ঢাকা ওয়াসার প্রকৌশলী গাজী আসরিবের ঠিকাদারি ব্যবসা: শ্যালকদের নামে অব্যাহত ব্যবসা, সরকারি আচরণবিধির লঙ্ঘন
প্রতিবেদক:
বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঢাকা ওয়াসার পদ্মা ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের নির্বাহী প্রকৌশলী গাজী আসরিব বিন সালাম সরকারি চাকরির পাশাপাশি ঠিকাদারি ব্যবসা শুরু করেছেন। তিনি সরাসরি নিজের নাম ব্যবহার না করে, তার দুই শ্যালকের নামে এই ব্যবসা পরিচালনা করছেন। গত ২০২০-২১ থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছর পর্যন্ত, এই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলি ঢাকা ওয়াসা এবং পদ্মা ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের বিভিন্ন কাজ করেছে, এবং বিল উত্তোলনের প্রমাণপত্রও পাওয়া গেছে।
ঠিকাদারি ব্যবসার স্বত্বাধিকারী:
গাজী আসরিবের শ্যালক মাহমুদুল হাসান, এম এইচ কনসালটেন্ট অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্সের স্বত্বাধিকারী, এবং মো. মোয়াল্লেম হোসেন, ওসমান ট্রেডিং করপোরেশনের স্বত্বাধিকারী। এই দুই প্রতিষ্ঠান ২০২০-২১ থেকে ২০২৪-২৫ সালের মধ্যে ঢাকা ওয়াসায় কাজ করেছে।
এই ব্যবসাটি ঢাকা ওয়াসার ‘ওপেন সিক্রেট’ হিসেবে পরিচিত। যদিও গাজী আসরিব এর জন্য কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি, তবে বিষয়টি ধামাচাপা থাকলেও, এ বিষয়ে সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। গাজী আসরিব আওয়ামী লীগ পরিবারের সদস্য হিসেবে পরিচিত এবং ছাত্রজীবনে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তাই তিনি প্রশাসনিক দাপট ব্যবহার করে এই ধরনের কর্মকাণ্ড অব্যাহত রেখেছিলেন।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম:
এম এইচ কনসালটেন্ট অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স: প্রথম শ্রেণির ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যা যাত্রাবাড়ী, ঢাকা থেকে ব্যবসা পরিচালনা করছে।
ওসমান ট্রেডিং করপোরেশন: প্রথম শ্রেণির ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান, কল্যাণপুর, মিরপুর, ঢাকা থেকে কার্যক্রম চালাচ্ছে।
অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রতিক্রিয়া:
এম এইচ কনসালটেন্ট অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্সের স্বত্বাধিকারী মাহমুদুল হাসান বলেছেন, গাজী আসরিবের সঙ্গে তার কোনো সরাসরি সম্পর্ক নেই, তবে তিনি এই ব্যবসাকে প্রথমে গ্রহণ করেছিলেন এবং পরে সমালোচনার কারণে তিনি কাজ করা বন্ধ করেছেন। একইভাবে, তার ভাই মোয়াল্লেম হোসেনও বর্তমানে কোনো কাজ করছেন না।
পদ্মা ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের নির্বাহী প্রকৌশলী গাজী আসরিব এ বিষয়ে সাক্ষাৎকারে বলেন, “ঘটনা সত্য। তবে এটা কয়েকবার আমি না বুঝে করেছি। বোঝার পর আর কখনো করিনি।”
প্রতিবাদ এবং আইনগত ব্যবস্থা:
ঢাকা ওয়াসার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মির্জা গোলাম কিবরিয়া মন্তব্য করেছেন, “সরকারি চাকরিজীবী হয়ে কেউ আচরণবিধি ভাঙলে তার শাস্তি যা আছে, সেটা পাবে। কোনো প্রকৌশলী কোনো অপরাধ করলে তার শাস্তি তাকে পেতে হবে। কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নন।”
পদক্ষেপ ও প্রশ্ন:
এ ঘটনায় গাজী আসরিবের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে, যেহেতু সরকারি চাকরি ও ঠিকাদারি ব্যবসা একসাথে চলা সরকারি আচরণবিধির লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হয়। এই ধরনের কার্যক্রম বাংলাদেশের সরকারি চাকরি ব্যবস্থার জন্য একটি বড় প্রশ্ন তুলছে এবং আগামীতে সরকারের প্রতি বাড়তি সতর্কতা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
সূত্র:
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |