তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন: ‘এলেন, দেখলেন ও জয় করলেন’ — সালাহউদ্দিন আহমদ
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর এক স্মরণীয় দিন হিসেবে খোদাই হয়ে থাকবে। দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবনের অবসান ঘটিয়ে জনসমুদ্রের ঢেউয়ে ভেসে দেশে ফিরেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার এই প্রত্যাবর্তনকে রোমান সেনাপতি জুলিয়াস সিজারের কালজয়ী উক্তির সাথে তুলনা করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, “তিনি আসলেন, দেখলেন এবং জয় করলেন।”
শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) সালাহউদ্দিন আহমদ তার ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক আবেগঘন পোস্টে তারেক রহমানকে একবিংশ শতাব্দীর একজন দূরদর্শী নেতা হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি লিখেছেন, তারেক রহমানের এই ফেরা কেবল একজন ব্যক্তির ফেরা নয়, বরং এটি জনগণের জন্য একটি স্পষ্ট পরিকল্পনা এবং জাতির প্রতি গভীর অঙ্গীকারের প্রতিফলন।
সালাহউদ্দিন আহমদ তারেক রহমানের বক্তব্যের একটি অংশ উদ্ধৃত করে লেখেন, “তারেক রহমান বলেছেন—আমার একটি পরিকল্পনা আছে, আমার দেশের জনগণের জন্য, আমার দেশের জন্য।” তিনি মনে করেন, তারেক রহমানের এই ‘ভিশন’ বা পরিকল্পনা আসন্ন সাধারণ নির্বাচনের আগে দেশবাসীকে নতুন স্বপ্ন দেখাচ্ছে।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিবর্তন পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ১৯৫০-এর দশকে ভাষার অধিকার আদায়ের যে লড়াই শুরু হয়েছিল, তার প্রতিটি মোড়ে ছিল জনমানুষের প্রবল আকাঙ্ক্ষা। ১৯৫২-র ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৬-র ৬ দফা এবং পরবর্তীতে ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ—প্রতিটি অধ্যায়ে সাহসী নেতৃত্বের মাধ্যমেই বাঙালি জাতি বিজয় ছিনিয়ে এনেছে।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পটপরিবর্তন এবং পরবর্তীতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত ধরে বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনর্জাগরণ যেভাবে থমকে যাওয়া দেশকে গতি দিয়েছিল, ২০২৫ সালে এসে তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনকে সেই একই ধারার নবজাগরণ হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। ১৯৮০ ও ৯০-এর দশকে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে যেভাবে রাজপথ উত্তাল হয়েছিল, ২০২৪-এর জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী এই প্রেক্ষাপট তাকেও ছাড়িয়ে গেছে। ৫ আগস্টের পর থেকে দেশে যে সংস্কারের হাওয়া বইছে, তারেক রহমানের ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ তাতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
বৃহস্পতিবার বেলা পৌনে ১২টায় তারেক রহমান সপরিবারে ঢাকায় পৌঁছালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে পূর্বাচলের ‘৩৬ জুলাই এক্সপ্রেসওয়ে’ (৩০০ ফিট) পর্যন্ত পুরো এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়। বিশ্লেষকদের মতে, ইতিহাসের সাক্ষী ঢাকার রাজপথ আগে কখনো এমন অভাবনীয় দৃশ্য দেখেনি। তীব্র শৈত্যপ্রবাহ উপেক্ষা করে লাখ লাখ মানুষের এই উপস্থিতি প্রমাণ করে যে, সাধারণ মানুষের মাঝে তারেক রহমানকে ঘিরে নতুন প্রত্যাশার পারদ আকাশচুম্বী।
সালাহউদ্দিন আহমদ উল্লেখ করেন যে, ১২ ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে তারেক রহমানের এই প্রত্যাবর্তন কেবল বিএনপি নয়, বরং পুরো বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের জন্য এক ইতিবাচক বার্তা।
বিশ্লেষণ: তারেক রহমানের বক্তব্যে যে ‘রাষ্ট্রনায়কোচিত ও সময়োপযোগী’ সুর পাওয়া গেছে, তা মূলত ১৯৫০-এর দশকের সেই গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষারই একটি আধুনিক রূপ। ১৭ বছর পর তার এই প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে যে রাজনৈতিক উত্তাপ সৃষ্টি হয়েছে, তা আগামী সংসদ নির্বাচনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সূত্র: ১. সালাহউদ্দিন আহমদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্ট (২৬ ডিসেম্বর ২০২৫)। ২. বিএনপি মিডিয়া সেল ও দলীয় সংবাদ বিজ্ঞপ্তি। ৩. বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস ও ঘটনার কালানুক্রমিক আর্কাইভ (১৯৫০-২০২৫)।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |