প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঢাকা: সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নবনির্বাচিত সদস্যরা। আজ মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) দুপুর ১২টার কিছু পর শেরেবাংলা নগরের জাতীয় সংসদ ভবনের শপথ কক্ষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের কাছে তারা শপথ বাক্য পাঠ করেন।
সকাল থেকে শপথ গ্রহণ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে এক ধরনের অনিশ্চয়তা কাজ করছিল। বিশেষ করে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ বা 'জুলাই সনদ' অনুযায়ী আলাদা শপথ গ্রহণ ইস্যুতে জামায়াতের অবস্থান নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়। তবে শেষ মুহূর্তে দলের সংসদীয় দলের জরুরি বৈঠকের পর তারা শপথ নেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন।
আজ সকাল ৯টা থেকেই সংসদ ভবনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের আনাগোনা শুরু হয়। পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী সকাল ১০টায় বিএনপির এমপিরা শপথ নিলেও জামায়াতের শপথ গ্রহণ নিয়ে কিছুটা বিলম্ব ঘটে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবিত ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’-এর সদস্য হিসেবে আলাদাভাবে শপথ নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে দলের ভেতরে আইনি ও রাজনৈতিক বিতর্ক দেখা দেয়।
বিএনপি এই সংস্কার পরিষদের শপথকে ‘অসাংবিধানিক’ আখ্যা দিয়ে তা বর্জন করলে জামায়াতও কৌশলগত কারণে সিদ্ধান্ত নিতে বিলম্ব করে। এরপর সংসদ ভবনের ভেতরেই জামায়াতের নবনির্বাচিত এমপিরা এক জরুরি বৈঠকে বসেন। বৈঠক শেষে দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান জানান, দেশের স্থিতিশীলতা এবং গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে বেগবান করতে তারা সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
শপথ গ্রহণ শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন,
"আমরা জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধি। সংবিধান সংস্কার বা যেকোনো মৌলিক পরিবর্তনের প্রক্রিয়া সংসদেই আলোচনা হওয়া উচিত। আমরা সংসদের ভেতর ও বাইরে দেশ সংস্কারের পক্ষে কাজ করব। অনিশ্চয়তা কাটিয়ে আজ আমরা শপথ নিয়েছি মানুষের অধিকার আদায়ের লড়াইকে ত্বরান্বিত করতে।"
প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন জানান, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সকল দলের অংশগ্রহণ জরুরি। একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পর আজ সংসদ সদস্যরা শপথ নিলেন, যা দেশের জন্য একটি বড় অর্জন।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায়, ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ থেকে শুরু করে ১৯৪০-এর লাহোর প্রস্তাব পর্যন্ত বাঙালির যে রাজনৈতিক সচেতনতা, তা ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে পূর্ণতা পায়। তবে বিগত ১৫ বছরের একদলীয় শাসনের পর ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান এবং ২০২৬-এর আজকের এই শপথ গ্রহণ এক নতুন মাইলফলক।
স্মরণীয় তারিখ: এর আগে ২০১৮ সালের নির্বাচনে জামায়াত ও বিএনপি অংশ নিলেও কারচুপির অভিযোগে তা প্রত্যাখ্যান করেছিল। কিন্তু ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচন এবং আজকের ১৭ ফেব্রুয়ারির শপথ গ্রহণকে বিশ্লেষকরা গণতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠা হিসেবে দেখছেন।
শপথ গ্রহণ উপলক্ষে সংসদ ও এর আশপাশের এলাকায় ছিল অভূতপূর্ব নিরাপত্তা। সাধারণ মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। ১৫ বছর পর দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর এই প্রত্যাবর্তনকে স্বাগত জানাচ্ছে সাধারণ জনগণ। বিকেলে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নতুন মন্ত্রিসভার শপথ নেওয়ার কথা রয়েছে, যা সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হবে।
সূত্র: * বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস), দৈনিক যুগান্তর অনলাইন, বাংলাদেশ প্রতিদিন আর্কাইভ ও সংসদ সচিবালয় সংবাদ বিজ্ঞপ্তি।
বিশ্লেষণ ও প্রতিবেদন: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |