| বঙ্গাব্দ

আসিফ-মাহফুজের গন্তব্য নিয়ে ধোঁয়াশা: এনসিপিতে যোগদানের জোরালো গুঞ্জন

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 16-12-2025 ইং
  • 2120433 বার পঠিত
আসিফ-মাহফুজের গন্তব্য নিয়ে ধোঁয়াশা: এনসিপিতে যোগদানের জোরালো গুঞ্জন
ছবির ক্যাপশন: আসিফ-মাহফুজের গন্তব্য নিয়ে ধোঁয়াশা

আপনার সরবরাহকৃত তথ্য এবং ১৯৫০ থেকে ২০২৫ সালের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করে বাংলাদেশ প্রতিদিন-এর জন্য একটি বিশেষ ও বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদন নিচে তৈরি করে দেওয়া হলো। এটি আপনি সরাসরি ব্যবহার করতে পারবেন।


চব্বিশের বিপ্লবীদের গন্তব্য নিয়ে ধোঁয়াশা: এনসিপি, বিএনপি নাকি গণঅধিকার পরিষদ?

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

ঢাকা: ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার মহাবিপ্লব—বাংলাদেশের প্রতিটি বাঁকবদলে তরুণ ও ছাত্রনেতারা নেতৃত্ব দিয়েছেন। ১৯৫০-এর দশকে যে রাজনৈতিক চেতনার উন্মেষ ঘটেছিল, ২০২৫ সালে এসে সেই ধারায় যুক্ত হয়েছে নতুন মাত্রা। বিশেষ করে চব্বিশের অভ্যুত্থানের দুই প্রধান কারিগর—সাবেক ছাত্র উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং মাহফুজ আলমের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে এখন তুঙ্গে আলোচনা। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারা কোন দল থেকে প্রার্থী হবেন, তা নিয়ে দেশজুড়ে বইছে জল্পনা-কল্পনার ঝড়।

‘ঘর’ না কি নতুন কোনো জোট?

গত ১০ ডিসেম্বর অন্তর্বর্তী সরকার থেকে পদত্যাগ করার পর থেকেই আসিফ মাহমুদ ও মাহফুজ আলমের গন্তব্য নিয়ে ধোঁয়াশা কাটছে না। রাজনৈতিক মহলে জোরালো গুঞ্জন ছিল, তারা বিএনপিতে যোগ দিচ্ছেন। এমনকি আসিফ মাহমুদের জন্য ঢাকা-১০ এবং মাহফুজ আলমের জন্য লক্ষ্মীপুর-১ আসনের নামও শোনা গিয়েছিল। তবে আসন দুটিতে বিএনপির দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত হওয়ায় সেই আলোচনা এখন স্তিমিত।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে সবচেয়ে বেশি জোরালো সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে তাদের নিজেদের ‘ঘর’ হিসেবে পরিচিত জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সঙ্গে থিতু হওয়ার। তবে এই যোগদান ঝুলে আছে ‘পদমর্যাদা’ ও ‘সাংগঠনিক ক্ষমতা’র চূড়ান্ত দফারফার ওপর।

পদের লড়াই ও দেনদরবার

সূত্র বলছে, এনসিপি, বিএনপি এবং গণঅধিকার পরিষদ—তিনটি পক্ষই এই দুই তরুণ নেতাকে দলে ভেড়াতে আগ্রহী। তবে আসিফ ও মাহফুজ নিজেদের অবস্থান নিয়ে বেশ কৌশলী।

  • মাহফুজ আলম: অভ্যুত্থানের ‘মাস্টারমাইন্ড’ হিসেবে পরিচিত মাহফুজ আলম সরাসরি সাংগঠনিক পদের চেয়ে নীতিনির্ধারণী বা সম্মানজনক অবস্থানে থাকতে আগ্রহী। তাকে এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক করার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।

  • আসিফ মাহমুদ: অন্যদিকে, আসিফ মাহমুদ চান দলের ‘সেকেন্ড-ইন-কমান্ড’ বা সদস্যসচিবের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদ। মূলত দলের ভেতরে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার নিশ্চয়তা পেলেই তারা এনসিপিতে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেবেন।

এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম-আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব এবং মিডিয়া সেলের প্রধান মুশফিক-ুস-সালেহীন মনে করেন, জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা ধারণকারী এই দুই নেতার এনসিপিতে আসাটাই স্বাভাবিক।

গণঅধিকার পরিষদের আহ্বান

সাবেক ছাত্র উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ এক সময় নুরুল হক নূরের নেতৃত্বাধীন গণঅধিকার পরিষদের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। দলটির সাধারণ সম্পাদক মো. রাশেদ খান জানিয়েছেন, আসিফ তাদের সঙ্গে আসলে সহজে মানিয়ে নিতে পারবেন। গণঅধিকার পরিষদের দরজা তার জন্য সবসময় খোলা। তিনি চাইলে নতুন দলও গড়তে পারেন—এমন স্বাধীনতাও তার রয়েছে।

১৯৫০ থেকে ২০২৫: ইতিহাসের দায়বদ্ধতা

বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায়, ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে তরুণ নেতৃত্ব যেভাবে মুসলিম লীগের ভিত কাঁপিয়ে দিয়েছিল, ২০২৫ সালের নির্বাচনে এই দুই ছাত্রনেতা একই রকম প্রভাব ফেলতে পারেন। ১৯৫০-এর দশকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যেভাবে ছাত্র রাজনীতি থেকে জাতীয় রাজনীতিতে এসে বাঙালির অধিকারের কথা বলেছিলেন, ২০২৪-এর ছাত্রনেতারাও আজ সেই ঐতিহাসিক মঞ্চে দাঁড়িয়ে।

বিশ্লেষকদের মতে, আসিফ ও মাহফুজ যদি এনসিপিতে যোগ দেন, তবে দলটির রাজনৈতিক কৌশলে বড় পরিবর্তন আসবে। সেক্ষেত্রে বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচন করার সম্ভাবনাও উজ্জ্বল হবে। এই তরুণ নেতৃত্ব এবং বড় রাজনৈতিক দলগুলোর সমন্বয় ২০২৫ সালের নির্বাচনে একটি নতুন শক্তির ভারসাম্য তৈরি করতে পারে।

নির্বাচনের প্রস্তুতি ও আগামীর পথ

চলতি বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি নাহিদ ইসলাম পদত্যাগ করার পর ২৮ ফেব্রুয়ারি এনসিপি আত্মপ্রকাশ করে। জুলাই অভ্যুত্থানের বড় অংশ এই দলে যুক্ত হলেও আসিফ ও মাহফুজ এতদিন সরকারের অংশ ছিলেন বলে যোগ দেননি। এখন তারা মুক্ত। এক সপ্তাহের মধ্যেই এনসিপিতে যোগদানের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তারা কোন আসন থেকে নির্বাচন করবেন, তা ঝুলে আছে জোটবদ্ধ হওয়া বা দলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর।


সূত্র: এনসিপি ও গণঅধিকার পরিষদের নীতিনির্ধারণী পর্যায়, রাজনৈতিক বিশ্লেষণী প্রতিবেদন এবং যুগান্তর।

বিশ্লেষণ: এই প্রতিবেদনটি বর্তমানের রাজনৈতিক জটিলতাকে ১৯৫০ সাল থেকে শুরু হওয়া ছাত্র আন্দোলনের দীর্ঘ ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত করেছে। ২০২৫ সালের নির্বাচনে আসিফ মাহমুদ ও মাহফুজ আলমের ভূমিকা কেবল সংসদ সদস্য হওয়ার লড়াই নয়, বরং রাষ্ট্র সংস্কারের অঙ্গীকার পূরণের একটি বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency