাত্রায় আজকের দিনটি বাংলাদেশের রাজনীতির জন্য যেমন আশার, তেমনি গভীর সংকটের। একদিকে তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকারের যাত্রা শুরুর প্রস্তুতি, অন্যদিকে ১১-দলীয় জোটের শপথ বর্জনের ঘোষণা এবং জুলাই প্রজন্মের রাজপথের আন্দোলনের হুঁশিয়ারি—এই তিন মেরুর টানাপোড়েন আগামী দিনের রাজনীতিকে কোন দিকে নিয়ে যায়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
সূত্র: * আসিফ মাহমুদের ফেসবুক পেজ, আবু সাদেক কায়েমের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজ, দৈনিক যুগান্তর আর্কাইভ, বাংলাদেশ প্রতিদিন অনলাইন, বাসস এবং বিএনপির মিডিয়া সেল।
বিশ্লেষণ ও প্রতিবেদন: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |