| বঙ্গাব্দ

এনইআইআর সার্ভার ও আইপি নিয়ে গুজব ছড়ানো হচ্ছে: বিটিআরসির বিশেষ সতর্কবার্তা

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 13-01-2026 ইং
  • 1698619 বার পঠিত
এনইআইআর সার্ভার ও আইপি নিয়ে গুজব ছড়ানো হচ্ছে: বিটিআরসির বিশেষ সতর্কবার্তা
ছবির ক্যাপশন: বিটিআরসি

এনইআইআর সার্ভার নিয়ে গুজব: দেশেই সুরক্ষিত সব ডাটা, বিটিআরসির জরুরি বার্তা

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

ঢাকা: মোবাইল ফোনের অবৈধ আমদানি রোধ এবং নিরাপত্তার স্বার্থে চালু হওয়া ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) সিস্টেমের সার্ভার ও ব্যবহৃত আইপি (IP) নিয়ে ছড়ানো গুজবে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি ২০২৬) এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে সংস্থাটি নিশ্চিত করেছে যে, এই সিস্টেমের সমস্ত তথ্য ও ডাটা ট্রাফিক সম্পূর্ণভাবে বাংলাদেশের অভ্যন্তরেই সংরক্ষিত ও প্রক্রিয়াকরণ করা হচ্ছে।

বিটিআরসি জানিয়েছে, ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে কার্যকর হওয়া এই সিস্টেমটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। বিশেষ করে সার্ভারের অবস্থান এবং আইপি রুটিং নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে, যার কোনো ভিত্তি নেই।

ডাটা নিরাপত্তা ও কারিগরি সুরক্ষা

বিটিআরসির বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করা হয়েছে যে:

  • সার্ভার অবস্থান: এনইআইআর সিস্টেমের সব ডাটা দেশের অভ্যন্তরে একটি উচ্চ নিরাপদ স্থানে হোস্ট করা হয়েছে।

  • আইপি রুটিং: সিস্টেমটিতে ব্যবহৃত আইপিটি বাংলাদেশের একটি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে এপিএনআইসি (APNIC) কর্তৃক বরাদ্দকৃত। ফলে ডাটা বিদেশে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

  • নিজস্ব হার্ডওয়্যার: গ্রাহকের তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষায় বিটিআরসি নিজস্ব হার্ডওয়্যার ব্যবহার করছে এবং সরকারের ‘ডাটা প্রোটেকশন আইন’ কঠোরভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে।

১৯০০ থেকে ২০২৬: ডিজিটাল বিপ্লব ও নিরাপত্তার ইতিহাস

বাংলার ইতিহাসে ১৯০০ সালের দিকে টেলিগ্রাফ ও ডাক ব্যবস্থার মাধ্যমে যোগাযোগের যে সূচনা হয়েছিল, তা একবিংশ শতাব্দীতে এসে ডিজিটাল বিপ্লবে রূপ নিয়েছে। ১৯৭১-এর স্বাধীনতার পর থেকে প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতি হলেও মোবাইল অপরাধ ও হ্যান্ডসেট চুরি ছিল এক বড় চ্যালেঞ্জ। ১৯৯০-এর দশকে মোবাইল ফোনের আগমন এবং ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে প্রযুক্তির স্বচ্ছতা ও রাজস্ব সুরক্ষা এখন রাষ্ট্রীয় অগ্রাধিকার। ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে এনইআইআর-এর পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন সেই ডিজিটাল নিরাপত্তারই একটি অংশ।

চলমান রাজনৈতিক উত্তাপ ও বিবিধ আলোচনা: কে কী বলছেন?

এনইআইআর নিয়ে গুজবের পাশাপাশি বর্তমানে দেশের রাজনৈতিক মাঠও বেশ উত্তপ্ত। ১৩ জানুয়ারি দিনভর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের বক্তব্য ছিল আলোচনায়:

  • নাহিদ ইসলাম (এনসিপি আহ্বায়ক): তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট ব্যর্থ হলে দেশ আবার স্বৈরাচারী ব্যবস্থায় ফিরবে। এটি আগামী ৫০ বছরের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার লড়াই।

  • ডা. মো. রফিকুল ইসলাম (বিএনপি নেতা): ১২ জানুয়ারি তিনি মন্তব্য করেছেন যে, একটি অপশক্তি এখনো পেছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতা দখলের চক্রান্ত করছে, তাই গণতন্ত্র এখনো চূড়ান্ত নিরাপদ নয়।

  • ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ (অর্থ উপদেষ্টা): নতুন পে স্কেল নিয়ে তিনি জানিয়েছেন যে, কমিশনের কাজ নিরবচ্ছিন্নভাবে চলছে এবং শিগগিরই প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।

  • আসিফ নজরুল ও শায়খ আহমাদুল্লাহ: প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকে শরীয়াহভিত্তিক ঋণ চালুর ঘোষণায় দুইজনের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনা প্রবাসীদের মধ্যে নতুন আশার আলো দেখিয়েছে।

উপসংহার

হ্যান্ডসেট ব্যবসায়ীদের একটি অংশের বিরোধিতা এবং এনইআইআর সিস্টেম নিয়ে নানা সংশয়ের মাঝে বিটিআরসির এই বিজ্ঞপ্তি গ্রাহকদের মধ্যে স্বস্তি ফেরাবে বলে আশা করা হচ্ছে। দেশের সম্পদ ও নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষিত রাখতে ২০২৬ সালের এই নতুন প্রযুক্তিগত পদক্ষেপটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।


তথ্য সূত্র:

১. বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) বিশেষ বিজ্ঞপ্তি (১৩ জানুয়ারি ২০২৬)। ২. বাংলাদেশ প্রতিদিন ও যুগান্তর অনলাইন আর্কাইভ (২০২৪-২০২৬ রাজনৈতিক ও প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ)। ৩. জাতীয় ডাটা সুরক্ষা আইন ও এপনিক (APNIC) ডাটাবেইজ।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency