সংশোধিত বাজেটে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা বাড়ল ২৪ হাজার কোটি: ২০২৫-২৬ অর্থবছরে উন্নয়নের চেয়ে স্থিতিশীলতায় জোর
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঢাকা: দেশের অর্থনীতিতে গতি ফেরাতে এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনতে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে অন্তর্বর্তী সরকার। বুধবার (২৪ ডিসেম্বর ২০২৫) তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এই সংশোধিত বাজেট অনুমোদন দেওয়া হয়। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ২৪ হাজার কোটি টাকা বাড়ানো হয়েছে এবং আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে এই সংশোধিত বাজেট কার্যকর হবে।
বৈঠক শেষে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, চলতি অর্থবছরে রাজস্ব আহরণের গতি সন্তোষজনক। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই-অক্টোবর সময়ে রাজস্ব প্রবৃদ্ধি ছিল ২৪.১ শতাংশ, যা চলতি অর্থবছরের একই সময়ে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৬.৪ শতাংশে। এই সাফল্যের ওপর ভিত্তি করে মোট রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ৫ লাখ ৬৪ হাজার কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এর বিপরীতে, সরকারি ব্যয় কিছুটা কমিয়ে ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা থেকে ৭ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকায় নামিয়ে আনা হয়েছে। তবে সবচেয়ে বড় কাটছাঁট হয়েছে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি)। ৩০ হাজার কোটি টাকা কমিয়ে এডিপির আকার ধরা হয়েছে ২ লাখ কোটি টাকা। সরকারের এই সিদ্ধান্ত নির্দেশ করে যে, বড় প্রকল্পের চেয়ে জনগণের নিত্যদিনের কষ্ট লাঘব এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাই এখন প্রধান অগ্রাধিকার।
সরকার আশা করছে, অর্থবছর শেষে সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশে নামিয়ে আনা সম্ভব হবে। খাদ্যে মূল্যস্ফীতি একসময় ১৪ শতাংশে পৌঁছালেও বর্তমানে তা কমতির দিকে। শীতকালীন সবজির সরবরাহ বৃদ্ধি এবং কঠোর বাজার মনিটরিংয়ের ফলে এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব বলে মনে করছেন নীতিনির্ধারকরা। এছাড়া জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাংলাদেশের বাজেটের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, এটি শুধু অংকের হিসাব নয়, বরং রাজনীতির এক বিশাল প্রতিফলন।
১৯৫০-এর দশক: পাকিস্তান আমলে পূর্ব বাংলার অর্জিত রাজস্ব পশ্চিম পাকিস্তানে পাচার হওয়ার প্রতিবাদ থেকেই মূলত স্বায়ত্তশাসনের দাবির সূত্রপাত। সেই বঞ্চনার অর্থনীতিই ১৯৬৬ সালের ৬-দফা এবং পরবর্তীতে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের মূল ভিত্তি তৈরি করেছিল।
স্বাধীনতার পর (১৯৭২-১৯৯০): ১৯৭২ সালে তাজউদ্দীন আহমদের দেওয়া প্রথম বাজেটের আকার ছিল মাত্র ৭৮৬ কোটি টাকা। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনই ছিল তখন মূল লক্ষ্য। পরবর্তীতে সামরিক শাসনামলে বাজেটে প্রতিরক্ষা ও অনুন্নয়ন ব্যয় বৃদ্ধির প্রবণতা দেখা যায়।
গণতান্ত্রিক যুগ (১৯৯১-২০২৪): নব্বইয়ের দশকের পর থেকে বাজেটের আকার ক্রমাগত বেড়েছে। কিন্তু বিগত ১৫ বছরে মেগা প্রকল্পের নামে বিপুল বৈদেশিক ঋণ এবং দুর্নীতির মাধ্যমে অর্থ পাচারের অভিযোগ দেশের অর্থনীতিকে খাদের কিনারে নিয়ে যায়।
২০২৫-এর বিশেষত্ব: ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর ২০২৫-২৬ অর্থবছরের এই সংশোধিত বাজেট মূলত একটি 'মেরামতকারী' বাজেট। ১৯৫০ সালে যে অর্থনৈতিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই শুরু হয়েছিল, ২০২৫ সালে এসে ড. ইউনূসের সরকার সেই বৈষম্য দূর করে একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ার চেষ্টা করছে। এবারের বাজেটে ঘাটতি কমানো এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে অর্থায়নের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে, যা একটি স্বনির্ভর অর্থনীতির ইঙ্গিত।
সংশোধিত বাজেটে ঘাটতি ধরা হয়েছে ২ লাখ কোটি টাকা (জিডিপির ৩.৩ শতাংশ)। এই ঘাটতি মেটাতে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ৩৭ হাজার কোটি টাকা এবং বৈদেশিক উৎস থেকে ৬৩ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
সূত্র: ১. অর্থ মন্ত্রণালয় ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এর সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান। ২. প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং ও উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকের সিদ্ধান্ত (২৪ ডিসেম্বর ২০২৫)। ৩. বাংলাদেশ ব্যাংক এবং ঐতিহাসিক বাজেট রেকর্ড (১৯৫০-২০২৫)।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |