| বঙ্গাব্দ

রেকর্ড ২.৩৩ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স: বাংলাদেশের অর্থনীতির নতুন ইতিহাস ২০২৬

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 22-01-2026 ইং
  • 2497208 বার পঠিত
রেকর্ড ২.৩৩ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স: বাংলাদেশের অর্থনীতির নতুন ইতিহাস ২০২৬
ছবির ক্যাপশন: রেকর্ড ২.৩৩ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স

রেকর্ড ভাঙছে প্রবাসী আয়: বাংলাদেশের অর্থনীতির নতুন দিগন্ত ও রাজনৈতিক বিবর্তন

প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ

বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণশক্তি হিসেবে পরিচিত প্রবাসী আয়ে একের পর এক রেকর্ড সৃষ্টি হচ্ছে। ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের শুরু থেকেই রেমিট্যান্স প্রবাহে যে জোয়ার দেখা দিয়েছিল, তা ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে এসে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। প্রবাসীদের পাঠানো এই অর্থ কেবল দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকেই শক্তিশালী করছে না, বরং রাজনৈতিক অস্থিরতা পরবর্তী স্থিতিশীলতা আনতেও বড় ভূমিকা পালন করছে।

জানুয়ারির ২১ দিনেই ২.৩৩ বিলিয়ন ডলারের রেকর্ড

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসের প্রথম ২১ দিনেই দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ২৩৩ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার (২.৩৩ বিলিয়ন ডলার)। গড়ে প্রতিদিন প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ১১ কোটি ১০ লাখ ডলার। গত বছরের অর্থাৎ ২০২৫ সালের একই সময়ে এই আয়ের পরিমাণ ছিল ১৫০ কোটি ৪০ লাখ ডলার। অর্থাৎ বছরের ব্যবধানে রেমিট্যান্স প্রবাহে বিশাল লাফ দেখা গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) জানিয়েছেন, শুধু ২১ জানুয়ারি একদিনেই দেশে এসেছে ১১ কোটি ডলার। চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশে মোট ১ হাজার ৮৫৯ কোটি ৬০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা গত বছরের তুলনায় ২১.৭০ শতাংশ বেশি।

২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের সাফল্যের চিত্র

পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত ডিসেম্বর (২০২৫) মাসে দেশে এসেছিল ৩২২ কোটি ৬৬ লাখ ৯০ হাজার ডলার, যা চলতি অর্থবছরের সর্বোচ্চ এবং বাংলাদেশের ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মাসিক আয়। এছাড়া গত বছরের শেষ মাসগুলোতেও ছিল ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা:

  • নভেম্বর ২০২৫: ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ২০ হাজার ডলার।

  • অক্টোবর ২০২৫: ২৫৬ কোটি ৩৪ লাখ ৮০ হাজার ডলার।

  • সেপ্টেম্বর ২০২৫: ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ৮০ হাজার ডলার।

  • আগস্ট ২০২৫: ২৪২ কোটি ১৮ লাখ ৯০ হাজার ডলার।

১৯০০ থেকে ২০২৬: রাজনীতি ও অর্থনীতির মেলবন্ধন

বাংলাদেশের এই অর্থনৈতিক সাফল্যের পেছনে রয়েছে দীর্ঘ রাজনৈতিক ও সামাজিক বিবর্তনের ইতিহাস। ১৯০০-এর দশকের শুরুতে যখন এই ভূখণ্ড ব্রিটিশ শাসনের অধীনে ছিল, তখন থেকেই বাঙালিরা কাজের সন্ধানে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে পাড়ি জমাতে শুরু করে। বিশেষ করে ১৯৪০-এর দশকে জাহাজ শিল্পে কর্মরত সিলেট অঞ্চলের মানুষের হাত ধরে রেমিট্যান্সের যে প্রাথমিক যাত্রা শুরু হয়েছিল, তা আজ বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল স্তম্ভে পরিণত হয়েছে।

১৯৭১ সালের স্বাধীনতার পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রবাসীদের কল্যাণে নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন। ১৯৭৫ পরবর্তী সময় থেকে ১৯৯০-এর দশক পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে শ্রমবাজারের ব্যাপক সম্প্রসারণ ঘটে। এরপর ২০২৪ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন এবং পরবর্তী রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর প্রবাসীদের মধ্যে বৈধ পথে টাকা পাঠানোর ব্যাপারে ব্যাপক সচেতনতা তৈরি হয়। ২০২৫ সালের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংস্কার কর্মসূচি এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দক্ষ ব্যবস্থাপনার ফলে ২০২৬ সালে এসে রেমিট্যান্সের এই ঐতিহাসিক প্রবৃদ্ধি সম্ভব হয়েছে।

বিশ্লেষকদের অভিমত

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং হুন্ডি প্রতিরোধের কঠোর পদক্ষেপের কারণেই প্রবাসীরা ব্যাংকিং চ্যানেলে টাকা পাঠাতে উৎসাহিত হচ্ছেন। ২০২৬ সালের এই ধারা অব্যাহত থাকলে দেশের মাথাপিছু আয় এবং রিজার্ভের চিত্র আমূল বদলে যাবে। ১৯০০ সালের সেই সংগ্রামী প্রবাসীদের উত্তরসূরিরা আজ ২০২৬ সালের স্মার্ট ও ডিজিটাল বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কারিগর।


সূত্র:

১. বাংলাদেশ ব্যাংক (সাপ্তাহিক ও মাসিক রেমিট্যান্স আপডেট)। ২. যুগান্তর ও বাংলাদেশ প্রতিদিন আর্কাইভ। ৩. অর্থনৈতিক গবেষণা ব্যুরো ও গুগল ডাটা এনালাইসিস।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency