| বঙ্গাব্দ

জামায়াতের ক্ষমা ব্যক্তিগত নয়, দলের আনুষ্ঠানিক রেজুলেশন চাই: ঐতিহাসিক দায়মুক্তির শর্ত দিলেন আনিস আলমগীর

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 24-10-2025 ইং
  • 3851364 বার পঠিত
জামায়াতের ক্ষমা ব্যক্তিগত নয়, দলের আনুষ্ঠানিক রেজুলেশন চাই: ঐতিহাসিক দায়মুক্তির শর্ত দিলেন আনিস আলমগীর
ছবির ক্যাপশন: আনিস আলমগীর

জামায়াতকে ক্ষমা চাইলে তা হতে হবে দলীয় সিদ্ধান্তে, ব্যক্তিগত বিবৃতিতে নয়: সাংবাদিক আনিস আলমগীর

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

জামায়াতে ইসলামী কর্তৃক সম্প্রতি জাতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনার বিষয়ে কলামিস্ট ও সাংবাদিক আনিস আলমগীর মন্তব্য করেছেন যে, এই ক্ষমা প্রার্থনা ব্যক্তিগত বিবৃতি দিয়ে নয়, বরং দলের সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত ও আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মাধ্যমে আনতে হবে। তাঁর মতে, ১৯৭১ সালের ঐতিহাসিক ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায় জামায়াতকে দলীয়ভাবে স্বীকার করে নিতে হবে।

ডা. শফিকুর রহমানের পক্ষ থেকে নিউইয়র্কে সাংবাদিকদের কাছে দেওয়া ক্ষমা প্রার্থনার প্রেক্ষিতে (২২ অক্টোবর, ২০২৫) আনিস আলমগীর একটি টকশোতে এই বিশ্লেষণধর্মী অভিমত তুলে ধরেন।

ব্যক্তিগত ক্ষমা নয়, চাই সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত:

সাংবাদিক আনিস আলমগীর জামায়াতকে 'একটি সুসংগঠিত রাজনৈতিক দল' হিসেবে স্বীকৃতি দিলেও, ইতিহাস সবসময় দলের সিদ্ধান্তকে অনুসরণ করে, কোনো ব্যক্তির ভাষ্যকে নয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন:

  • সংগঠনের সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত: জামায়াতকে যদি তারা সত্যিই ক্ষমা চান, তা হলে সেটি দলে বসে, সংগঠনের সর্বোচ্চ সিদ্ধান্তে আনতে হবে — ব্যক্তিগত বিবৃতি দিয়ে নয়।

  • দোষ স্বীকার ও ক্ষমা: ১৯৭১ সালের ঘটনাসমূহ নিয়ে আলোচনা এড়িয়ে গিয়ে শুধুমাত্র সামান্য কথাবার্তা বা ভঙ্গি দিয়ে বিষয়টি মিশ্রিত করা যাবে না; দলের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে দোষ স্বীকার ও ক্ষমা চাওয়া দরকার।

আলমগীর আরও যোগ করেন, "জামায়াত অপরাধ করেছে, একথা বলাও এখন অপরাধ।" এই মন্তব্যটি জামায়াতের অতীত ভূমিকা নিয়ে বাংলাদেশে বিদ্যমান সামাজিক ও রাজনৈতিক সংবেদনশীলতার দিকটি তুলে ধরে।

একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের দলীয় দায়:

আনিস আলমগীরের মতে, জামায়াতকে ক্ষমা চাওয়ার জন্য ১৯৭১ সালের নিম্নলিখিত অভিযোগগুলো দলীয়ভাবে স্বীকার করতে হবে:

১. পাকিস্তান পক্ষ সমর্থন: যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে পাকিস্তানকে সমর্থন করা। ২. সহিংসতায় সংশ্লিষ্টতা: রাজাকার, আলবদর ও আলশামস সংগঠনের সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্টতা। ৩. মানবতাবিরোধী অপরাধ: বুদ্ধিজীবী হত্যা ও গণহত্যাসহ সংঘটিত সকল মানবতাবিরোধী অপরাধ।

আলমগীর যুক্তি দেন, ১৯৭১ সালকে কেন্দ্র করে জামায়াতের নির্দিষ্ট অপরাধ—যেমন পাকিস্তানকে সাপোর্ট করা ও সম্মিলিত সহায়তায় গণহত্যায় অংশ নেওয়া—এসব শাস্তিযোগ্য ও ক্ষমার দাবির বিষয়। যদি দলের কেউ বা অনেকে এ ধরনের অপরাধে সহভাগী ছিল, তবে সেই অপরাধসমূহের জন্য দলের পক্ষ থেকে ক্ষমা চাওয়া ছাড়া সামাজিক ও ঐতিহাসিক নিষ্পত্তি অসম্পূর্ণ থাকবে।

আইসিটি রায় ও ন্যায়বিচারের প্রশ্ন:

সাংবাদিক আনিস আলমগীর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি)-এর রায় এবং এর প্রাসঙ্গিকতাকে এই বিতর্কের কেন্দ্রে নিয়ে আসেন।

  • ঐতিহাসিক প্রমাণ: তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) যাদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া হয়েছে এবং যাদের শাস্তি হয়েছে, সেগুলো ইতিহাসিক প্রমাণ হিসেবে আছে—এ বিষয়ে প্রাসঙ্গিকতা অনস্বীকার্য।

  • প্রকাশের প্রক্রিয়া: তার মতে, শুধুমাত্র ব্যক্তিগত ক্ষমা প্রস্তাব বা টকশো-স্তরের বিবৃতি দিয়ে কাজ হবে না; দলীয় রেজুলেশন, টেলিভিশন ও পত্রিকার মাধ্যমে প্রকাশ এবং সাধারণ মানুষের কাছে স্পষ্টভাবে ঘোষণা প্রয়োজন।

আলমগীরের বক্তব্য অনুযায়ী, ১৯৭২ সালে গঠিত আন্তর্জাতিক-পর্যায়ের বিচার ব্যবস্থাপনা এবং পরবর্তীকালে দেশের নিয়মানুযায়ী আইনি প্রক্রিয়াগুলো—যা কিছু নেতার বিরুদ্ধে অভিযুক্তি ও ফৌজদারি রায়/শাস্তি দিয়েছে—এই বিতর্ককে পেছনে রাখেনি। এসব প্রাসঙ্গিকতা জনসমক্ষে জাতীয় স্মৃতিশক্তি ও ন্যায়বিচারের প্রশ্নও তোলে।

রাজনৈতিক পুনর্গঠন ও ঐতিহাসিক জবাবদিহি:

বাংলাদেশের ইতিহাস, ন্যায় এবং রাজনৈতিক পুনর্গঠন—এই তিনটিকে মিলিয়ে আনতে আলমগীরের দিকনির্দেশ হলো: দলীয় স্তরে স্পষ্ট স্বীকারোক্তি ও ক্ষমা ছাড়া ঐতিহাসিক জবাবদিহি সম্পূর্ণ হবে না; আর তা না হলে সামাজিক আঘাত ও রাজনৈতিক উত্তাপ থেকেই যাবে।

বিশ্লেষণ:

সাংবাদিক আনিস আলমগীরের এই বক্তব্য জামায়াতে ইসলামীর ক্ষমা প্রার্থনার রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক তাৎপর্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। তাঁর দাবি, ১৯৪৭ সাল থেকে শুরু করে ক্ষমা চাওয়ার যে কথা জামায়াত আমির বলেছেন, তা যথেষ্ট নয়। মূল বিতর্কটি হলো, ১৯৭১ সালের মানবতাবিরোধী অপরাধকে জামায়াত সাংগঠনিকভাবে অপরাধ হিসেবে স্বীকার করবে কিনা। যেহেতু আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি)-এর মাধ্যমে জামায়াতের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের একাত্তরের অপরাধের জন্য শাস্তি হয়েছে, তাই এই অপরাধের দায়ভার দলীয় রেজুলেশনের মাধ্যমে গ্রহণ করা ছাড়া জনসমক্ষে তাদের গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করা সম্ভব নয়। ব্যক্তিগত ক্ষমা প্রার্থনাকে ঐতিহাসিক দায়মুক্তির চেষ্টা হিসেবে দেখা যেতে পারে, কিন্তু দলীয় সিদ্ধান্ত ছাড়া এই পদক্ষেপ বাংলাদেশের রাজনীতিতে নৈতিক ও ঐতিহাসিক নিষ্পত্তির মাপকাঠি পূরণ করতে পারে না। আলমগীরের এই বিশ্লেষণটি মূলত বাংলাদেশের রাজনৈতিক পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় ঐতিহাসিক জবাবদিহিতার অপরিহার্যতাকে তুলে ধরে।


সূত্র: ১. সাংবাদিক ও কলামিস্ট আনিস আলমগীরের সাম্প্রতিক টকশো-তে প্রদত্ত বক্তব্য। ২. বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের নিউইয়র্কের সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপ (২২ অক্টোবর, ২০২৫)।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency