প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
সরকারি চাকরিজীবীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার কেন্দ্রবিন্দু 'নবম জাতীয় পে-স্কেল-২০২৫' নিয়ে গঠিত বেতন কমিশনের নির্ধারিত সভাটি গতকাল বুধবার অনুষ্ঠিত হতে পারেনি। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে সরকার ঘোষিত তিন দিনের সাধারণ ছুটির কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কমিশন সূত্রে জানা গেছে, এই গুরুত্বপূর্ণ সভার নতুন তারিখ খুব দ্রুত নির্ধারণ করে সদস্যদের জানিয়ে দেওয়া হবে।
সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে গঠিত এই কমিশনকে প্রজ্ঞাপন জারির দিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। উল্লেখ্য, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার গত বছরের ২৭ জুলাই এই কমিশন গঠন করে।
কমিশন সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের এই নতুন পে-স্কেলে গ্রেড কাঠামো নিয়ে বর্তমানে তিনটি ভিন্ন ভিন্ন মত ও প্রস্তাবনা সদস্যদের মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে:
১. ২০টি গ্রেড বহাল রাখা: বর্তমান কাঠামো অপরিবর্তিত রেখে শুধু দ্রব্যমূল্যের সাথে সংগতি রেখে বেতন-ভাতা বাড়ানো।
২. ১৬টি গ্রেডে নামিয়ে আনা: বেতন বৈষম্য কমাতে গ্রেড সংখ্যা ২০ থেকে কমিয়ে ১৬-তে আনা।
৩. আমূল সংস্কার বা ১৪টি গ্রেড: নিম্নধাপের কর্মচারীদের বৈষম্য চিরতরে দূর করতে গ্রেড সংখ্যা ১৪টিতে নামিয়ে আনা।
বাংলাদেশের সরকারি চাকরিজীবীদের বেতনের এই বিবর্তন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ব্রিটিশ ও পাকিস্তান আমল থেকেই একটি বৈষম্যমূলক কাঠামো বিদ্যমান ছিল।
১৯৫০-এর দশক: পাকিস্তান আমলে সিভিল সার্ভিস ও প্রাদেশিক সার্ভিসের মধ্যে পাহাড়সম বৈষম্য ছিল। বাঙালির জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের অন্যতম কারণ ছিল অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক বৈষম্য।
স্বাধীনতার পর (১৯৭৩): জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সরকার স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালে প্রথম জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করে। সে সময় ১০টি গ্রেডের প্রস্তাব করা হয়েছিল যাতে নিম্ন ও উচ্চস্তরের ব্যবধান কমে আসে।
পরবর্তী কমিশনসমূহ: ১৯৭৭, ১৯৮৫, ১৯৯১, ১৯৯৭, ২০০৫ এবং ২০০৯ সালে ধাপে ধাপে পে-স্কেল ঘোষণা করা হয়। সবশেষ ২০১৫ সালে অষ্টম পে-স্কেল ঘোষণা করা হয়েছিল, যেখানে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতনের পার্থক্য নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক ছিল।
২০২৫-এর প্রেক্ষাপট: দীর্ঘ এক দশক পর নতুন পে-স্কেল আসছে। গত ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের সাধারণ কর্মচারীদের মধ্যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে যে, এবার অন্তত ঔপনিবেশিক আমলের বৈষম্যমূলক গ্রেড প্রথা দূর হবে।
কমিশনের একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, "২০টি গ্রেড থাকার কারণে নিচের ধাপের কর্মচারীরা উচ্চপদস্থদের তুলনায় অনেক পিছিয়ে পড়ছেন। আমরা চাই এমন একটি কাঠামো, যেখানে জীবনযাত্রার মান সবার জন্য সম্মানজনক হবে।" অন্যদিকে, বিভিন্ন সরকারি কর্মচারী সংগঠনের নেতারা দাবি তুলেছেন, ২০২৫ সালের এই পে-স্কেল যেন শুধু কাগজে-কলমে না হয়ে মুদ্রাস্ফীতির সাথে বাস্তবসম্মত হয়। তারা ১৯৫০-এর দশকে শুরু হওয়া সেই ব্যবধান ঘোচানোর জন্য অন্তত ১৪টি গ্রেড কার্যকর করার ওপর জোর দিচ্ছেন।
| বছর | কমিশন | প্রধান বৈশিষ্ট্য |
| ১৯৭৩ | ১ম পে-স্কেল | যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে বৈষম্য কমানোর উদ্যোগ। |
| ২০০৫ | ৬ষ্ঠ পে-স্কেল | প্রযুক্তিনির্ভর বেতন কাঠামো চালুর চেষ্টা। |
| ২০১৫ | ৮ম পে-স্কেল | সর্বোচ্চ ৮২ হাজার ও সর্বনিম্ন ৮২৫০ টাকা মূল বেতন। |
| ২০২৫ | ৯ম পে-স্কেল (প্রস্তাবিত) | গ্রেড কমিয়ে ১৪ বা ১৬টিতে নামিয়ে আনার প্রস্তাব। |
এখন দেখার বিষয়, স্থগিত হওয়া বৈঠক পুনরায় কবে অনুষ্ঠিত হয় এবং জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন কমিশন শেষ পর্যন্ত কোন প্রস্তাবনাটিকে সরকারের কাছে চূড়ান্ত হিসেবে পেশ করে।
সূত্র: ১. অর্থ মন্ত্রণালয় ও নবম জাতীয় বেতন কমিশন কর্তৃক জারিকৃত প্রজ্ঞাপন।
২. বাংলাদেশ সচিবালয় ও কমিশন সচিবালয়ের অভ্যন্তরীণ সূত্র।
৩. বাংলাদেশের সরকারি বেতন কাঠামোর ঐতিহাসিক নথিপত্র (১৯৭৩-২০২৪)।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |