প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) গুম ও নির্যাতন–সংক্রান্ত মামলায় ১৫ জন কর্মরত সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ৮ অক্টোবর গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পরও তাদের আনুষ্ঠানিক গ্রেফতার কার্যকর হয়নি—সরকারি নির্দেশ পেলেই পুলিশ এগোবে বলে জানাচ্ছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। এদের অধিকাংশই সেনা হেফাজতে আছেন। এদিকে ঢাকা সেনানিবাসের এমইএস বিল্ডিং নং–৫৪-কে সাময়িক কারাগার (সাব–জেল) ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি হয়েছে—গ্রেফতারের পর আদালতের নির্দেশে সেখানে আটক রাখার প্রস্তুতি চলছে।
প্রসিকিউশন বলছে, গ্রেফতারের প্রাথমিক এখতিয়ার পুলিশ প্রশাসনের, তবে কোথায় রাখা হবে তা আদালত নির্ধারণ করবেন—হোম মন্ত্রণালয়ের গেজেট অনুযায়ী সাব–জেল ঘোষণার বৈধ ক্ষমতাও সরকারের রয়েছে। আইসিটির চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, “গ্রেফতারের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আসামিকে আদালতে হাজির করতে হবে”—কোথায় রাখা হবে তা আদালতের আদেশে স্পষ্ট হবে।
পুলিশ সদর দপ্তর ও ডিএমপি–সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সেনা হেফাজতে থাকা ব্যক্তিদের গ্রেফতার পুলিশ না করবে, সেনা আইনে বিচার হবে—এসব বিষয়ে চূড়ান্ত নির্দেশনা সরকারের। ডিএমপি কমিশনার শেখ মোহাম্মদ সাজ্জাত আলী সাম্প্রতিক ব্রিফিংয়ে বলেন, চলমান নির্বাচন–সংশ্লিষ্ট কাজে কোনো পক্ষপাত পেলে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে; একইসঙ্গে সেনা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখে আইনি প্রক্রিয়া এগোনো হবে।
হোম মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ঢাকা সেনানিবাসে বশার রোডের উত্তরে অবস্থিত এমইএস বিল্ডিং নং–৫৪-কে সাময়িক কারাগার ঘোষণা করা হলো। প্রিজনার্স অ্যাক্ট, ১৯৮৪–এর আলোকে সরকার যে কোনো স্থাপনাকে সাময়িক কারাগার ঘোষণা করতে পারে—আইসিটির মামলার আসামিদের নিরাপত্তা, প্রোডাকশন ও ট্রানজিট–ম্যানেজমেন্টে এটিকে অপারেশনাল সল্যুশন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এক্স–ফোর্সেস অ্যাসোসিয়েশন বলছে, বিচার স্বচ্ছ প্রমাণ ও সংবিধান–মানবাধিকার–নীতি মেনে হতে হবে; প্রয়োজনে সেনা আইন (MBAML) সংশোধন করে ট্রাইব্যুনাল ও সামরিক কর্তৃপক্ষের সমন্বিত প্রক্রিয়াতে এগোনোর প্রস্তাব দেয় সংগঠনটি। তাদের ভাষ্য, আইসিটি–সেনা সমন্বয় ঘটলে দৃষ্টান্তমূলক বিচার সম্ভব হবে এবং রায়–কার্যকারিতাও টেকসই হবে।
আইসিটি ৮ অক্টোবর গুম–নির্যাতন–সংক্রান্ত অন্তত তিনটি মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে; সেনাবাহিনী জানায়—পরোয়ানাভুক্ত ১৫ কর্মরত কর্মকর্তাকে সেনা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এ অবস্থানকে আইনের সমতা–নীতির আলোকে প্রশ্নযুক্ত বলে মন্তব্য করেছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমও ঘটনাটিকে বাংলাদেশের অ্যাকাউন্টেবিলিটি প্রসেস–এর নতুন ধাপ হিসেবে দেখছে।
গ্রেফতার–প্রোডাকশন: পুলিশের গ্রেফতার দেখানো ও ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আদালতে পেশ—এরপর আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী সাব–জেলে বা কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা।
কাস্টডির আইনি ভিত্তি: কাস্টডি কোথায়/কীভাবে—এটি আদালত–নির্ধার্য; প্রশাসন গেজেট–সম্মত সাব–জেলের লজিস্টিকস প্রস্তুত রেখেছে।
সমন্বয় কাঠামো: এক্স–ফোর্সেস অ্যাসোসিয়েশনের প্রস্তাবমতো আইসিটি–সেনা সমন্বয় ও আইন–সংশোধন আলোচনায় আসতে পারে—স্বচ্ছতা ও টেকসই–বিচারের স্বার্থে।
The Daily Star — ICT cases against army officers: Sub-jail declared in Dhaka cantonment (Oct 14, 2025): এমইএস বিল্ডিং নং–৫৪ সাব–জেল গেজেট ও কার্যপ্রসঙ্গ।
bdnews24 — Dhaka Cantonment building declared ‘temporary prison’ (Oct 13–14, 2025): লোকেশন–বিবরণসহ গেজেট প্রতিবেদন।
Prothom Alo (EN) — Police to arrest, accused to be produced before court within 24 hrs: Tajul (Oct 13, 2025): ২৪ ঘণ্টা–নিয়ম ও আদালত–নির্দেশ।
The Business Standard — Exemplary trial possible through ICT–army coordination: Ex-Forces Association (Oct 14, 2025): সমন্বয় ও আইন–সংশোধনের আহ্বান।
The Daily Star — MES building at Dhaka Cantonment declared as sub-jail (Oct 13, 2025): সাব–জেল প্রজ্ঞাপনের প্রাথমিক প্রতিবেদন।
The Times of India — Bangladesh: Arrest warrants issued on Oct 8 in ICT cases; 15 army officers in custody (Oct 8–12, 2025): পরোয়ানা ও সেনা হেফাজত প্রসঙ্গের আন্তর্জাতিক কাভারেজ।
Views Bangladesh — Bias in election duty will lead to disciplinary action: DMP Commissioner (Oct 13, 2025): ডিএমপি কমিশনারের সতর্কবার্তা (সমসাময়িক প্রেক্ষাপট)।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |