| বঙ্গাব্দ

ত্রয়োদশ নির্বাচন ঘিরে এনসিপি–গণঅধিকার পরিষদের একীভূত হওয়ার গুঞ্জন

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 19-09-2025 ইং
  • 3231139 বার পঠিত
ত্রয়োদশ নির্বাচন ঘিরে এনসিপি–গণঅধিকার পরিষদের একীভূত হওয়ার গুঞ্জন
ছবির ক্যাপশন: এনসিপি–গণঅধিকার পরিষদ

ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন ঘিরে তরুণদের দুই দল—এনসিপি ও গণঅধিকার পরিষদের একীভূত হওয়ার গুঞ্জন

প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ

নির্বাচনের আগে জোটের সমীকরণ

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের দলগুলোও ব্যস্ত সমীকরণে। বিশেষ করে তরুণ নেতৃত্বাধীন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)গণঅধিকার পরিষদ ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে একীভূত হওয়ার আলোচনা জোরালো হচ্ছে। যদিও এ নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি, তবু রাজনৈতিক মহলে জল্পনা-কল্পনা অব্যাহত রয়েছে।

একীভূত হওয়ার সম্ভাবনা ও গুঞ্জন

গুঞ্জনের সূত্রপাত ঘটে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অ্যাকশনে আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলে এনসিপির শীর্ষ কয়েক নেতা তাকে দেখতে যান। এরপর থেকেই দু’দলের নেতাদের মধ্যে অনানুষ্ঠানিক কথাবার্তা শুরু হয়।

  • এনসিপি নেতারা বলছেন, বিষয়টি আলোচনা পর্যায়ে রয়েছে।

  • গণঅধিকার পরিষদের কয়েকজন নেতা ইঙ্গিত দিয়েছেন, রাজনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় বিকল্প জোটের পথে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা চলছে।

  • তবে উভয় দলই প্রকাশ্যে এখনো ‘না’ বা ‘হ্যাঁ’ বলেনি।

দুই দলের অবস্থান

এনসিপি:

  • সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন বলেছেন, “একীভূত হওয়ার সম্ভাবনা নেই, তবে যৌক্তিক দাবিতে একসঙ্গে কাজ করা যেতে পারে।”

  • দলটির একাধিক শীর্ষ নেতা স্বীকার করেছেন, অনানুষ্ঠানিকভাবে আলোচনা হচ্ছে, তবে সিদ্ধান্ত হয়নি।

গণঅধিকার পরিষদ:

  • সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান বলেন, “রাজনীতিতে নানা আলোচনা হয়। একীভূত হওয়ার বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বৈঠক হয়নি।”

  • মুখপাত্র ফারুক হাসান ইঙ্গিত দিয়েছেন, “তারুণ্যের শক্তিগুলো এক হওয়ার চেষ্টা করছে। রাজনীতিতে সবকিছুই সম্ভব।”

প্রেক্ষাপট

  • গণঅধিকার পরিষদ : ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে জন্ম নেয়া বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ ২০২১ সালে এই দলে রূপ নেয়। ২০২৪ সালে দলটি নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন পায়।

  • জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) : ২০২৪ সালের কোটা আন্দোলনের পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মীরা এ দল গঠন করে। তবে এখনো নিবন্ধন পায়নি।

  • দু’দলের অনেক নেতার রাজনীতির হাতেখড়ি নুরুল হক নুরের নেতৃত্বেই হয়েছিল। ফলে রাজনৈতিক সূত্রে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা আছে।

রাজনৈতিক তাৎপর্য

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন,

  1. একীভূত হলে প্রভাব – তরুণ ভোটারদের বড় অংশকে আকৃষ্ট করতে পারে, যা মূলধারার দলগুলোর জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।

  2. মৌলিক মতপার্থক্য – কিছু বিষয়ে উভয় দলের মধ্যে ভিন্নমত থাকায় একীভূত হওয়া সহজ হবে না।

  3. নতুন বিকল্প শক্তি – ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে তৃতীয় বা বিকল্প জোট হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে।

  4. নিবন্ধন ইস্যু – গণঅধিকার পরিষদ নিবন্ধিত হলেও এনসিপি এখনো নয়। তাই একীভূত হলে নিবন্ধনের বিষয়টি গুরুত্ব পাবে।

ভবিষ্যৎ দিক

এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন,

“আমরা একটি মধ্যপন্থি রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করতে চাই। যে কেউ মধ্যপন্থি রাজনীতির সঙ্গে একাত্মতা অনুভব করলে আমরা তাকে ইতিবাচকভাবে দেখি।”

এই বক্তব্যে ইঙ্গিত মেলে, নতুন সমীকরণের জন্য দলগুলো নিজেদের অবস্থান খোলা রেখেছে।


বিশ্লেষণ

  • তারুণ্যের রাজনীতি নতুন রূপ নিচ্ছে। কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে গড়ে ওঠা দুই দল একীভূত হলে সেটি ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

  • রাজনৈতিক বাস্তবতা চাপ সৃষ্টি করছে। তরুণ ভোটারদের আকৃষ্ট করা ছাড়া কোনো নতুন দল জাতীয় রাজনীতিতে অবস্থান নিতে পারবে না।

  • অভ্যন্তরীণ মতভেদ বড় বাধা। মৌলিক প্রশ্নে একমত না হলে ঐক্য গড়ে তোলা দীর্ঘমেয়াদে টিকবে না।


সূত্র

  1. যুগান্তর পত্রিকা, রাজনৈতিক প্রতিবেদন (২০২৫)

  2. বাংলাদেশ প্রতিদিন আর্কাইভ (কোটা আন্দোলন ও নতুন দল গঠন)

  3. উইকিপিডিয়া: Bangladesh quota reform movement (2018–2024)

    প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
    আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency