ত্রয়োদশ সংসদ: জুলাই বিপ্লবের নায়কদের জয়জয়কার, বিজয়ীদের তালিকায় যারা রয়েছেন
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ২০২৬ সাল এক অনন্য মাইলফলক হয়ে থাকবে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এবার জয়ী হয়েছেন একঝাঁক স্বপ্নবাজ তরুণ-তরুণী। যারা কেবল বয়সেই তরুণ নন, বরং চিন্তা ও চেতনায় নতুন এক বৈষম্যহীন বাংলাদেশের কারিগর। বিগত দেড় দশকের স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটিয়ে ছাত্র-জনতার যে গণঅভ্যুত্থান হয়েছিল, তারই প্রতিফলন দেখা গেছে এবারের ব্যালট বিপ্লবে। দেশবাসী এবার সংসদে দেখতে পাবেন নানা শ্রেণি, পেশা এবং বিভিন্ন বয়সের জনপ্রতিনিধিদের, যা বহুবছর পর একটি সত্যিকারের অংশগ্রহণমূলক সংসদের জানান দিচ্ছে।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে যারা নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, তাদের অনেকেই এবার সরাসরি জনগণের রায়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ব্যানারে তরুণদের এই বিজয়কে ঐতিহাসিক বলে মনে করা হচ্ছে।
নাহিদ ইসলাম (ঢাকা-১১): এনসিপির এই আহ্বায়ক ঢাকা-১১ আসনে শাপলা কলি প্রতীকে ২ হাজার ৩৯ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি শুরু থেকেই স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে রাজপথে সোচ্চার ছিলেন।
হাসনাত আব্দুল্লাহ (কুমিল্লা-৪): জুলাই বিপ্লবের অন্যতম প্রধান মুখ হাসনাত আব্দুল্লাহ কুমিল্লা-৪ আসন থেকে বিশাল ব্যবধানে জয়ী হয়ে সংসদে আসছেন।
আখতার হোসেন (রংপুর-৪): এনসিপির সদস্য সচিব ও ডাকসুর সাবেক সমাজসেবা সম্পাদক আখতার হোসেন উত্তরবঙ্গের গুরুত্বপূর্ণ আসন থেকে বিজয় লাভ করেছেন।
এছাড়াও রয়েছেন হান্নান মাসউদ (নোয়াখালী-৬), ড. আতিকুর রহমান মোজাহিদ (কুড়িগ্রাম-২) এবং আব্দুল্লাহ আল-আমিন—যারা প্রত্যেকেই রাজপথের পরীক্ষিত নেতা।
বিএনপি এবং তাদের মিত্রদের সমর্থনে এবার অনেক নতুন মুখ সংসদ আলোকিত করবেন।
ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন (ঢাকা-৬): অবিভক্ত ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার ছেলে ইশরাক হোসেন ধানের শীষ প্রতীকে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি বলেন, "বাবার স্বপ্ন পূরণে এবং ঢাকাবাসীর নাগরিক অধিকার আদায়ে আমি আপসহীন থাকব।"
হুম্মাম কাদের চৌধুরী (চট্টগ্রাম-৭): বিতর্কিত যুদ্ধাপরাধ মামলায় দণ্ডিত সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছেলে হুম্মাম কাদের চৌধুরী চট্টগ্রাম থেকে জয়ী হয়েছেন।
অন্যান্য বিশিষ্ট মুখ: সংসদীয় রাজনীতির অভিজ্ঞ টকশো ব্যক্তিত্ব ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ (ভোলা-১), ববি হাজ্জাজ (ঢাকা-১৩), গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬), গণঅধিকার পরিষদের নুরুল হক নুর এবং স্বতন্ত্র হিসেবে জয়ী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে এবার বেশ কয়েকজন আলোচিত ও তরুণ ব্যক্তিত্ব দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে বিজয়ী হয়েছেন।
ব্যারিস্টার মীর আহমেদ বিন কাশেম আরমান (ঢাকা-১৪): দীর্ঘ আট বছর আয়না ঘরে বন্দি থাকার পর মুক্তি পাওয়া ব্যারিস্টার আরমান রাজধানী ঢাকা থেকে জয়ী হয়েছেন।
ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান (পাবনা-১): মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর ছেলে এবং পেশায় আইনজীবী নাজিবুর রহমান নিজ আসন থেকে জয়লাভ করেছেন।
আলোচিত বক্তা ও অন্যান্য: কুষ্টিয়া-৩ আসন থেকে জনপ্রিয় বক্তা আমির হামজা এবং পিরোজপুর-১ থেকে মাসুদ সাঈদী জয়ী হয়েছেন। এছাড়াও ছাত্রশিবিরের সাবেক দুই সভাপতি রাশেদুল ইসলাম রাশেদ (শেরপুর-১) এবং মো. সালাউদ্দিন (গাজীপুর-৪) বিজয়ী হয়ে চমক সৃষ্টি করেছেন।
বাংলার রাজনীতির এই পটপরিবর্তন হুট করে আসেনি। ১৯০০ সালের ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের সময় থেকেই এ অঞ্চলের মানুষের মাঝে স্বাধিকারের চেতনা দানা বাঁধতে শুরু করে। ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে আমরা একটি স্বাধীন রাষ্ট্র পাই। ১৯৭৫-এর রাজনৈতিক ট্র্যাজেডি এবং ৯০-এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের পর ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান ছিল বাংলাদেশের দ্বিতীয় স্বাধীনতা হিসেবে পরিচিত। ২০২৫ সাল ছিল সংস্কারের বছর এবং ২০২৬-এর এই ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন সেই সংস্কারের ফসল।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও টেলিভিশন টকশোতে সরব এই তরুণ নেতারা বারবার একটি কথাই বলছেন—"সুশাসন ও বৈষম্যহীন রাজনীতি"। পুরাতন ধারার নোংরা রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসে তারা নতুন এক দেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। তরুণ ভোটাররা মনে করেন, এই নতুন প্রতিনিধিরা আসন্ন সংসদ অধিবেশনে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখবেন।
সূত্র: জাতীয় নির্বাচন কমিশন (EC) ফলাফল ২০২২-২০২৬, যুগান্তর আর্কাইভ, বাসস এবং বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম।
বিশ্লেষণ: এবারের নির্বাচনে প্রথাগত বড় রাজনৈতিক নেতাদের পাশাপাশি তরুণ ও শিক্ষিত প্রতিনিধিদের জয়লাভ করা বাংলাদেশের রাজনীতির গুণগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। বিশেষ করে যারা অতীতে গুম, নির্যাতন বা মামলা-হামলার শিকার হয়েছেন, তাদের এই জয় জনরায়ের এক নতুন প্রতিফলন।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |