তারেক রহমানের ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তন ও ৩০০ ফিট সংবর্ধনা: ১৯৫০ থেকে ২০২৫-এর এক নতুন দিগন্ত
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে এক ঐতিহাসিক মাহেন্দ্রক্ষণ ঘনিয়ে আসছে। দীর্ঘ ১৮ বছরের নির্বাসিত জীবন শেষে আগামী ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে দেশে ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার এই স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে রাজধানী ঢাকার ৩০০ ফিট এলাকায় এখন সাজ সাজ রব। রোববার (২১ ডিসেম্বর ২০২৫) দুপুর থেকে বিশ্বরোড থেকে পূর্বাচলমুখী ৩০০ ফিট সড়কের একটি অংশে বিশাল সংবর্ধনা মঞ্চ তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। ১৯৫০ সালের গোড়ার দিক থেকে শুরু করে ২০২৫ সাল পর্যন্ত বাঙালির অধিকার আদায়ের যে নিরবচ্ছিন্ন পরিক্রমা, তারেক রহমানের এই ফেরা সেই ইতিহাসের পাতায় এক নতুন অধ্যায় যুক্ত করতে যাচ্ছে।
১৯৫০-এর দশকে ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে যে স্বাধিকার চেতনার উন্মেষ ঘটেছিল, তা ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে পূর্ণতা পায়। ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তন করেন। পরবর্তীতে নব্বইয়ের দশকের গণঅভ্যুত্থানে স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়ে দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়। ২০২৫ সালের বর্তমান প্রেক্ষাপটে তারেক রহমানের এই প্রত্যাবর্তনকে বিশ্লেষকরা গণতন্ত্রের সেই ধারাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার চূড়ান্ত ধাপ হিসেবে দেখছেন।
দলীয় সূত্রমতে, ২৫ ডিসেম্বর বেলা ১১টা ৫৫ মিনিটে বাংলাদেশ বিমানের একটি নিয়মিত বাণিজ্যিক ফ্লাইটে লন্ডন থেকে সিলেট হয়ে হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবেন তারেক রহমান। বিমানবন্দর থেকে বনানী-কাকলী হয়ে তিনি সরাসরি ৩০০ ফিট এলাকায় পৌঁছাবেন। সেখানে লক্ষ লক্ষ মানুষের উপস্থিতিতে আয়োজিত গণসংবর্ধনায় তিনি ভাষণ দেবেন।
মঞ্চ তৈরির কাজ তদারকি করছেন বিএনপির শীর্ষ নেতারা। তারা জানিয়েছেন, এই সংবর্ধনা হবে স্মরণকালের বৃহত্তম। কমিটির সদস্যরা দিনরাত পরিশ্রম করে মঞ্চ ও সংবর্ধনাস্থল প্রস্তুত করছেন। ইতিপূর্বে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার শরফ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরীর কাছ থেকে এই অনুষ্ঠানের জন্য আনুষ্ঠানিক অনুমতি পেয়েছে দলটি, যা রোববার রাতে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পর ২০২৫ সালে এসে বাংলাদেশ এখন রাষ্ট্র সংস্কারের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তারেক রহমানের এই ফেরা কেবল রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের অংশ নয়, বরং ভঙ্গুর রাষ্ট্রকাঠামো পুনর্গঠন এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার এক বড় চ্যালেঞ্জ। তারেক রহমান নিজেই বিভিন্ন সভায় ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, "সামনে অনেক কাজ, আমাদের লক্ষ্য জনগণের আস্থা অর্জন ও রাষ্ট্র মেরামত করা।"
বিশ্লেষকদের মতে, ১৯৫০ থেকে ২০২৫ পর্যন্ত ৭৫ বছরের রাজনৈতিক যাত্রায় বাংলাদেশ অনেক চড়াই-উতরাই দেখেছে। তবে ২০২৫ সালের এই ঐতিহাসিক দিনটি আধুনিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার পথে এক শক্তিশালী অনুঘটক হিসেবে কাজ করবে। তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মাঝে যে প্রাণের সঞ্চার হয়েছে, তা আগামী নির্বাচনে এক নতুন গতির সৃষ্টি করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সুত্রসমূহ: ১. বাংলাদেশ প্রতিদিন অনলাইন (তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন ও প্রস্তুতি সংক্রান্ত বিশেষ সংবাদ)। ২. এখন টিভি ও নিউজ ২৪ (৩০০ ফিট মঞ্চ নির্মাণ ও লাইভ রিপোর্ট, ২১-২২ ডিসেম্বর ২০২৫)। ৩. বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিবর্তন ও ডায়েরি (১৯৫০-২০২৫ ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট)।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |