| বঙ্গাব্দ

এনসিপিকে ১০ আসন ছাড়ের খবর ভিত্তিহীন’: বসুন্ধরায় জামায়াত আমিরের কার্যালয়ে ডা. তাহেরের সংবাদ সম্মেলন; ২০২৬-এর নির্বাচনে ইইউ পর্যবেক্ষক

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 07-01-2026 ইং
  • 1826663 বার পঠিত
এনসিপিকে ১০ আসন ছাড়ের খবর ভিত্তিহীন’: বসুন্ধরায় জামায়াত আমিরের কার্যালয়ে ডা. তাহেরের সংবাদ সম্মেলন; ২০২৬-এর নির্বাচনে ইইউ পর্যবেক্ষক
ছবির ক্যাপশন: এনসিপিকে ১০ আসন ছাড়ের খবর ভিত্তিহীন

এনসিপিকে ১০ আসন ছাড়ের খবর ‘কাল্পনিক’: ইইউ প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের পর ডা. তাহেরের স্পষ্টোক্তি

প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ

ঢাকা: আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আসন সমঝোতা ও জোট গঠনের পালে হাওয়া লেগেছে। তবে এই ডামাডোলের মধ্যেই জাতীয় নাগরিক পার্টিকে (এনসিপি) ১০টি আসনে ছাড় দেওয়ার খবরটি নাকচ করে দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বুধবার (৭ জানুয়ারি, ২০২৬) সকালে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় জামায়াত আমিরের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের এই তথ্য জানান।

ডা. তাহের বলেন, এনসিপিকে ১০টি আসন দেওয়ার যে খবরটি ছড়ানো হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ‘কাল্পনিক’। তিনি জানান, জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনি আসন নিয়ে সমঝোতা প্রক্রিয়া বর্তমানে শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং খুব শীঘ্রই এটি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “জামায়াত প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। আমরা ক্ষমতায় গেলে সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সমন্বয় করে একটি অংশগ্রহণমূলক জাতীয় সরকার গঠন করব।”

ইইউ প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক ও পর্যবেক্ষক প্রসঙ্গ

সংবাদ সম্মেলনের আগে সকালে জামায়াত আমিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ইউরোপীয় এক্সটার্নাল অ্যাকশন সার্ভিসের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিভাগের পরিচালক পাওলা পাম্পালোনি। বৈঠক শেষে ডা. তাহের জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) আসন্ন নির্বাচনে সর্বোচ্চ সংখ্যক পর্যবেক্ষক পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা ইইউর এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছি। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ অত্যন্ত জরুরি।”

১৯০০ থেকে ২০২৬: জোট ও আসন সমঝোতার রাজনৈতিক বিবর্তন

বাংলাদেশের নির্বাচনি ইতিহাসে জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচন করার সংস্কৃতি ও আসন সমঝোতার বিষয়টি দীর্ঘ এক শতাব্দীর বিবর্তনের মধ্য দিয়ে আজকের পর্যায়ে পৌঁছেছে:

  • ১৯০০-১৯৪৭ (ব্রিটিশ আমল): ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ পরবর্তী সময়ে এবং ১৯৪৬ সালের নির্বাচনে দলগুলোর মধ্যে বড় ধরনের জোটের চেয়ে ব্যক্তিগত ও সাম্প্রদায়িক প্রভাব ছিল মুখ্য। তবে রাজনৈতিক লড়াইয়ের বীজ তখনই রোপিত হয়েছিল।

  • স্বাধীনতাপরবর্তী বাংলাদেশ (১৯৭১-১৯৯০): ১৯৭৩-এর প্রথম সংসদ নির্বাচন থেকে শুরু করে নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন পর্যন্ত রাজনৈতিক দলগুলো ধীরে ধীরে জোটবদ্ধ রাজনীতির গুরুত্ব বুঝতে শুরু করে। বিশেষ করে ১৯৯১ সালের নির্বাচনে জোটের রাজনীতি নতুন মাত্রা পায়।

  • ২০২৪-২০২৬ (বর্তমান ক্রান্তিকাল): ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের রাজনীতিতে আমূল পরিবর্তন আসে। ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এবারই প্রথম ইসলামী দলগুলো এবং ছাত্র-জনতার বিপ্লব থেকে আসা নতুন রাজনৈতিক শক্তিগুলো (যেমন এনসিপি, এবি পার্টি) একটি অভিন্ন প্ল্যাটফর্মে আসার চেষ্টা করছে। ১৯০০ সাল থেকে শুরু হওয়া যে ক্ষমতার রাজনীতি, ২০২৬ সালে এসে তার প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো ‘সমন্বয় ও জাতীয় ঐক্যের সরকার’।

বিশ্লেষণ ও আগামীর রাজনীতি

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াত ও এনসিপির মধ্যকার এই আসন সমঝোতার টানাপোড়েন মূলত বড় জোট গঠনের একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। ১৯০০ সাল থেকে চলে আসা চিরাচরিত দ্বি-দলীয় বলয় (আওয়ামী লীগ-বিএনপি) ভেঙে ২০২৬ সালে এক নতুন তৃতীয় শক্তির উদয় হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ডা. তাহেরের ‘সমন্বয়মূলক সরকার’ গঠনের প্রস্তাবটি সেই ইঙ্গিতই বহন করে।


বিশ্লেষণ: ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন কেবল একটি ভোট নয়, বরং এটি রাষ্ট্রের কাঠামো পরিবর্তনের লড়াই। ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, জামায়াত এবার একক আধিপত্যের চেয়ে জাতীয় ঐক্যকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। এনসিপির মতো নতুন শক্তির সাথে সমঝোতা করা যেমন দলের জন্য কৌশলগত প্রয়োজন, তেমনি নিজেদের ভোটব্যাংক রক্ষা করাও বড় চ্যালেঞ্জ। ইইউর পর্যবেক্ষক পাঠানোর সিদ্ধান্ত এই নির্বাচনের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতাকে আরও বাড়িয়ে তুলবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সূত্র: * বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সংবাদ সম্মেলন (৭ জানুয়ারি, ২০২৬)।

  • বিএসএস (BSS) ও রয়টার্স অনলাইন নিউজ।

  • ইইউ এক্সটার্নাল অ্যাকশন সার্ভিসের প্রেস রিলিজ।

  • জাতীয় আর্কাইভ ও বাংলাদেশের রাজনৈতিক ডায়েরি (১৯০০-২০২৬)।

    প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
    আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency