ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান নিয়ে সৌদি আরবে বৈঠকে বসেছে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া। এই উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে অংশ নিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ। তবে এই বৈঠকে ইউক্রেন বা ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোনো প্রতিনিধিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
কীভাবে ইউক্রেন যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটতে পারে, তা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। পরবর্তী ধাপে আলোচনার জন্য প্রতিনিধি দল নিয়োগ করবে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া। সেই সময় ইউক্রেন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নকেও আলোচনায় যুক্ত করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার কূটনৈতিক যোগাযোগ পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত
বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনরায় চালুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন পর রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র পরস্পরের দেশে রাষ্ট্রদূত নিয়োগের ব্যাপারে একমত হয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর বক্তব্য
মার্কো রুবিও বলেছেন,
"এই আলোচনার মাধ্যমে একটি লম্বা ও কঠিন যাত্রাপথের সূচনা হলো। এটি প্রথম ধাপ।"
তিনি জানান, গত সপ্তাহে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের টেলিফোন সংলাপের ধারাবাহিকতায় এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন,
"আমি বুঝতে পেরেছি, ইউক্রেন যুদ্ধের সমাপ্তির কঠিন প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে রাশিয়া আগ্রহী। এছাড়া দুই দেশে রাষ্ট্রদূতদের কার্যক্রমও পুনরায় শুরু করা হবে।"
ইউক্রেনকে কেন এই আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,
"কাউকে সাইডলাইনে রাখা হয়নি। ভবিষ্যতে ইউক্রেন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নকে আলোচনায় যুক্ত করা হবে।"
রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের বক্তব্য
রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ বলেন,
*"আলোচনায় আমরা তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে একমত হয়েছি—
১️⃣ যত দ্রুত সম্ভব দু’দেশে রাষ্ট্রদূতের কার্যক্রম পুনরায় চালু করা।
২️⃣ ইউক্রেন ইস্যুতে উভয় দেশ প্রতিনিধি নিয়োগ করবে এবং পরবর্তী ধাপে আলোচনার প্রসার ঘটবে।
৩️⃣ বিভিন্ন ক্ষেত্রে পূর্ণাঙ্গ সহযোগিতার পরিবেশ তৈরি করা হবে।"*
তিনি আরও বলেন,
"প্রেসিডেন্ট পুতিন বারবার বলেছেন, ইউক্রেনকে ন্যাটো জোটের অন্তর্ভুক্ত করা মানে রাশিয়ার জন্য সরাসরি হুমকি। অন্য কোনো দেশের পতাকা নিয়ে সেখানে সশস্ত্র বাহিনীর উপস্থিতি পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন ঘটাতে পারবে না। এটি পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য।"
ইউক্রেনের প্রতিক্রিয়া
যখন এই বৈঠক চলছিল, তখন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদামির জেলেনস্কি তুরস্ক সফরে ছিলেন। সেখানে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন,
"আমাদের অন্তর্ভুক্ত না করে ইউক্রেন যুদ্ধের শান্তি আলোচনা সম্ভব নয়। ইউক্রেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, তুরস্ক এবং যুক্তরাজ্যেরও আলোচনায় অংশগ্রহণ করা উচিত।"
তিনি আরও বলেন,
"আমরা ন্যায্যভাবে শান্তি চাই। আমাদের পেছনে কেউ আমাদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারবে না।"
তুরস্কের প্রতিক্রিয়া
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিচিপ তায়িপ এরদোয়ান বলেছেন,
"রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের মধ্যে পরবর্তী ধাপের আলোচনা তুরস্কে অনুষ্ঠিত হতে পারে। তবে ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ডের অখণ্ডতা নিয়ে কোনো আপসের সুযোগ নেই।"
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |