প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক দাবি ‘কুমিল্লা বিভাগ’ বাস্তবায়ন এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনে ১১ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহর সমর্থনে আয়োজিত এক বিশাল পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এ ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, কুমিল্লাকে বিভাগ করার সব প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে, এখন শুধু আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষা। তাঁদের জোট ক্ষমতায় গেলে দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র এক মাসের মধ্যে এই স্বপ্ন পূরণ করা হবে।
আসিফ মাহমুদ বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের মানুষের ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারের একটি মাইলফলক হতে যাচ্ছে। তিনি বিগত ১৭ বছরের নিপীড়নের ইতিহাস টেনে বলেন, "গত ১৭ মাস যারা ক্ষমতায় না থেকেও মানুষকে তিক্ত অভিজ্ঞতা দিয়েছে, তাদের থেকে মুক্তি পেতেই আমরা ১১ দলীয় ঐক্য জোট গঠন করেছি।" তিনি অভিযোগ করেন, শেখ হাসিনার শাসনামলে কুমিল্লার ওপর বিশেষ আক্রোশ ছিল, যার ফলে এখানকার পাকা রাস্তাও সংস্কারের অভাবে মাটির রাস্তায় পরিণত হয়েছিল। তবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে থাকার সময় তিনি কুমিল্লার উন্নয়নে অসংখ্য প্রকল্প গ্রহণ করেছেন বলে দাবি করেন।
বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের জন্য এক বৈপ্লবিক প্রস্তাব দিয়ে আসিফ মাহমুদ বলেন, "আমরা ১৬ বছর বয়স থেকেই তরুণদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে চাই।" তিনি আরও বলেন, কেবল কার্ডের ভাতা দিয়ে তরুণদের পরনির্ভরশীল করা তাঁদের লক্ষ্য নয়, বরং দেশে পর্যাপ্ত কলকারখানা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে তাঁদের স্বাবলম্বী করা হবে। স্মার্ট এনআইডি কার্ড নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর নিন্দা জানিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন, "এনআইডি পেতে কেন সাধারণ মানুষকে ঘুষ দিতে হবে?"
কুমিল্লার রাজনৈতিক ইতিহাস অত্যন্ত সমৃদ্ধ। ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের সময় থেকেই কুমিল্লা ছিল ব্রিটিশবিরোধী বিপ্লবের কেন্দ্রবিন্দু। ১৯২১ সালে কাজী নজরুল ইসলাম কুমিল্লায় বসে তাঁর বিদ্রোহী কবিতার সুর বুনেছিলেন। ১৯৫২-র ভাষা আন্দোলনে ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের মাতৃভাষার দাবি আর ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে কুমিল্লার বীরত্বগাথা বাংলাদেশের ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
১৯৬০ সালে ‘ত্রিপুরা’ থেকে ‘কুমিল্লা’ নামকরণ হওয়ার পর থেকেই এ অঞ্চলের মানুষ বিভাগের দাবি জানিয়ে আসছে। ১৯৯০ পরবর্তী গণতান্ত্রিক সরকারগুলো বারবার আশ্বাস দিলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পর ২০২৬ সালের এই নির্বাচনকে কুমিল্লাবাসী দেখছে তাঁদের দীর্ঘদিনের বিভাগীয় মর্যাদা আদায়ের শেষ সুযোগ হিসেবে।
আসিফ মাহমুদ অভিযোগ করেন, একটি বিশেষ পক্ষ নির্বাচনে জেতার জন্য মিডিয়া দখল করে রেখেছে এবং সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। তবে তিনি আত্মবিশ্বাস ব্যক্ত করে বলেন, জনগণ এখন সচেতন। ৫ বছরের জন্য জনগণের সঠিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে তিনি হাসনাত আবদুল্লাহকে ‘শাপলা কলি’ প্রতীকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করার আহ্বান জানান।
সূত্র: সরাসরি পথসভা (২৮ জানুয়ারি, ২০২৬), কুমিল্লা জেলা প্রশাসনের ঐতিহাসিক তথ্য ও এনসিপি নির্বাচনী ইশতেহার।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |