প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে উত্তাল উত্তরের জনপদ কুড়িগ্রাম। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) দুপুরে কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ মাঠে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান আগামী দিনের নতুন বাংলাদেশের রূপরেখা তুলে ধরেন। তিনি কুড়িগ্রামকে কৃষি শিল্পের রাজধানী করার প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পাশাপাশি বিগত শাসনামলে পাচারকৃত অর্থ ফিরিয়ে আনার কঠোর ঘোষণা দেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, "কুড়িগ্রাম দেশের সবচেয়ে পিছিয়ে পড়া জনপদ। এই জেলা থেকেই শুরু হবে আমাদের উন্নয়নের যাত্রা। বঞ্চিতদের আর মিছিল করতে হবে না, কারণ উন্নয়ন করা আমাদের ইমানি দায়িত্ব।" তিনি জেলাটিকে কৃষি শিল্পের রাজধানীতে পরিণত করার ঘোষণা দিয়ে বলেন, কৃষি বিপ্লব সফল হলে এ অঞ্চলের বেকারত্ব দূর হবে এবং সাধারণ মানুষ কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবে।
কুড়িগ্রামের তিনটি প্রধান নদী (ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা ও ধরলা) নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করে তিনি বলেন, "নদীগুলোকে হত্যা করে মরুভূমি বানানো হয়েছে। গত ১৫ বছরে ২৮ লাখ কোটি টাকা চুরি করে বিদেশে পাচার করা হয়েছে। আমাদের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় যাওয়ার সুযোগ দিলে পেটে হাত ঢুকিয়ে এই টাকা বের করে আনব।" তিনি আরও যোগ করেন যে, কোনো নদী ভাঙন ও শাসনের নামে বাজেট চুরি আর বরদাশত করা হবে না।
বক্তব্যে তিনি ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণ করে বলেন, "রংপুরের সন্তান আবু সাঈদ বুক পেতে দিয়ে অধিকারের দাবি তুলেছিলেন। ১ হাজার ৪০০ শহীদের রক্তের সঙ্গে আমরা বিশ্বাসঘাতকতা করব না।" শহীদদের স্বপ্ন অনুযায়ী একটি বৈষম্যমুক্ত ও ইনসাফভিত্তিক স্বাধীন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। জামায়াত আমির স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তারা কোনো দলীয় রাষ্ট্র বা জমিদারতন্ত্র চান না, বরং ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চান।
কুড়িগ্রাম ও বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়:
১৯০০-১৯৪৭: ব্রিটিশ আমল থেকেই উত্তরের এই জনপদ কৃষি ও নদীবন্দরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ থাকলেও ১৯৪৭ পরবর্তী সময়ে এটি অবহেলার শিকার হয়।
১৯৭১ ও বঞ্চনার ইতিহাস: স্বাধীনতার পর কুড়িগ্রাম বারবার মঙ্গা ও নদী ভাঙনের কবলে পড়েছে। ১৯৭৪-এর দুর্ভিক্ষে এই অঞ্চলের মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।
২০২৪-২০২৬: ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পর রাষ্ট্র সংস্কারের যে দাবি উঠেছে, তারই ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্যে এই দীর্ঘ সময়ের বঞ্চনা ঘোচানোর প্রতিশ্রুতি উঠে এসেছে।
নারীদের সম্মান ও হিজাব নিয়ে কটাক্ষকারীদের হুঁশিয়ার করে তিনি বলেন, "মায়ের জাতের গায়ে হাত দেওয়া বা হিজাব খুলতে চাওয়া ব্যক্তিদের ক্ষমা করা হবে না। জামায়াত ক্ষমতা পেলে নারীদের শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।"
জনসভা শেষে তিনি কুড়িগ্রামের বিভিন্ন আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন:
কুড়িগ্রাম-১: আনোয়ারুল ইসলাম (জামায়াত)
কুড়িগ্রাম-৩: মাহবুবুল আলম সালেহী (জামায়াত)
কুড়িগ্রাম-৪: মোস্তাফিজুর রহমান (জামায়াত)
কুড়িগ্রাম-২: ড. আতিকুর রহমান (এনসিপি - শাপলা কলি প্রতীক)
২০২৬-এর নির্বাচনে কুড়িগ্রামের রাজনৈতিক সমীকরণ এখন জোটবদ্ধ শক্তির দিকে ঝুঁকছে। জামায়াতে ইসলামীর আমিরের এই বিশাল জনসভা এবং ১১ দলীয় জোটের প্রচার এই জনপদে নতুন মেরুকরণ তৈরি করেছে। দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গড়ার অঙ্গীকার ভোটারদের মাঝে কতটা প্রভাব ফেলে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
সূত্র: যুগান্তর, প্রথম আলো, বাসস এবং ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর মাঠ পর্যায়ের নির্বাচনি সংবাদ।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |