আওয়ামী লীগ আমলে ‘আয়নাঘর’ ও গুম–খুনের ভয়াবহ চিত্র প্রকাশ পেল গুম কমিশনের প্রাথমিক প্রতিবেদনে
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের অন্যতম আলোচিত উদ্যোগ ছিল গুম তদন্ত কমিশন। এই কমিশনের প্রাথমিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এক ভয়াবহ পরিসংখ্যান—২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত গুমের অভিযোগ ১,৮৩৭টি। এর মধ্যে ১,৭৭২টি অভিযোগ যাচাই করে দেখা গেছে, গুম হওয়া ব্যক্তিদের ১,৪২৭ জন ফিরে এলেও ৩৪৫ জন এখনো নিখোঁজ। ধারণা করা হচ্ছে, এ নিখোঁজদের অনেকেই আর বেঁচে নেই।
কমিশনের অনুসন্ধানে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে কুখ্যাত ‘আয়নাঘর’—একটি গোপন নির্যাতন কেন্দ্র, যেখানে বিরুদ্ধ মত দমনে রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে ব্যবহার করা হতো। এর উদ্ভাবক হিসেবে নাম এসেছে সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও শেখ হাসিনার সামরিক উপদেষ্টা তারিক সিদ্দিকের। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিরোধী রাজনৈতিক নেতা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারের সমালোচক, এমনকি ব্যক্তিগত বিরোধ বা ব্যবসায়িক স্বার্থে বাধা দেওয়া ব্যক্তিদেরও এখানে আটক, নির্যাতন বা হত্যা করা হতো।
আয়নাঘরের ব্যবহার ছিল বহুমাত্রিক:
রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ নির্মূল: বিএনপি, জামায়াতে ইসলামি, ইসলামী ছাত্রশিবিরসহ বিভিন্ন দলের নেতাকর্মী ছিলেন প্রধান লক্ষ্যবস্তু।
দুর্নীতি ঢাল: তারিক সিদ্দিকের ব্যক্তিগত অনিয়ম, লুটপাট ও জমি দখল কার্যক্রমে প্রতিবাদকারীদের দমন।
চাঁদাবাজি ও ব্যবসায়িক স্বার্থ রক্ষা: মোটা অঙ্কের টাকা দাবি; অস্বীকৃতিতে বন্দি রাখা ও হুমকি।
ব্যক্তিগত আক্রোশ: সেনা কর্মকর্তা ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত শত্রুতা মেটানো।
প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে, ইলিয়াস আলীসহ একাধিক জনপ্রিয় রাজনৈতিক নেতার নিখোঁজ হওয়ার পেছনে এই ‘আয়নাঘর’ ব্যবহৃত হয়েছে। র্যাবের মাধ্যমে ‘ক্রসফায়ার’ও তারিক সিদ্দিক রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত উদ্দেশ্যে প্রয়োগ করেছেন বলে কমিশনের দাবি।
গাজীপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় শেখ হাসিনার পরিবারের সদস্যদের নামে যে বিপুল জমি কেনা হয়েছে, তার অনেকটাই নাকি আয়নাঘরে বন্দি রেখে মালিকদের স্বাক্ষর করিয়ে দখল করা হয়েছে। এমনকি শেখ রেহানা ও টিউলিপ সিদ্দিকের নামেও বাগানবাড়ি স্থাপন করা হয়েছে দখলকৃত জমিতে।
জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের সাম্প্রতিক রিপোর্টেও ‘আয়নাঘর’-এর ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। ড. মুহাম্মদ ইউনূস স্বয়ং এই কেন্দ্র পরিদর্শন করে নির্যাতনের বাস্তবতা সম্পর্কে অবগত হয়েছেন।
গুম কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ পেলে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত এসব গুম–খুন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের পূর্ণাঙ্গ চিত্র আরও স্পষ্ট হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |