প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে আজ শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নেতাকর্মীদের উদ্দেশে দুইটি অঙ্গীকার পুনঃনিশ্চিত করতে বলেন—(১) দলীয় সিদ্ধান্তে পূর্ণ ঐক্য ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা, (২) বিএনপির নাম ভাঙিয়ে ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলের যে কোনো চেষ্টা প্রতিহত করা। তিনি দাবি করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের নানা সংস্কার প্রস্তাবের অধিকাংশ (তার ভাষায় ~৯৫%) ইতোমধ্যে বিএনপির ৩১ দফা রূপরেখায় ছিল। পাশাপাশি তিনি বলেন, ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে দল ও সমর্থকেরা “ইস্পাতের মতো” ঐক্য বজায় রাখলে ধানের শীষের পক্ষেই জনরায় আসবে।
সম্মেলনের উদ্বোধন করেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, এমরান সালেহ প্রিন্স, কোষাধ্যক্ষ এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট শাহ মো. ওয়ারেছ আল মামুন, আবু ওয়াহাব আকন্দ ও সদস্য লায়লা বেগম, শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল প্রমুখ। সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপির সভাপতি শরীফুল আলম; সঞ্চালনায় ছিলেন সাধারণ সম্পাদক মো. মাজহারুল ইসলাম।
বাংলাদেশের দলীয় রাজনীতি ও নির্বাচন কাঠামোকে বুঝতে হলে ইতিহাসের কয়েকটি বাঁকে ফিরে তাকাতে হয়—
১৯৫২: ভাষা আন্দোলন—ছাত্র সমাজের রক্তে গণ-অধিকার রাজনীতির ভিত্তি।
১৯৫৪: যুক্তফ্রন্ট বিজয়—বাঙালি স্বায়ত্তশাসনচেতনার উত্থান।
১৯৬৬–১৯৬৯: ছয় দফা ও গণঅভ্যুত্থান—স্বাধীনতার পথ প্রশস্ত।
১৯৭১: মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা—গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রচিন্তার প্রাতিষ্ঠানিক সূচনা।
১৯৯০–১৯৯১: স্বৈরাচার পতন; সংসদীয় শাসনে প্রত্যাবর্তন (১২তম সংশোধনী)।
১৯৯৬: নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার (১৩তম সংশোধনী) প্রবর্তন—বিশ্বাস পুনর্গঠন।
২০১১: ১৫তম সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক বিলুপ্ত—আস্থার সংকট বাড়ে।
২০১৪ ও ২০১৮: অংশগ্রহণ ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে তীব্র বিতর্ক; ২০১৪ সালে বয়কট ও অপ্রতিদ্বন্দ্বী জয়, ২০১৮-তেও স্বচ্ছতা নিয়ে সমালোচনা।
২০২৪ (জুলাই–আগস্ট): ছাত্রনেতৃত্বাধীন বিক্ষোভ-সংকটের পর ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগ; ৮ আগস্ট নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে শপথ—বাংলাদেশ নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করে।
এই ধারাবাহিকতা দেখায়—আইনসম্মত ভিত্তি + অন্তর্ভুক্তিমূলক অংশগ্রহণ + নিরপেক্ষ প্রশাসন—এই তিন স্তম্ভই গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের শর্ত।
ডাকসু (৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫) ও জাকসু (১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫)—দুই ক্যাম্পাসেই দীর্ঘ বিরতির পর ছাত্ররাজনীতির বড় পরীক্ষায় ইসলামী ছাত্রশিবির-সমর্থিত প্যানেলের দাপুটে ফল এসেছে; ডাকসুতে ভিপি–জিএস–এজিএসসহ মুখ্য পদে জয়, জাকসুতেও জিএস–এজিএসসহ অধিকাংশ পদে তাদের প্রাধান্য। পর্যবেক্ষকদের মতে, এটি তরুণ ভোটারের মনস্তত্ত্ব ও মাঠসংগঠনের ইঙ্গিত বহন করে, যদিও জাতীয় নির্বাচনে সরাসরি কার্যকারণ সম্পর্ক নিশ্চিত নয়।
জামায়াতে ইসলামী’র আমির ডা. শফিকুর রহমান সাম্প্রতিক এক সভায় এসব ফলকে “জাতীয় নির্বাচনের পূর্বাভাস” বলে আখ্যা দিয়েছেন—বলেন, এ জয় আগামী জাতীয় নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে এবং দল ৩০০ আসনে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
তারেক রহমান (বিএনপি): “ঐক্যই বিজয়”—দলীয় শৃঙ্খলা ও ৩১-দফার ভিত্তিতে ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জনরায় আনার আহ্বান; ব্যক্তিস্বার্থের বিরুদ্ধে কঠোর সতর্কতা।
মাহমুদুর রহমান মান্না (নাগরিক ঐক্য): পিআর (PR) পদ্ধতি চালু হলে আওয়ামী লীগ জাপা-র মাধ্যমে প্রত্যাবর্তনের চেষ্টা করতে পারে—এ কারণে PR এখন বাস্তবসম্মত নয় বলে সতর্কতা।
আনিসুল ইসলাম মাহমুদ (জাতীয় পার্টি): সংসদ ছাড়া কোনো সংস্কারের আইনি ভিত্তি নেই; বড় দল বাদ পড়লে ২০২৪-এর মতো একপেশে ভোট হওয়ার ঝুঁকি।
এই বৈপরীত্যপূর্ণ বয়ানগুলোর কেন্দ্রবিন্দু—নির্বাচনী কাঠামো (PR বনাম বর্তমান মেজরিটারি), অন্তর্ভুক্তিমূলক অংশগ্রহণ, এবং প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা।
আইনি ভিত্তি ও ঐকমত্যের রাজনীতি
অন্তর্বর্তী সরকারের যেকোনো সংস্কার সংসদের আইনপ্রণয়ন প্রক্রিয়ায় পরিণত না হলে দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হয় না—এ অভিজ্ঞতা ১৯৯৬ (তত্ত্বাবধায়ক) ও ২০১১ (তার বিলুপ্তি)–এর বিপরীত অভিজ্ঞতায় স্পষ্ট।
অন্তর্ভুক্তিমূলক অংশগ্রহণই টার্নআউটের চালক
২০১৪ ও ২০২৪–এর সংকেত—বড় শক্তি বাদ গেলে অংশগ্রহণ ও গ্রহণযোগ্যতা পড়ে যায়; তাই সব স্টেকহোল্ডারকে মাঠে আনাই আস্থার প্রথম ধাপ।
ক্যাম্পাস ফল ও জাতীয় প্রক্ষেপ
ডাকসু–জাকসুতে শিবির-সমর্থিত বিজয় তরুণ সংগঠনক্ষমতার ইঙ্গিত দেয়; তবে জাতীয় ভোটে সেটি রূপ নিতে হলে জোটসমীকরণ, প্রার্থী-নির্বাচন, ভোটযন্ত্রণা/বিধি, পর্যবেক্ষক প্রবেশাধিকার, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা—সবই নির্ধারক হবে।
৩১-দফা: ন্যারেটিভ-অ্যাডভান্টেজ
বিএনপি যে ৩১ দফা কাঠামোগত সংস্কারের কথা বহু আগে থেকেই বলছে—আজকের বিতর্কে সেটি পলিসি-রেফারেন্স হিসেবে তাদের ন্যারেটিভকে শক্তিশালী করছে; তারেক রহমানের “৯৫% মিল” মন্তব্যে সে বার্তাই কেন্দ্রীভূত।
ফেব্রুয়ারির নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক ঐক্য বনাম বিভাজন, আইনসম্মত সংস্কার বনাম অন্তর্বর্তী পরীক্ষামূলক পদক্ষেপ, এবং ক্যাম্পাসের নতুন বাস্তবতা বনাম জাতীয় জোটসমীকরণ—এই তিন অক্ষই ফল নির্ধারণ করবে। ইতিহাস বলে—যখনই ঐকমত্যভিত্তিক নিয়মকাঠামো ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়েছে, তখনই ভোটে গ্রহণযোগ্যতা বেড়েছে। কাজেই, তারেক রহমানের “ঐক্য-বার্তা”, মান্নার PR-সতর্কতা ও আনিসুল ইসলামের সংসদ-প্রাধান্য—সব মিলিয়ে আইনি ভিত্তি + অন্তর্ভুক্তি + নিরপেক্ষতা—এ ত্রয়ীই আগামীর পথনকশা।
The Business Standard (UNB): “Tarique Rahman urges BNP followers to stand united for election victory” (২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫)।
Reuters: “Bangladesh Nobel laureate Muhammad Yunus takes charge of caretaker government” (৮ আগস্ট ২০২৪)।
The Daily Star: “Shibir sweeps Ducsu polls in historic shift” ও “Shibir bags most of Jucsu posts too” (সেপ্টেম্বর ২০২৫)।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |