| বঙ্গাব্দ

নওগাঁয় বিএনপির কঠোর পদক্ষেপ: তিনবারের সাবেক এমপি ডা. ছালেক চৌধুরী বহিষ্কার

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 05-01-2026 ইং
  • 1836661 বার পঠিত
নওগাঁয় বিএনপির কঠোর পদক্ষেপ: তিনবারের সাবেক এমপি ডা. ছালেক চৌধুরী বহিষ্কার
ছবির ক্যাপশন: নওগাঁয় বিএনপির কঠোর পদক্ষেপ

নওগাঁয় বিএনপির বড় সিদ্ধান্ত: সাবেক এমপি ডা. ছালেক চৌধুরী দল থেকে বহিষ্কার

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

নিয়ামতপুর (নওগাঁ): দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও সংগঠনের নীতি পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে নওগাঁ জেলার প্রভাবশালী নেতা এবং তিনবারের সাবেক সংসদ সদস্য ডা. ছালেক চৌধুরীকে বহিষ্কার করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। গতকাল রবিবার (৪ জানুয়ারি) রাতে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবীর রিজভী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থার কথা জানানো হয়।

বহিষ্কারের কারণ ও দলীয় সিদ্ধান্ত

বিএনপির কেন্দ্রীয় দপ্তর থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ডা. ছালেক চৌধুরীর বিরুদ্ধে দলীয় নীতি ও সংগঠন পরিপন্থী সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এর প্রেক্ষিতে তাকে দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এই আদেশ ৪ জানুয়ারি ২০২৬ থেকেই কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মূলত আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া এবং নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় হওয়াকেই এই বহিষ্কারের মূল কারণ হিসেবে দেখছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। উল্লেখ্য, নওগাঁ-১ (পোরশা-সাপাহার-নিয়ামতপুর) আসনে এবার বিএনপির পক্ষ থেকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমানকে।

ডা. ছালেক চৌধুরীর রাজনৈতিক ক্যারিয়ার

ডা. ছালেক চৌধুরী নওগাঁ-১ আসনে বিএনপির একজন হেভিওয়েট নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি এই আসন থেকে ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারির ষষ্ঠ সংসদ নির্বাচন, ১৯৯৬ সালের জুনের সপ্তম সংসদ নির্বাচন এবং ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টানা তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তবে এবারের নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত নেন। আজ সোমবার যাচাই-বাছাই শেষে রিটার্নিং অফিসার তাঁর মনোনয়নপত্রটি বৈধ ঘোষণা করেছেন।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: ১৯০০ থেকে ২০২৬

নওগাঁ অঞ্চলের রাজনৈতিক ইতিহাস অত্যন্ত সমৃদ্ধ। ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ উত্তরকালে বরেন্দ্র অঞ্চলের এই জনপদে প্রজা আন্দোলনের শক্তিশালী ভিত্তি ছিল। ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনেও এই এলাকায় বিদ্রোহী প্রার্থীদের আধিক্য দেখা গিয়েছিল, যা আজকের রাজনৈতিক পরিস্থিতির সাথে অনেকাংশে মিলে যায়।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে নওগাঁ-১ আসনভুক্ত এলাকাগুলো ছিল পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধের দুর্গ। পরবর্তীকালে ১৯৯০-এর গণঅভ্যুত্থান উত্তর বাংলাদেশে ১৯৯১ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত বিএনপি এই অঞ্চলে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করে, যার মূল কারিগর ছিলেন ডা. ছালেক চৌধুরীর মতো নেতারা। তবে ২০২৪-২৫ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী 'নতুন বাংলাদেশে' রাজনৈতিক সংস্কারের যে ঢেউ উঠেছে, তাতে দলগুলো শৃঙ্খলার বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করছে। ২০২৬ সালের এই নির্বাচনের আগে প্রবীণ নেতাদের বহিষ্কার এবং তরুণ নেতৃত্বের উত্থান মূলত ১৯০০ সাল থেকে চলে আসা প্রথাগত রাজনীতির এক আমূল পরিবর্তন হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।

স্থানীয় রাজনীতিতে প্রভাব

নিয়ামতপুর, পোরশা ও সাপাহার উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে এই বহিষ্কারের ঘটনায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। একদিকে দলীয় প্রার্থীর সমর্থকরা এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেও, ডা. ছালেক চৌধুরীর অনুসারীরা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তাঁর জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। আগামী নির্বাচনে এই আসনে বিএনপির ভোট ব্যাংক ভাগ হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে, যা রাজনৈতিক সমীকরণকে জটিল করে তুলতে পারে।


তথ্যসূত্র: ১. বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে জারিকৃত প্রেস বিজ্ঞপ্তি (৪ জানুয়ারি ২০২৬)। ২. জেলা রিটার্নিং অফিসার ও নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের হালনাগাদ তথ্য। ৩. বরেন্দ্র অঞ্চলের রাজনৈতিক ইতিহাস ও স্থানীয় সংবাদ দাতা।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency