| বঙ্গাব্দ

স্বাস্থ্য প্রতিবেদন: নারী সাংবাদিককে 'কুৎসিত' বলে আক্রমণ ট্রাম্পের

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 27-11-2025 ইং
  • 2420856 বার পঠিত
স্বাস্থ্য প্রতিবেদন: নারী সাংবাদিককে 'কুৎসিত' বলে আক্রমণ ট্রাম্পের
ছবির ক্যাপশন: ট্রাম্প

জেন্ডার সংবেদনশীলতার তোয়াক্কা নেই: নারী সাংবাদিককে ‘কুৎসিত’ বলে আক্রমণ ট্রাম্পের, নিউইয়র্ক টাইমসের কড়া জবাব

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

নিজের বয়স ও শারীরিক সক্ষমতা নিয়ে নিউইয়র্ক টাইমসের একটি তথ্য-উপাত্তভিত্তিক বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশের পর ক্ষুব্ধ হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে তিনি ওই প্রতিবেদনের একজন সহ-লেখক, নারী সাংবাদিক কেটি রজার্সকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করেছেন এবং তাঁকে ‘ভেতর ও বাইর—উভয় দিক থেকেই কুৎসিত’ বলে কটু মন্তব্য করেছেন।

বুধবার (২৬ নভেম্বর) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ৭৯ বছর বয়সি ট্রাম্প এই চরম অরুচিকর আক্রমণটি করেন। এর মাত্র দুই সপ্তাহ আগেই তিনি আরেক নারী সাংবাদিককে ‘চুপ করো, পিগি’ বলে ধমক দিয়েছিলেন। পরপর এমন ঘটনা জেন্ডার সংবেদনশীলতা এবং নারী সাংবাদিকদের প্রতি ক্ষমতাধরদের আচরণের বিষয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

নারী সাংবাদিককে লক্ষ্যবস্তু বানানোর কৌশল

নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনটি যৌথভাবে লিখেছিলেন পত্রিকাটির এআই ইনিশিয়েটিভ টিমের ডিলান ফ্রেডম্যান (পুরুষ সাংবাদিক) এবং হোয়াইট হাউস প্রতিনিধি কেটি রজার্স (নারী সাংবাদিক)। ট্রাম্প তার পোস্টে পুরুষ সাংবাদিক ডিলানের নাম উল্লেখ না করে ব্যক্তিগত আক্রমণের মূল লক্ষ্য বানিয়েছেন কেবল নারী সাংবাদিক কেটি রজার্সকে।

ট্রাম্প লিখেছেন:

“প্রতিবেদক কেটি রজার্সকে নিয়োগই দেওয়া হয়েছে আমার সম্পর্কে কেবল বাজে কথা লেখার জন্য। সে একজন তৃতীয় শ্রেণির সাংবাদিক; যে ভেতর ও বাইর—উভয় দিক থেকেই কুৎসিত।”

স্বাস্থ্য নিয়ে নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, অক্টোবরের শুরুর দিকে ট্রাম্প একবার এমআরআই স্ক্যান করিয়েছিলেন, কিন্তু কারণ জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি। এই বিষয়ে পত্রিকাটির বিস্তারিত প্রশ্নের জবাবে প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট উলটো বাইডেনকে কটাক্ষ করে ট্রাম্প প্রশাসনের ‘খোলামেলা ও স্বচ্ছ’ হওয়ার দাবি করেন। ট্রাম্প নিজেও তার পোস্টে দাবি করেন, জনমত জরিপে তিনি এখন সর্বকালের সেরা অবস্থানে আছেন এবং তার স্বাস্থ্য নিয়ে তিনি ‘দারুণ ফল’ করেছেন।

প্রেসিডেন্টদের স্বাস্থ্য ও গণমাধ্যমের ভূমিকা (১৯৫০-২০২৫ প্রেক্ষাপট)

মার্কিন প্রেসিডেন্টদের স্বাস্থ্য নিয়ে গণমাধ্যম এবং জনগণের উদ্বেগ নতুন নয়। তবে ট্রাম্পের এই আক্রমণ আধুনিক রাজনীতিতে জেন্ডারভিত্তিক হয়রানির এক নতুন ধারার সূচনা করেছে:

  • স্বাস্থ্য ও সক্ষমতার প্রশ্ন: দীর্ঘকাল ধরেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টদের বয়স ও স্বাস্থ্য নিয়ে বিতর্ক চলে আসছে (যেমন রোনাল্ড রিগ্যানের দ্বিতীয় মেয়াদ)। ২০২৫ সালের নির্বাচনকে সামনে রেখে ট্রাম্প এবং বর্তমান প্রেসিডেন্ট বাইডেন উভয়ের উচ্চ বয়স থাকায়, তাদের শারীরিক ও কগনিটিভ সক্ষমতা নিয়ে তথ্য-উপাত্তভিত্তিক প্রতিবেদন প্রকাশ করা গণমাধ্যমের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

  • গণমাধ্যমের প্রতি বিদ্বেষ: ডোনাল্ড ট্রাম্পের সময়কালে (২০১৬-২০২০) সংবাদমাধ্যমকে 'জনগণের শত্রু' হিসেবে আখ্যা দেওয়া এবং সাংবাদিকদের, বিশেষ করে নারী সাংবাদিকদের প্রতি ব্যক্তিগত আক্রমণ করা এক নতুন রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে আবির্ভূত হয়। **(১৯৫০-২০২৫ প্রেক্ষাপট: মার্কিন রাজনীতিতে সংবাদপত্রের সঙ্গে সংঘাতের ইতিহাস থাকলেও, ট্রাম্পের মতো ব্যক্তিগত ও লিঙ্গভিত্তিক আক্রমণ অভূতপূর্ব।) **

  • জেন্ডার সংবেদনশীলতা: পুরুষ সহ-লেখকের নাম এড়িয়ে কেবল নারী সাংবাদিককে 'কুৎসিত' বলে আক্রমণ করা জেন্ডারভিত্তিক হয়রানির একটি স্পষ্ট উদাহরণ। এই ধরনের আচরণ বিশ্বের অন্যান্য দেশেও, যেমন বাংলাদেশে, রাজনৈতিক নেতাদের কাছ থেকে নারী সাংবাদিকদের ওপর অনলাইন হয়রানি বৃদ্ধিতে ইন্ধন জোগায়।

নিউইয়র্ক টাইমসের কড়া জবাব

ট্রাম্পের কুরুচিকর মন্তব্যের কঠোর জবাব দিয়েছে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস। বুধবার পত্রিকাটির একজন মুখপাত্র স্পষ্ট বিবৃতি দিয়ে সাংবাদিক কেটি রজার্স এবং প্রতিষ্ঠানের পক্ষে অবস্থান নেন।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে:

“দ্য টাইমসের প্রতিবেদনটি নির্ভুল এবং সরাসরি তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি। বাজে নামে ডাকা বা ব্যক্তিগত আক্রমণ—কোনো কিছুই সত্যকে বদলাতে পারবে না। ভয়ভীতি দেখানোর এমন কৌশলের মুখেও আমাদের সাংবাদিকেরা বর্তমান প্রশাসনের সংবাদ সংগ্রহে বিন্দুমাত্র পিছপা হবেন না।”

পত্রিকাটি আরও দাবি করে, কেটি রজার্সের মতো নিবেদিতপ্রাণ সাংবাদিকেরাই প্রমাণ করেন যে কীভাবে একটি স্বাধীন ও মুক্ত গণমাধ্যম যুক্তরাষ্ট্রের জনগণকে তাদের সরকার ও নেতাদের আরও ভালোভাবে বুঝতে সহায়তা করে।


সূত্র

১. ডোনাল্ড ট্রাম্পের 'ট্রুথ সোশ্যাল' পোস্ট (২৬ নভেম্বর, ২০২৫)। ২. দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের সাংবাদিক কেটি রজার্স ও ডিলান ফ্রেডম্যানের প্রকাশিত প্রতিবেদন। ৩. মার্কিন রাজনীতিতে নারী সাংবাদিক ও মিডিয়ার স্বাধীনতা নিয়ে প্রকাশিত বিশেষজ্ঞ বিশ্লেষণ।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency