আপনার দেওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এবং ২০২৬ সালের নির্বাচনী প্রেক্ষাপট ও ঐতিহাসিক ঘটনাবলির সমন্বয়ে 'বাংলাদেশ প্রতিদিন' স্টাইলে একটি আকর্ষণীয় ও বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদন নিচে তৈরি করে দেওয়া হলো।
ঠাকুরগাঁওয়ের মাঠে মির্জা ফখরুলের ‘ম্যারাথন’ দৌড়: চেনা বামুন বনাম এআই প্রজন্মের লড়াই
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
কুয়াশা তখনো পুরোপুরি কাটেনি। কফিনবন্দি কুয়াশার চাদর সরিয়ে শীতের ‘সূর্যি মামা’ সবে উঁকি দিয়েছেন উত্তর জনপদে; কিন্তু সেই কাকডাকা ভোরেই বিছানা ছেড়েছেন তিনি। প্রাতঃরাশ সেরেছেন দ্রুত। কারণ কর্মসূচির তালিকা দীর্ঘ। জননেতা যখন নিজের খাসতালুকে থাকেন, তখন কি আর বিশ্রামের ফুরসত থাকে?
তিনি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দেশের রাজনীতির এক প্রবীণ কাণ্ডারি। সোমবার (১২ জানুয়ারি ২০২৬) দিনভর নিজের জন্মভূমি ঠাকুরগাঁওয়ে যে ব্যস্ততায় কাটালেন বিএনপি মহাসচিব—তাকে অনায়াসেই ‘ম্যারাথন সাংগঠনিক দৌড়’ বলা চলে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং একই দিনে রাষ্ট্র সংস্কারের ‘জাতীয় সনদ’ নিয়ে গণভোটকে সামনে রেখে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে এখন উৎসবের আমেজ।
এ দিনটি কেবল রাজনৈতিক বক্তৃতার ছিল না, ছিল স্মৃতির সরণি বেয়ে হাঁটার। রুহিয়া থানা এলাকায় গিয়ে ফখরুল যখন তার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহযোদ্ধা বীর মুক্তিযোদ্ধা তৈমুর রহমান ও গোলাম মোস্তফার কবরের পাশে দাঁড়ালেন, তখন আবেগ বাঁধ মানেনি। কবরের পাশে হাত তুলে মোনাজাত করার সময় চোখের জল মুছতে দেখা গেল ৭৮ বছর বয়সি এই প্রবীণ নেতাকে।
সকাল ১০টা বাজতেই শহরের তাঁতিপাড়ায় তার বাসভবন লোকে-লোকারণ্য। বেলা ১১টায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তরুণ কর্মীদের বিশৃঙ্খলায় কিছুটা অনুযোগের সুরে বললেন, "আপনাদের বুঝতে হবে আমি একজন বয়স্ক লোক, তরুণ নই। এই ধাক্কাধাক্কি সহ্য করতে পারছি না।" ### ঠাকুরগাঁওয়ের ভোটযুদ্ধ: ফখরুল বনাম দেলাওয়ার ঠাকুরগাঁওয়ের মাঠে এবার ফখরুলের বিপরীতে নতুন প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে হাজির হয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর তরুণ মুখ দেলাওয়ার হোসেন। তার পক্ষে ময়দান সামলাচ্ছেন মেজো ভাই সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলমগীর। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে তরুণ দেলাওয়ার রীতিমতো ‘ঝড়’ তুললেও ঠাকুরগাঁওয়ের বাসিন্দাদের কাছে মির্জা ফখরুল এক ‘চেনা বামুন’। স্থানীয় ব্যবসায়ী আব্দুল্লাহ আল মামুনের ভাষায়— "চেনা বামুনের পৈতে লাগে না। ফখরুল সাহেব আমাদের অতি আপন।" উল্লেখ্য, ১৯০০ সালের গোড়ার দিক থেকেই ঠাকুরগাঁও অঞ্চল রাজনৈতিক সচেতনতার জন্য পরিচিত। ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন থেকে শুরু করে বর্তমান ২০২৬ সালের এই ঐতিহাসিক নির্বাচন পর্যন্ত—এই জনপদ সবসময় হেভিওয়েট প্রার্থীদের বেছে নিয়েছে। মির্জা ফখরুল নিজেও ২০০১ সাল থেকে এই জনপদে তার জনপ্রিয়তার প্রমাণ দিয়ে আসছেন।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এটি কেবল কুশল বিনিময় নয়, বরং ঘর গোছানোর চূড়ান্ত লড়াই। একদিকে মির্জা ফখরুল যখন রুহিয়া থানার কালীবাড়ি থেকে মানুর মিল কিংবা গিন্নি দেবী আগরওয়ালা কলেজ চত্বর চষে বেড়াচ্ছেন; অন্যদিকে তার সহধর্মিণী রাহাত আরা বেগম এবং কন্যারাও নেমেছেন পাড়া-মহল্লার গণসংযোগে। জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী এবং মামুন উর রশিদদের দাবি এটি নেহাতই কুশল বিনিময় হলেও, ভোটাররা বলছেন এটি মূলত নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি।
গুগল এনালাইসিস এবং বর্তমান নির্বাচনী পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন বাংলাদেশের জন্য এক মহাগুরুত্বপূর্ণ বাঁক। ১৫ বছরের কর্তৃত্ববাদী শাসনের পর এটিই প্রথম অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে। মির্জা ফখরুলের মতো প্রবীণ নেতৃত্বের বিপরীতে জামায়াত বা এনসিপির মতো তরুণ প্রার্থীদের লড়াই মূলত অভিজ্ঞতার সাথে আগামীর বাংলাদেশের এক মহাযুদ্ধ। বয়সের ভারে শরীর নুইয়ে পড়লেও ফখরুলের মনোবল যেন এখনো টগবগে তরুণের মতো। দিনশেষে এক নেতার মন্তব্য ছিল যথার্থ— "ঠাকুরগাঁওয়ের মাটি আর ফখরুল, একে অপরের পরিপূরক।"
তথ্যসূত্র: ১. ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি ও মাঠ পর্যায়ের সরেজমিন প্রতিবেদন (১২ জানুয়ারি ২০২৬)। ২. বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (EC) প্রকাশিত প্রার্থী তালিকা ও নির্বাচনী তফসিল ২০২৬। ৩. গুগল নিউজ আর্কাইভ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক প্যানেল (১৯৭১-২০২৬)।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |