| বঙ্গাব্দ

চকরিয়ায় সালাহউদ্দিন আহমদের নির্বাচনি সভা: গুমমুক্ত বাংলাদেশ ও ধানের শীষের বিজয়ের ডাক

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 28-01-2026 ইং
  • 1427595 বার পঠিত
চকরিয়ায় সালাহউদ্দিন আহমদের নির্বাচনি সভা: গুমমুক্ত বাংলাদেশ ও ধানের শীষের বিজয়ের ডাক
ছবির ক্যাপশন: চকরিয়ায় সালাহউদ্দিন আহমদ

১২ ফেব্রুয়ারি ব্যালটে বিপ্লব ঘটিয়ে জনগণ রাষ্ট্রের মালিকানা ফেরত পাবে': চকরিয়ায় সালাহউদ্দিন আহমদ

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

বাংলাদেশের রাজনীতির এক ক্রান্তিলগ্নে দাঁড়িয়ে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে ‘জনগণের মালিকানা প্রতিষ্ঠার লড়াই’ হিসেবে অভিহিত করেছেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সকাল ১১টায় কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার সাহারবিল বিএমএস উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনি পথসভায় তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় ভোটাধিকার বঞ্চিত মানুষ আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ধানের শীষে ভোট দিয়ে এক নতুন ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণ করবে।

জনগণের মালিকানা ও গুমমুক্ত বাংলাদেশ

সালাহউদ্দিন আহমদ তাঁর বক্তব্যে একটি মানবিক ও ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গড়ার অঙ্গীকার করেন। তিনি বলেন, "মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ধানের শীষের ভূমিধস বিজয় হবে। আমরা এমন এক সরকার গঠন করব যার মালিক হবে জনগণ। বাংলাদেশে যেন আর কোনো দিন কাউকে গুম হতে না হয়, কোনো মাকে যেন সন্তান হারানোর বেদনা সইতে না হয়—বিএনপি তেমন এক নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।" তিনি ভোটারদের নির্ভয়ে কেন্দ্রে গিয়ে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।

পারিবারিক ঐতিহ্য ও কৃতজ্ঞতা

দীর্ঘ ৩৫ বছরের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, "২০০৮ সালের নির্বাচনে আমি কারারুদ্ধ থাকায় অংশ নিতে পারিনি। কিন্তু আপনারা আমার স্ত্রী হাসিনা আহমদকে আমার চেয়েও বেশি ভোটে নির্বাচিত করে যে ভালোবাসা দেখিয়েছেন, তার কাছে আমি ও আমার পরিবার আজীবন ঋণী।" উল্লেখ্য, নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চকরিয়া-পেকুয়া আসন থেকে হাসিনা আহমদ বিপুল ভোটে জয়লাভ করেছিলেন।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: ১৯০০ থেকে ২০২৬

বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ১৯০৫-এর বঙ্গভঙ্গ থেকে শুরু করে ১৯৪০-এর লাহোর প্রস্তাব পর্যন্ত প্রতিটি আন্দোলনে এ অঞ্চলের মানুষের মূল দাবি ছিল স্বায়ত্তশাসন। ১৯৫২-র ভাষা আন্দোলন এবং ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ ছিল শোষণের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত বিদ্রোহ। ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যে বহুদলীয় গণতন্ত্র ও উন্নয়নমুখী রাজনীতির সূচনা করেন, সালাহউদ্দিন আহমদ তাঁর বক্তব্যে সেই আদর্শকেই ২০২৬ সালের প্রেক্ষাপটে তুলে ধরেন।

গত ১৭ বছর ধরে বাংলাদেশের মানুষ ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি বলে উল্লেখ করেন তিনি। ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান এবং ২০২৫ সালের সংস্কার প্রক্রিয়ার পর ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির এই নির্বাচনকে বলা হচ্ছে ‘দ্বিতীয় স্বাধীনতা’র চূড়ান্ত প্রতিফলন। সালাহউদ্দিন আহমদের মতে, ১৯০০ সাল থেকে চলে আসা অধিকার আদায়ের এই লড়াইয়ে এখন জয়ী হওয়ার সময় এসেছে।

নির্বাচনি পরিবেশ ও জনসমাগম

চকরিয়ার সাহারবিলে আয়োজিত এই পথসভায় হাজার হাজার সাধারণ মানুষ ও নেতা-কর্মী যোগ দেন। সমাবেশে মাতামুহুরি উপজেলা বিএনপির সভাপতি জামিল ইব্রাহীম চৌধুরীসহ স্থানীয় শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা বলেন, চকরিয়া ও পেকুয়ার উন্নয়ন এবং গণতন্ত্র রক্ষায় ধানের শীষের কোনো বিকল্প নেই।


সূত্র: সরাসরি নির্বাচনি পথসভা (চকরিয়া, ২৮ জানুয়ারি ২০২৬), বাংলাদেশ প্রতিদিন আর্কাইভ, হাসিনা আহমদের ২০০৮ নির্বাচনের ফলাফল (নির্বাচন কমিশন ডাটা), এবং সালাহউদ্দিন আহমদের রাজনৈতিক জীবনবৃত্তান্ত।


বিশ্লেষণ

সালাহউদ্দিন আহমদের এই বক্তব্য মূলত ২০২৬ সালের নির্বাচনের মূল সুর ‘জনগণের ক্ষমতা’কে কেন্দ্র করে আবর্তিত। তাঁর ‘গুমমুক্ত বাংলাদেশ’ গড়ার প্রতিশ্রুতি এবং অতীত ত্যাগের ইতিহাস স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা তৈরি করেছে। ১৯০০ সাল থেকে চলে আসা প্রথাগত রাজনীতির চেয়ে বর্তমানের ‘রাষ্ট্রচিন্তা ও সংস্কার’ ভিত্তিক রাজনীতিতে বিএনপি যে এগিয়ে থাকতে চায়, এই পথসভা তারই বড় প্রমাণ।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency