ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সংসদ নির্বাচনের লড়াইয়ে আখতার হোসেন: পীরগাছা-কাউনিয়ায় নতুন নেতৃত্বের হাতছানি
প্রতিবেদকের নাম: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বাংলাদেশের রাজনীতিতে এখন পালাবদলের হাওয়া। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার সফল অভ্যুত্থানের পর ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে নতুন এক রাজনৈতিক মেরুকরণ তৈরি হয়েছে। এই পরিবর্তনের অন্যতম সারথি হিসেবে রংপুর-৪ (পীরগাছা-কাউনিয়া) আসনে লড়াই করছেন এনসিপির সদস্য সচিব ও ডাকসুর সাবেক সমাজসেবা সম্পাদক আখতার হোসেন। সম্প্রতি দাখিল করা তার হলফনামা থেকে উঠে এসেছে এক লড়াকু তরুণের সাধারণ জীবনযাপন ও রাজনৈতিক সততার প্রতিচ্ছবি।
পেশায় একজন শিক্ষানবিশ আইনজীবী আখতার হোসেনের বার্ষিক আয় মাত্র ৫ লাখ ৫ হাজার টাকা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ থেকে উচ্চশিক্ষা নেওয়া এই তরুণ রাজনীতিকের হলফনামা অনুযায়ী:
বার্ষিক আয়: কৃষি খাত থেকে ৮৫ হাজার, ব্যবসা থেকে ১ লাখ ৮০ হাজার এবং চাকরি থেকে ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা আয় করেন তিনি।
অস্থাবর সম্পদ: নিজের নামে নগদ ১৩ লাখ টাকাসহ মোট ২৪ লাখ ১৯ হাজার ৪২৬ টাকার অস্থাবর সম্পদ রয়েছে। স্ত্রীর নামে রয়েছে ১৬ লাখ টাকার সম্পদ।
সততার দৃষ্টান্ত: ১৮ শতাংশ কৃষি জমির মূল্য তিনি দেখিয়েছেন মাত্র ২৩ হাজার টাকা (অর্জনকালীন)। বিশেষ উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, তার নামে কোনো ব্যক্তিগত বা সরকারি ঋণ নেই। ২০২৫-২৬ করবর্ষে তিনি ১০ হাজার ৫০০ টাকা আয়কর প্রদান করেছেন।
আখতার হোসেনের রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ২০১৮ সালে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের বিরুদ্ধে তার একক অনশন দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তিনি ছাত্রদের অধিকার আদায়ে ছিলেন আপসহীন। পরবর্তীতে গণতান্ত্রিক ছাত্রশক্তির প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে তিনি ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। রাজপথে পুলিশি নির্যাতন ও জেল-জুলুম সহ্য করেও তিনি দমে যাননি। ২০২৪-এর বিপ্লবের অন্যতম এই মুখ এখন নিজ এলাকা রংপুরের কাউনিয়া থেকে জাতীয় সংসদে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
বাঙালির রাজনৈতিক লড়াইয়ের শেকড় অনেক গভীরে। ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ থেকে শুরু করে ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন এবং ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধের মূল মন্ত্রই ছিল বৈষম্যহীন সমাজ গঠন। ১৯০০ সালের ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থান—প্রতিটি বড় পরিবর্তনের মূলে ছিল তরুণ ছাত্রসমাজ।
আখতার হোসেনের মতো তরুণরা যখন ২০২৬ সালের নির্বাচনে অংশ নেন, তখন তা ১৯০০ সালের সেই সংগ্রামী ঐতিহ্যেরই প্রতিফলন ঘটায়। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের (রংপুর) অবহেলিত মানুষের অধিকার আদায়ে তরুণ নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তা দীর্ঘদিনের। পীরগাছা-কাউনিয়ার ভোটাররা মনে করছেন, ২০২৫ সালে দেশে যে রাজনৈতিক সংস্কার শুরু হয়েছে, তার পূর্ণতা পাবে ২০২৬ সালের এই নির্বাচনের মাধ্যমে।
বর্তমানে দুটি রাজনৈতিক মামলায় জামিনে থাকলেও আখতার হোসেনের জনপ্রিয়তা তুঙ্গে। স্থানীয়রা তাকে দেখছেন ‘ক্লিন ইমেজ’-এর নেতা হিসেবে। ঢাকার বাংলামটরে অবস্থান করলেও নাড়ির টানে তিনি বারবার ফিরে যান কাউনিয়ার ভায়ারহাট ইউনিয়নের সারদা তালুকে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২৬ সালের নির্বাচন হবে বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে একটি টার্নিং পয়েন্ট। যেখানে প্রথাগত ধনী ও প্রভাবশালী রাজনীতিকদের বিপরীতে আখতার হোসেনের মতো সৎ ও শিক্ষিত তরুণদের অংশগ্রহণ নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখাবে।
সূত্র: ১. নির্বাচন কমিশন (EC) বাংলাদেশ, ২০২৬ নির্বাচনী হলফনামা। ২. যুগান্তর অনলাইন ও সমকালীন রাজনৈতিক বিশেষ কলাম। ৩. বাংলাদেশ প্রতিদিন আর্কাইভ ও ডাকসুর ঐতিহাসিক রেকর্ড।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |