🇺🇸 ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ: ১৯ দেশের অভিবাসীদের সব 'গ্রিন কার্ড' নতুন করে খতিয়ে দেখা হবে
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীদের উপর কঠোরতা আরও বাড়াল ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। হোয়াইট হাউসের নির্দেশে এবার ১৯টি দেশের নাগরিকদের দেওয়া সব 'গ্রিন কার্ড' (স্থায়ী বসবাসের অনুমতি) নতুন করে কঠোরভাবে খতিয়ে দেখা হবে। মার্কিন সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (USCIS) প্রধানের এই ঘোষণায় আন্তর্জাতিক মহলে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
ইউএসসিআইএস (USCIS) প্রধান জোসেফ এডলো জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাকে সরাসরি নির্দেশ দিয়েছেন, ‘ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলো থেকে আসা প্রতিটি অভিবাসীর গ্রিন কার্ড কঠোরভাবে, বড় পরিসরে এবং গভীরভাবে পুনর্বিবেচনা’ করতে।
ট্রাম্প প্রশাসনের এই কঠোর সিদ্ধান্ত এলো বুধবার ওয়াশিংটন ডিসিতে এক আফগান নাগরিকের গুলিতে দুই ন্যাশনাল গার্ড সদস্য গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনার ঠিক পরই। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই হামলাকে ‘গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় নিরাপত্তা সমস্যার’ দিকে ইঙ্গিত বলে মন্তব্য করেছেন।
হামলার সন্দেহভাজন রহমানুল্লাহ লাকানওয়াল ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন। সে সময় আমেরিকা আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহারের পর বিশেষ অভিবাসন নিরাপত্তা কর্মসূচির (SIV) অধীনে অনেক আফগানকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।
জোসেফ এডলো তার বৃহস্পতিবারের সামাজিক মাধ্যমে সরাসরি এই হামলার কথা উল্লেখ না করলেও, ঘটনার পরপরই এই ঘোষণা জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টিকেই সামনে আনল।
যদিও ইউএসসিআইএস কর্তৃপক্ষ সরাসরি ১৯টি দেশের পুরো তালিকা প্রকাশ করেনি, তবে তারা হোয়াইট হাউসের জুন মাসের এক ঘোষণার দিকে ইঙ্গিত করেছে। সেই ঘোষণা এবং অন্যান্য তথ্য অনুযায়ী, যেসব দেশের গ্রিন কার্ডধারীরা এই কঠোর যাচাইয়ের মুখে পড়বেন, তাদের মধ্যে প্রধান কয়েকটি হলো:
আফগানিস্তান
কিউবা
হাইতি
ইরান
সোমালিয়া
ভেনেজুয়েলা
মিয়ানমার
চাদ
কঙ্গো প্রজাতন্ত্র
লিবিয়া
হোয়াইট হাউসের জুনের ঘোষণায় বলা হয়েছিল, ‘বিদেশি সন্ত্রাসী এবং জাতীয় নিরাপত্তা ও জননিরাপত্তার ঝুঁকির’ কারণে কিছু দেশের নাগরিকদের প্রবেশ সীমিত করা প্রয়োজন। এই দেশগুলোর ক্ষেত্রে নিরাপত্তা উদ্বেগ এবং ব্যবসা, ছাত্র ও ভ্রমণ ভিসার মেয়াদ শেষে অতিরিক্ত থাকার হারকেও প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
কীভাবে গ্রিন কার্ড পুনর্বিবেচনা করা হবে বা গ্রিন কার্ড বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে কি না—সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত প্রক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে এটি স্পষ্ট যে এই প্রক্রিয়া অত্যন্ত কঠোর এবং সময়সাপেক্ষ হবে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ট্রাম্প প্রশাসন ধারাবাহিকভাবে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা দেখাচ্ছে:
শরণার্থী পর্যালোচনা: এর আগে গত সপ্তাহে ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সময় অনুমোদন পাওয়া সব শরণার্থী নিয়ে একটি পর্যালোচনা শুরুর ঘোষণা দেয়।
আফগান আবেদন বন্ধ: বুধবার যুক্তরাষ্ট্র আফগান নাগরিকদের সব অভিবাসন আবেদন প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়। সংস্থাটি জানায়, ‘নিরাপত্তা ও ভেটিং প্রটোকল’ নতুন করে পর্যালোচনার জন্য এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপগুলো অভিবাসন নীতিতে একটি বড় পরিবর্তন এবং বহু বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী বৈধ স্থায়ী বাসিন্দাদের মধ্যেও নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মার্কিন সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (USCIS) প্রধান জোসেফ এডলোর বক্তব্য
হোয়াইট হাউসের জুন মাসের অফিসিয়াল ঘোষণা
বিবিসি প্রতিবেদন (সাক্ষাৎকার ও তথ্য যাচাই)
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |