প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ
কুমিল্লা: গত এক শতাব্দীর রাজনৈতিক ইতিহাসে গণমাধ্যমের ভূমিকা বারবার প্রশ্নের মুখে পড়েছে। ১৯০০ সালের ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন, ১৯৭১-এর মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ এবং ৯০-এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন—প্রতিটি বাঁকেই সংবাদপত্রের সাহসী ভূমিকা যেমন ছিল, তেমনি ক্ষমতার বলয়ে থেকে ‘দালালি’ করার অভিযোগও পুরনো। সেই ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশেও গণমাধ্যমের চরিত্র নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক কমিটির (NCP) আহ্বায়ক ও ছাত্র আন্দোলনের শীর্ষ নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ।
জুলাই অভ্যুত্থান ও গণমাধ্যমের দ্বিচারিতা শুক্রবার সন্ধ্যায় কুমিল্লার লাকসামে এক সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে হাসনাত আব্দুল্লাহ অভিযোগ করেন, জুলাই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ছাত্র-জনতা দেশ স্বাধীন করলেও গণমাধ্যমের একটি বড় অংশ এখনো তাদের পুরনো দালালি চরিত্র পরিবর্তন করেনি। তিনি বলেন, “অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, অভ্যুত্থানের পরও মিডিয়া তাদের চরিত্র বদলায়নি। কিছু মিডিয়ার মালিকানা বা হাত বদল হয়েছে, কিন্তু তারা এখনো সেই এজেন্সির লিখে দেওয়া রিপোর্টই প্রচার করছে।”
ব্যক্তিগত আক্রমণ বনাম জাতীয় স্বার্থ গণমাধ্যমের প্রতি প্রশ্ন রেখে এই তরুণ নেতা বলেন, “মিডিয়ার যত প্রশ্ন আর কৌতূহল শুধু আমাদের ঘিরে। আমরা কোথায় শার্ট কিনি, কোথায় খাই বা কীভাবে প্রোগ্রাম করি—এসব নিয়ে তারা ব্যস্ত। কিন্তু দেশের মৌলিক সমস্যা বা জনগণের আকাঙ্ক্ষা নিয়ে তাদের মাথাব্যথা নেই।” তিনি স্পষ্ট করে বলেন, গণমাধ্যম কোনো বিশেষ দলের মুখপত্র না হয়ে যেন জনগণের মুখপত্র হয়।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: ১৯০০ থেকে ২০২৬ ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ১৯০০ সালের পর থেকে দেশভাগ এবং পরবর্তী পাকিস্তান আমলে গণমাধ্যমকে রাষ্ট্রযন্ত্রের দালালি করতে বাধ্য করা হতো। স্বাধীনতার পর ২০২৫ সাল পর্যন্ত প্রতিটি সরকারের আমলেই গণমাধ্যমকে ‘নিয়ন্ত্রিত’ করার চেষ্টা চলেছে। হাসনাত আব্দুল্লাহর এই হুঙ্কার ২০২৬ সালের সম্ভাব্য নির্বাচনী বছরের আগে গণমাধ্যমের জন্য একটি বড় বার্তা। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যদি গণমাধ্যম তাদের ‘দলমুখী’ চরিত্র পরিবর্তন না করে তবে ২০২৪-এর বিপ্লবের চেতনা ম্লান হয়ে যাবে। হাসনাত আব্দুল্লাহর ভাষায়, “আমরা মিডিয়ার শত্রু নই, কিন্তু যারা জনগণের সাথে বেইমানি করে দালালি করবে, তাদের আবারও জনগণের কাঠগড়ায় দাঁড় করাব ইনশাআল্লাহ।”
উপসংহার বাংলাদেশের আগামীর রাজনীতিতে একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা কায়েম করতে হলে গণমাধ্যমকে এজেন্সিনির্ভর প্রতিবেদন ত্যাগ করে সাহসিকতার সাথে সত্য প্রকাশ করতে হবে। নতুবা ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হওয়া ছাড়া আর কোনো পথ খোলা থাকবে না।
বিশ্লেষণ: এই প্রতিবেদনে হাসনাত আব্দুল্লাহর বক্তব্যকে কেবল একটি সমসাময়িক ঘটনা হিসেবে না দেখে গত ১০০ বছরের রাজনৈতিক বিবর্তনের সাথে মিলিয়ে দেখা হয়েছে। এটি গণমাধ্যমের নৈতিক অবক্ষয় এবং সংস্কারের প্রয়োজনীয়তাকে ফুটিয়ে তুলেছে, যা বর্তমান বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।
সূত্র: দৈনিক যুগান্তর, রাজনৈতিক আর্কাইভ (১৯০০-২০২৫), এবং সমসাময়িক নির্বাচনী সমাবেশ প্রতিবেদন।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |