প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র ৩ দিন বাকি থাকতে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা এবং নির্বাচন কমিশনের ‘হঠাৎ সিদ্ধান্ত’ নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে ১১ দলীয় নির্বাচনি জোট। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) বিকেলে আগারগাঁওয়ের নির্বাচন কমিশন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন জোটের অন্যতম শীর্ষ নেতা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
তিনি অভিযোগ করেন, মাঠ পর্যায়ের কিছু কর্মকর্তার আচরণ ‘অস্বাভাবিক’ এবং তারা নির্দিষ্ট কোনো দলের হয়ে ভোটার ও ব্যবসায়ীদের ওপর প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন।
বাঙালির রাজনৈতিক ইতিহাসে ১৯০০ সালের ব্রিটিশ আমল থেকে শুরু করে ১৯৫২, ১৯৭১ এবং ২০২৪ সালের অভ্যুত্থান—প্রতিটি বড় পরিবর্তনের মূলে ছিল একটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ শাসনব্যবস্থার দাবি। আসিফ মাহমুদ তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, বিগত দিনের ফ্যাসিবাদী শাসনের অবশেষ এখনও প্রশাসনে রয়ে গেছে। ১৯০০ সাল থেকে চলে আসা এই জনপদের মানুষের আকাঙ্ক্ষা ছিল এমন একটি নির্বাচন কমিশন, যা কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর প্রেসক্রিপশনে চলবে না। কিন্তু বর্তমানে কিছু কর্মকর্তার আচরণে মনে হচ্ছে তারা এখনও একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের ‘বিশেষ সুবিধা’ নিশ্চিত করতে কাজ করছেন।
নির্বাচন কমিশন কর্তৃক ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে মোবাইল ফোন ব্যবহারের ওপর হঠাৎ জারি করা নিষেধাজ্ঞাকে ‘অনাকাঙ্ক্ষিত’ বলে অভিহিত করেন আসিফ মাহমুদ। তিনি বলেন, “এ ধরনের বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করা জরুরি ছিল। এমন ‘সারপ্রাইজ ডিসিশন’ নির্বাচনি পরিবেশকে উত্তপ্ত করতে পারে।”
তবে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের জানান, বৈঠকের পর কমিশন এই বিতর্কিত সিদ্ধান্তটি প্রত্যাহারের আশ্বাস দিয়েছে। ভোটাররা মোবাইল সঙ্গে নিয়ে যেতে পারলেও কেন্দ্রের ভেতরে ব্যবহারে কিছু বিধিনিষেধ থাকবে।
আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া সরাসরি অভিযোগ করেন যে, কোনো একটি নির্দিষ্ট দলের প্রার্থীকে শোকজ করার পরপরই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, “স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় বদলি হওয়ার কথা থাকলেও দেখা যাচ্ছে একটি দলকে সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। আমরা নির্দিষ্ট কিছু কর্মকর্তার তালিকা কমিশনকে দিয়েছি এবং তাদের অপসারণের দাবি জানিয়েছি।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বর্তমানে নির্বাচন কমিশন, জনপ্রশাসন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব রয়েছে। এছাড়া প্রার্থীদের লিখিত অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য একটি বিশেষ ‘টাস্কফোর্স’ গঠনেরও দাবি জানান তিনি।
বৈঠকে আসিফ মাহমুদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন জামায়াত নেতা এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মাওলানা তোফাজ্জল হোসেন মিয়া এবং জাগপার নজরুল ইসলাম বাবলু। তারা সবাই একমত পোষণ করেন যে, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে গ্রহণযোগ্য করতে হলে কমিশনকে শেষ মুহূর্তে কঠোর নিরপেক্ষতা প্রদর্শন করতে হবে।
সূত্র: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস), নির্বাচন কমিশন সচিবালয়, এনসিপি মিডিয়া উইং এবং ২০২৬ নির্বাচনের মাঠ পর্যায়ের সংবাদ।
বিশ্লেষণ ও প্রতিবেদন: এই প্রতিবেদনটি ১৯০০ সাল থেকে ২০২৬ সালের রাজনৈতিক বিবর্তন মাথায় রেখে তৈরি করা হয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের পর ২০২৬ সালের এই নির্বাচনটি বাংলাদেশের জন্য একটি ‘এসিড টেস্ট’। আসিফ মাহমুদের এই বক্তব্য মূলত তরুণ প্রজন্মের সেই আকাঙ্ক্ষাকেই প্রতিফলিত করে, যেখানে তারা একটি পেশাদার ও নির্দলীয় প্রশাসন দেখতে চায়।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |