নতুন মেরুকরণে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক: আমিরে জামায়াতের সঙ্গে চীনা রাষ্ট্রদূতের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বাংলাদেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর সঙ্গে দেশের বড় রাজনৈতিক দলগুলোর যোগাযোগ এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। সোমবার (১২ জানুয়ারি, ২০২৬) সকাল ৯টায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে তার কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত মি. ইয়াও ওয়েন। এই বৈঠকটি কেবল একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ নয়, বরং ২০২৬ সালের আগামীর বাংলাদেশের কূটনীতিতে এক নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
অত্যন্ত আন্তরিক ও সৌহার্দপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে চীন ও বাংলাদেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। চীনা রাষ্ট্রদূত মি. ইয়াও ওয়েন এবং আমিরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান দুই দেশের ঐতিহাসিক বন্ধুত্বের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তারা একমত পোষণ করেন যে, দুই দেশের জনগণের কল্যাণ, অর্থনৈতিক উন্নয়ন সহযোগিতা, পারস্পরিক বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়ের ক্ষেত্রে চীন ও বাংলাদেশ একে অপরের পরিপূরক। ভবিষ্যতে এই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার ব্যাপারে উভয় পক্ষই আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বৈঠকে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন:
অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের (সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও মিডিয়া প্রধান)।
ড. যুবায়ের আহমেদ (বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ)।
দেওয়ান আলমগীর (উন্নয়ন টিম লিড)।
প্রফেসর ড. মাহমুদুল হাসান (পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা)।
চীনা প্রতিনিধি দলে রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি চিফ অব মিশন ড. লিউ ইউইন, পলিটিক্যাল ডিরেক্টর মি. ঝাং জিং, মি. রু কি (রাকি) এবং মিস নাফিসা (লিয়াং শুইন)।
বাংলাদেশের ভূ-রাজনৈতিক ইতিহাসে ১৯০০ সালের ব্রিটিশ আমল থেকে শুরু করে ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন এবং ১৯৭১-এর স্বাধীনতা যুদ্ধ পর্যন্ত চীনের ভূমিকা ও সম্পর্কের ভিন্ন ভিন্ন মাত্রা ছিল। সত্তরের দশকে বাংলাদেশ-চীন কূটনৈতিক সম্পর্ক শুরু হওয়ার পর থেকে চীন বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে আবির্ভূত হয়।
বিশেষ করে ২০২৪-২৫ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে যখন রাষ্ট্র সংস্কারের কাজ চলছে, তখন জামায়াতে ইসলামীর মতো প্রভাবশালী রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে চীনের এই বৈঠকটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। গুগল এনালাইসিস এবং ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ সালের সম্ভাব্য সাধারণ নির্বাচনের আগে বিশ্বশক্তিগুলো বাংলাদেশের প্রধান প্রধান রাজনৈতিক শক্তিগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করতে আগ্রহী। চীনের এই পদক্ষেপ মূলত বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে স্থিতিশীলতা এবং উন্নয়ন অংশীদারিত্ব বজায় রাখার একটি কৌশল।
বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়নে চীনের বিনিয়োগ বিশাল। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী দেশের রাজনীতির একটি বড় অংশ দখল করে আছে। ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে দলটি সাম্প্রতিক সময়ে তাদের পররাষ্ট্র নীতিতে অনেক বেশি আধুনিক ও বাস্তবমুখী দৃষ্টিভঙ্গি প্রদর্শন করছে। আজকের এই বৈঠক প্রমাণ করে যে, চীন কেবল সরকার নয়, বরং বাংলাদেশের সকল প্রভাবশালী রাজনৈতিক পক্ষের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়।
তথ্যসূত্র: ১. বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগ থেকে প্রেরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তি। ২. বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা দূতাবাসের অফিসিয়াল স্টেটমেন্ট ও ওয়েবসাইট। ৩. গুগল এনালাইসিস এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতি বিষয়ক ডিজিটাল আর্কাইভ (১৯৭১-২০২৬)।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |