| বঙ্গাব্দ

সংসদ ভবনে খালেদা জিয়ার নাগরিক শোকসভা: তারেক রহমানের উপস্থিতিতে ঐতিহাসিক প্রয়াণ সংহতি

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 16-01-2026 ইং
  • 1638600 বার পঠিত
সংসদ ভবনে খালেদা জিয়ার নাগরিক শোকসভা: তারেক রহমানের উপস্থিতিতে ঐতিহাসিক প্রয়াণ সংহতি
ছবির ক্যাপশন: তারেক রহমানের উপস্থিতিতে ঐতিহাসিক প্রয়াণ সংহতি

সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় খালেদা জিয়ার নাগরিক শোকসভা: এক ঐতিহাসিক বিদায়ের সাক্ষী ‘নতুন বাংলাদেশ’

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

বাংলাদেশের রাজনীতির এক মহীরুহ, তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে আজ সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হয়েছে এক অনন্য নাগরিক শোকসভা। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি, ২০২৬) বেলা আড়াইটার পর পূর্বনির্ধারিত এই শোকসভার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ থেকে শুরু করে ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার বিপ্লব—বাংলার রাজনীতির যে দীর্ঘ পরিক্রমা, তাতে বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন এক আপসহীন ও অবিচ্ছেদ্য নাম। আজকের এই আয়োজন কেবল একটি প্রয়াণের শোকসভা নয়, বরং এটি যেন এক ঐতিহাসিক যুগের সম্মানজনক সমাপ্তি।

উপস্থিত ছিলেন তারেক রহমান ও পরিবারের সদস্যরা

শোকসভায় যোগ দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান, তার স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান, মেয়ে জাইমা রহমান, এবং খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে মরহুম আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শামিলা রহমান সিঁথি। পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানস্থলে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। এছাড়াও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যসহ দলের জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকেরা এই অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

নিরাপত্তার চাদরে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ

এই বিশেষ আয়োজনকে কেন্দ্র করে সংসদ ভবন ও আশপাশের এলাকায় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। সেনাবাহিনী, পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি, কোস্টগার্ড ও আনসার বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য মোতায়েন ছিলেন। পাশাপাশি বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও সাদা পোশাকে দায়িত্ব পালন করেন। আমন্ত্রণপত্র ছাড়া কাউকে সভাস্থলে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি, যা অনুষ্ঠানের গাম্ভীর্য ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সাহায্য করেছে। বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবকরা শৃঙ্খলার দায়িত্ব পালন করেন।

১৯০০ থেকে ২০২৬: রাজনীতির এক শতাব্দী ও খালেদা জিয়া

বাংলার রাজনীতির ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ১৯০৬ সালে মুসলিম লীগের গঠন থেকে শুরু করে ১৯৪৭-এর দেশভাগ এবং ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলনের প্রতিটি মোড় এ দেশের মানচিত্র বদলে দিয়েছে। ১৯৪৫ সালে জন্ম নেওয়া বেগম খালেদা জিয়া সত্তরের দশকে দেশপ্রেমের মন্ত্রে রাজনীতিতে যুক্ত না হলেও ১৯৮১ সালে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাহাদাতের পর দলের হাল ধরেন।

১৯৯০-এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে তার ‘আপসহীন’ নেতৃত্ব এ দেশকে সংসদীয় গণতন্ত্রের ধারায় ফিরিয়ে আনে। ১৯৯১ সালে তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়ে ইতিহাস গড়েন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী শাসনের পতনের পর খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক অবদানকে নতুন প্রজন্মের কাছে ‘গণতন্ত্রের মা’ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হচ্ছে। ২০২৬ সালের এই শোকসভা প্রমাণ করে যে, ১৯০০ সালে শুরু হওয়া বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলন ও গণতান্ত্রিক অধিকারের লড়াইয়ে খালেদা জিয়া ছিলেন এক অনন্য ধ্রুবতারা।

বিস্মৃতি ও সংহতির সুর

নাগরিক সমাজ আয়োজিত এই শোকসভায় বক্তারা বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক দূরদর্শিতা এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তার অনড় অবস্থানের কথা স্মরণ করেন। বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের উপস্থিতি এটিই প্রমাণ করে যে, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও তার গ্রহণযোগ্যতা ছিল প্রশ্নাতীত। শোকসভায় আগতরা দাঁড়িয়ে না থেকে এবং কোনো স্লোগান না দিয়ে পরম নীরবতায় তাদের প্রিয় নেত্রীর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।


তথ্যসূত্র: ১. নাগরিক শোকসভা আয়োজক কমিটি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় দপ্তর (১৬ জানুয়ারি, ২০২৬)। ২. সংসদ সচিবালয় ও নিরাপত্তা বাহিনী কর্তৃক ইস্যুকৃত নিরাপত্তা ব্রিফিং। ৩. বাংলাদেশ জাতীয় আর্কাইভ ও ১৯০০-২০২৬ রাজনৈতিক ইতিহাস এনসাইক্লোপিডিয়া।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency